শরিয়ত বয়াতির মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন

শরিয়ত বয়াতির বিরুদ্ধে দায়ের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলা প্রত্যাহার ও তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন সংস্কৃতিকর্মীরা। গতকাল মঙ্গলবার সকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সামনে মানববন্ধন করেন ঢাকা থিয়েটার, বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।

এদিকে শরিয়ত বয়াতিকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছে  টাঙ্গাইলের আদালত। গতকাল মঙ্গলবার আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মির্জাপুর থানার ওসি সায়েদুল ইসলাম।

মানববন্ধনে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফ বলেন, ‘আমরা সরকারের কাছে শিল্পীর স্বাধীনতা ও নিরাপদ জীবনের দাবি জানাই।’ মানববন্ধনে বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক তৌফিক হাসান ময়না, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রশীদ হারুন প্রমুখ অংশ নেন।

এদিন বিকেলে ঢাকার জাতীয় নাট্যশালার সামনে মুখে কালো কাপড় বেঁধে মানববন্ধন করেছে নাট্য সংগঠন বাতিঘর। ‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়’, ‘বাঙালি সংস্কৃতির উপর মৌলবাদী আক্রোশ রুখে দাঁড়াও’ স্লোগান সংবলিত ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে প্রতিবাদ জানান নাট্যশিল্পীরা। এ সময় শেকল পরানো অবস্থায় প্রতীকীভাবে ‘একতারা’ ও ‘দোতারা’ রাখা হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়ার পর তাড়ুয়া নাট্যদলের আর্টিস্টিক ডিরেক্টর বাকার বকুল বলেন, ‘ধর্মের নামে সাধারণ মানুষকে ভুল বোঝানো এবং ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে সংস্কৃতির ওপর আক্রমণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।’ এদিকে আজ বুধবার বিকেল ৪টায় শাহবাগ চত্বরে শরিয়ত বয়াতির গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বাউল গানের আয়োজন করেছে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।

৩ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে শরিয়ত বয়াতি : গতকাল রিমান্ডের শেষ দিন শরিয়ত বয়াতিকে দেখতে মির্জাপুর থানায় আসেন তার মা ছালেহা ও ভাই মারফত সরকার। এ সময় অনেক বাউলশিল্পী ও গ্রামের লোকজনও দেখা গেছে। তার মা বলেন, ‘আমার ছেলে না হয় একটু ভুল করছে। আমি তার মুক্তি চাই।’ ভাই মারফত বলেন, ‘আমার ভাই একজন মাটির মানুষ। তিনি ধর্মপ্রাণ মুসলমান। নবী-রাসুল এবং ধর্ম সম্পর্কে তিনি আপত্তিকর কথা বলতে পারেন না।’

বাউলশিল্পী বাবলি দেওয়ান বলেন, ‘মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। হয়তোবা শরিয়ত সরকারের বেলায় তাই হতে পারে। পালা গান গাইতে গিয়ে বিভিন্ন যুক্তিতর্ক করতে হয়। তখন কোনো ভুল হতে পারে।’ আরেক বাউল শিল্পী কাজল দেওয়ান বলেন, ‘কথা বলতে গেলে কোনো না কোনো ভুল হতে পারে। শরিয়ত বয়াতির ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। তার বক্তব্যে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে, তা দুঃখজনক।’ এ সময় তিনি দেশের বাউলশিল্পীদের পক্ষ থেকে মুসল্লিদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করেন।

গত ৯ জানুয়ারি উপজেলার আগধল্যা গ্রামের মাওলানা মো. ফরিদুল ইসলামের করা ধর্মীয় নিরাপত্তা আইন ২০১৮ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় পরদিন রাতে (১০ জানুয়ারি) ময়মনসিংহের ভালুকা সিডস্টোর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় একই গ্রামের মৃত পবন সরকারের ছেলে শরিয়ত বয়াতিকে।

মামলায় বলা হয়, গত ২৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকার ধামরাই উপজেলার রৌহাট্টেক এলাকায় অবস্থিত হযরত হেলাল শাহ পীরের দশম বার্ষিক পালা গানের অনুষ্ঠানে শরিয়ত বয়াতি ইসলাম ধর্ম ও নবী-রাসুলকে নিয়ে শরিয়তবিরোধী ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে গান করেন।

ওসি সায়েদুল বলেন, ‘শরিয়ত বয়াতি আপত্তিকর বক্তব্যের জন্য অনুতপ্ত। তিনি ভুল স্বীকার করেছেন। তিন দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’