লালদীঘির ২৪ হত্যা

৩১ বছর পর শেষ হলো সাক্ষ্যগ্রহণ

চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার জনসভার আগে গুলি চালিয়ে ২৪ জনকে হত্যার মামলায় ৩১ বছর পর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রামের বিশেষ জজের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা জেলা ও দায়রা জজ ইসমাইল হোসেনের আদালতে এ মামলার ৫৩তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন আইনজীবী শম্ভুনাথ নন্দী। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্তের আবেদনে সম্মত হয় আদালত।

বিশেষ জজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘মামলাটির কার্যক্রম চলছে দীর্ঘদিন ধরেই। মঙ্গলবার অ্যাডভোকেট শম্ভুনাথ নন্দী প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন। আরও সাক্ষী ছিলেন কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের সাক্ষ্য হয়ে যাওয়ায় আর সাক্ষী নিতে চাইনি। আদালত তাতে সায় দিয়েছে। আশা করি দ্রুত রায় ঘোষণা করা হবে।’

সাক্ষ্যে শম্ভুনাথ নন্দী আদালতকে বলেন, ‘ঘটনার দিন সে সময়ের বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা আসছেন শুনে বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনের সামনে দাঁড়িয়েছিলাম। শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রাক যখন এগিয়ে আসছিল। তখন ওয়্যারলেস সেটে তৎকালীন সিএমপির কমিশনার মির্জা রকিবুল হুদার নির্দেশে পুলিশ ট্রাক লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। এতে ২৪ জন মারা যায়।’

এরশাদের শাসনামলে ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি বন্দরনগরীর লালদীঘি মাঠে আওয়ামী লীগের জনসভা ছিল। ওইদিন দুপুর ১টার দিকে শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রাকটি আদালত ভবনের দিকে আসার সময় গুলিবর্ষণ শুরু হয়। এই মামলার সাক্ষীরা আদালতে বলেছেন, ওইদিন পুলিশের গুলিতে ২৪ জন মারা যান। গুলিবর্ষণের পর আইনজীবীরা মানববেষ্টনী তৈরির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সভাপতিকে রক্ষা করে আইনজীবী সমিতি ভবনে নিয়ে গিয়েছিলেন। গুলিতে নিহতদের কারও লাশ পরিবারকে নিতে দেয়নি তৎকালীন সরকার। হিন্দু-মুসলিম নির্বিচারে সবাইকে বলুয়ার দীঘি শ্মশানে পুড়িয়ে ফেলা হয়।

১৯৯২ সালের ৫ মার্চ এ মামলাটি করেন আইনজীবী মো. শহীদুল হুদা। কিন্তু বিএনপি সরকারের সময় এ মামলার কার্যক্রম থমকে ছিল। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর মামলাটি পুনরুজ্জীবিত হলে আদালতের আদেশে সিআইডি মামলাটি তদন্ত করে। ১৯৯৭ সালের ১২ জানুয়ারি প্রথম ও অধিকতর তদন্ত শেষে ১৯৯৮ সালের ৩ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় সিআইডির দেওয়া অভিযোগপত্রে আসামি করা হয় আট পুলিশ সদস্যকে।

আট আসামি হলেন চট্টগ্রামের তৎকালীন পুলিশ কমিশনার মির্জা রকিবুল হুদা, কোতোয়ালি অঞ্চলের প্যাট্রোল ইনসপেক্টর জে সি মণ্ডল, কনস্টেবল আবদুস সালাম, মুশফিকুর রহমান, প্রদীপ বড়ুয়া, বশির উদ্দিন, মো. আবদুল্লাহ ও মমতাজ উদ্দিন। তাদের মধ্যে রকিবুল হুদা, বশির উদ্দিন ও আবদুস সালাম মারা গেছেন। জে সি মণ্ডল পলাতক এবং বাকি চারজন আদালতে নিয়মিত হাজিরা দেন। মামলার বাদী মো. শহীদুল হুদা ও সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা এএসপি আবদুল কাদেরও মারা গেছেন।