উন্নয়নের স্বার্থে শেয়ারবাজার বাঁচানো প্রয়োজন

দেশের পুঁজিবাজারে আবার বড় রকম ধস শুরু হয়েছে। ঢাকা স্টক একচেঞ্জের প্রধান সূচক বিগত এক বছরে ৬,০০০ পয়েন্টের কাছ থেকে এখন ৪,০০০ পয়েন্টে নেমে গেছে; সাম্প্রতিক সময়ে এটা অতি দ্রুত নামছে। ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে এটি শুরু হয়েছিল ৪,০৫৬ পয়েন্ট নিয়ে, গত ১৫ তারিখে এটি নেমে যায় ৪,০৩৬ পয়েন্টে। এটা ঘটেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ফিনান্সিয়াল টাইমস গ্রুপের মাসিক ম্যাগাজিন ‘দি ব্যাংকার’ এর ‘ফাইনান্স মিনিস্টার অব দি ইয়ার ফর এশিয়া-প্যাসিফিক অ্যান্ড গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ড ২০২০’ খেতাবে ভূষিত বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্থমন্ত্রী জনাব আ হ ম মুস্তফা কামালের আমলে। বিষয়টা কেমন বেখাপ্পা লাগে না? বিষয়টি আরও বেখাপ্পা লাগে আমাদের দেশের কিছু অর্থনীতিবিদের কথা ও মন্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে। তারা বলছেন, এই মুহূর্তে রেমিট্যান্স ছাড়া অর্থনীতির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক, বিশেষ করে রপ্তানি, মূলধনী মালামালের আমদানি, রাজস্ব আদায়, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ প্রভৃতি ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি শুরু হয়ে গেছে। এগুলো এখনই সামাল দিতে না পারলে আমাদের লক্ষ্য অনুযায়ী উন্নয়নের পর্যায়ে পৌঁছতে সমর্থ হব না। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বৈশ্বিক যত সংস্থা গবেষণা করে, তারা বলছে সম্পূর্ণ উল্টো কথা।

Forbes-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী ২০২০ সালে এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হবে বাংলাদেশে। বিশ্বব্যাংক আগাগোড়াই বাংলাদেশ সম্পর্কে সংরক্ষণশীল হিসাব দিয়ে থাকে। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ীও চলতি অর্থবছরে দেশে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ২ শতাংশ; আগামী ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ সালে তা হবে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ করে। যুক্তরাজ্য ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান Centre for Economics and Business Research (Cebr) থেকে বাংলাদেশ সম্পর্কে যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, তাতে প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা মন্থর দেখালেও অগ্রগতির ধারা দেখানো হয়েছে অবিচল; ২০২০ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত গড়ে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। তারা যে World Economic League Table  ২০২০ প্রণয়ন করেছেন, তাতে দেখানো হয়েছে যে, বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০২৯ ও ২০৩৪ সালে বিশ্বে যথাক্রমে ২৬তম ও ২৫তম স্থান দখল করবে। শুধু তাই না, ২০২৪ সালের মধ্যেই বিশ্বের ৩০তম বৃহৎ অর্থনীতির আকার নিয়ে বাংলাদেশ মালয়েশিয়া, হংকং ও সিংগাপুরকে অতিক্রম করবে। আমাদের পরিকল্পনা কমিশনের প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন আরও বেশি; এ বছর ৮ দশমিক ২ শতাংশ, আর সামনের বছরগুলোতে আরও বেশি। এগুলো সব খুবই আশা জাগানিয়া তথ্য, আশায় বুক ভরে ওঠে যদি আমরা স্বপ্নের জায়গায় যেতে পারি!

অর্থনীতির এই সব প্রাক্কলন ও পূর্বাভাস যে সব সময় সত্যে পর্যবসিত হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এর বড় প্রমাণ হলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি; যাকে এক সময় তলাবিহীন ঝুড়ি আখ্যা দেওয়া হয়েছিল, তার এখন কেমন ফলভর্তি ঝুড়িতে রূপান্তর ঘটল, সে ব্যাখ্যা দিতে অনেক বোদ্ধার এখন অনেক কাঠখড় পোড়াতে হচ্ছে। কারণ, এইসব পূর্বাভাস থাকে সংশ্লিষ্ট অনেক শর্তের অধীন; অর্থাৎ অন্য সব কিছু একই রূপ থাকলে পূর্বাভাস বাস্তবে ফলবে, অন্যথায় তা আংশিক ফলতে পারে বা আদৌ না ফলতে পারে। আবার অনেক সময় তা মিত্রপক্ষের গুলি হিসেবেও আবির্ভূত হতে পারে। পাকিস্তান আমলে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে ২০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষম যে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়, যার জন্য আজও আমাদের খরচ গুনতে হচ্ছে, লাভক্ষতির বিচারে ওটাকে কেউ মিত্রপক্ষের গুলি বলে আখ্যা দিলে তাকে দোষ দেওয়া যাবে না। কাজেই এদেশ সম্পর্কে এখন বিদেশিরা যত স্তুতিবাক্য আওড়ান না কেন, সেগুলো শুধুই সম্ভাবনা বৈ অন্য কিছু নয়। এইসব সম্ভাবনার সম্ভার নিয়ে এই মুহূর্তে আত্মপ্রসাদ লাভ করার কোনো সুযোগ নেই। যা করতে হবে, তা হলো উপযুক্ত পরিকল্পনা, সঠিক নেতৃত্ব, প্রশ্নহীন আন্তরিকতা, দ্ব্যর্থহীন দেশপ্রেম ও কঠোর পরিশ্রম দিয়ে সেই সব সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া এবং এ কাজটি করতে হবে অতি দ্রুত; আগামী ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে, দেশে জনমিতিক সুবিধা থাকতে থাকতেই। অন্যথায় উন্নয়নের রেলগাড়ি আমাদের না নিয়েই সামনে ছুটে দৌড় দিতে পারে।

দেশের উন্নতির জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে অনেক কাজ ও সংস্কার প্রয়োজন হবে। এর জন্য মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কিন্তু স্বল্প মেয়াদে এই মুহূর্তে যেটা খুবই জরুরি, তা হলো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, নতুন নতুন কর্ম সৃজন করা। প্রবৃদ্ধির উচ্চমাত্রা অর্জন সত্ত্বেও আমরা যে সুষম উন্নয়নে সমর্থ হচ্ছি না, তার বড় প্রমাণ দ্রুতগতিতে বৈষম্যের প্রবৃদ্ধি। পর্যাপ্ত কর্মসৃজন ও বণ্টন ব্যবস্থার সংস্কারের মাধ্যমে সেটা করা সম্ভব। কিন্তু বেসরকারি বিনিয়োগে যে স্থবিরতা ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তাতে পরিস্থিতি আদৌ উৎসাহব্যঞ্জক মনে হচ্ছে না। অনেকেই ব্যাংকের সুদের উচ্চহারকে বেসরকারি বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান অন্তরায় মনে করেন, আরও মনে করেন পর্বতসম অকার্যকর ঋণের অন্যতম কারণ হিসেবে। এ হারকে যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা দরকার; এ জন্য সরকার, ব্যাংকার ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দেন-দরবার চলে আসছিল। দরকষাকষিতে সরকার কিছু ছাড় দিলেও বিনিময়ে ব্যাংকাররা তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেননি। ফলে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী ব্যাংকারদের সঙ্গে এক বৈঠকে শুধু ক্রেডিট কার্ডের ঋণ ছাড়া সব সেক্টরে দেয় ঋণ ও আমানতের জন্য সুদের হার নয়-ছয় করতে হুকুম জারি করেছেন। ব্যাংকারদের সেখানে তেমন কোনো কথা বলতে শোনা যায়নি; কাকুতি-মিনতি করে বাস্তবায়ন শুরুর তারিখ এপ্রিল ফুলে নিতে সমর্থ হয়েছেন মাত্র। তবে বাস্তবায়ন যখনই শুরু হোক না কেন, নয়-ছয়ের এই ব্যবস্থাপত্র কতটুকু ফল দেবে, সে সম্পর্কে অনেকেই সন্দিহান।

দেশে গড় মুদ্রাস্ফীতির হার ৬ শতাংশের নিচে নয়; অনেক ক্ষেত্রে কিছু ওপরে। এই প্রেক্ষাপটে এই সুদে ব্যাংকে আমানত রাখলে আমানতকারীর আসলে যে হাত পুড়বে তা অবধারিত; সুদের ওপর ধার্য কর ও শুল্ক, হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ও অন্যান্য কর্তন বাদ দিলে লাভ তো দূরের কথা, আসল কমতে শুরু করবে। তখন আমানতকারীরা ‘ভিক্ষা চাই না, কুত্তা সামলাও’ অবস্থায় পড়ে ব্যাংকের ধারেকাছেও যেতে চাইবেন না। ইতিমধ্যে ব্যাংকের লেনদেন ক্রমে কমতে শুরু করার প্রতিবেদন পত্রপত্রিকায় বেরিয়েছে। তাতে ব্যাংকের তারল্য সংকট আরও প্রকটতর হবে; ব্যাংক নতুন করে বিনিয়োগ করবে কোত্থেকে? এ অবস্থায় আরও কিছু ব্যাংক ও নন-বাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘পিপলস লিজিং’-এর রাস্তা ধরতে পারে।

আসলে ব্যাংক-ঋণে কর্ম-সৃজনশীল দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ধারণাটিই এ জাতীয় প্রতিষ্ঠানের প্রকৃতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। কারণ, ব্যাংক আমানত সংগ্রহ করে স্বল্প ও মধ্যম মেয়াদের জন্য, যার মেয়াদ ছয় মাস থেকে তিন বছরের বেশি নয়; এর একটা অংশ আবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখতে হয়। এখন এই অর্থ যদি আট দশ বছর মেয়াদি কোনো প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে হয়, তবে ব্যাংক তার দৈনন্দিন কাজকর্ম পরিচালনা ও মেয়াদ অন্তে আমানতকারীদের সুদাসল পরিশোধ করবে কীভাবে? এর মধ্যে বিনিয়োগের একটা অংশ যদি অকার্যকর ঋণে (NPL) রূপান্তরিত হয়, তখন ব্যাংকের তারল্য সংকট হয় অবধারিত। আমাদের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে এই ত্রিশঙ্কু অবস্থার মধ্য দিয়েই কালাতিপাত করছে।

তাহলে কর্মসৃজনশীল দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে বিনিয়োগ আসবে কোত্থেকে? প্রকৃত প্রস্তাবে পুঁজিবাজারই হলো দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের টেকসই উৎসস্থল। অগণিত মানুষের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের সমাবেশ ঘটানোর ক্ষেত্র তৈরি করে পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সহজ ও সুলভ করে ফেলে। এখানে দায় সীমিত, কিন্তু সম্ভাবনা অপার; মানুষ ব্যক্তিগত কর দিতে কুণ্ঠাবোধ করলেও কিছুটা ঝুঁকি নিয়ে সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয়; সেখানে প্রযোজ্য উচ্চহারের করপোরেট ট্যাক্স পরিশোধে তার কোনো মাথাব্যথা নেই। তাছাড়া, পুঁজিবাজার ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের বৃহৎ শিল্প-প্রতিষ্ঠানে অংশীদারত্বের বোধ সৃষ্টি করে, সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও আয়-বৈষম্য রোধে পরোক্ষ ভূমিকা রাখে। ব্যাংক এসব শিল্পকারখানায় স্বল্প মেয়াদে চলতি মূলধন সরবরাহ করতে পারে মাত্র।

আমাদের অর্থমন্ত্রী হয়তো ভেবেছেন যে, সুদ কমিয়ে দিলে একাধারে ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের খরচ কমে যাবে এবং বেশ কিছু অর্থ পুঁজিবাজারে ধাবিত হবে। তার এই ধারণা একদিক থেকে অমূলক নয়; কিন্তু তারল্য সংকটে পড়লে ব্যাংক তখন টাকা বের করবে কোত্থেকে? আর দীর্ঘদিনের অযতœ ও অবহেলায় পুঁজিবাজারকে বানানো হয়েছে পাক্কা বেলতলা; শুধু নেড়ে ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীরা যে সেখানে আর যাবেন না, তাই না; মাথা ভর্তি চুলওয়ালারাও ডুবন্ত জাহাজ থেকে পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার মতো তাদের শক্ত মৌলভিত্তির শেয়ার অনেকটা পানির দামে বেঁচে দিয়ে সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করছেন। বিদেশিরাও ক্রমে তাদের হাত গুটিয়ে নিচ্ছেন। যে পুঁজিবাজার হওয়ার কথা উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি, তার এই রূপ বিরানভূমিতে পরিণত হওয়ার কারণ কী? সবাই জানেন যে, এর কারণ সংশ্লিষ্ট কোম্পানি, বিএসইসি (BSEC) ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা এবং তাদের অসচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব। আস্থার পরিবেশে মানুষ নির্দ্বিধায় যেমন কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে থাকে, আস্থাহীনতায় করে ঠিক তার উল্টোটা।

ঢাকা স্টক একচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (MD) নেই, বর্তমানে ডিএসই-তে যাকে এমডি হিসেবে নিয়োগের পাঁয়তারা চলছে, তার সম্পর্কে বিতর্কের শেষ নেই। ফিনান্সিয়াল রিপোর্টং কাউন্সিল কোনো কাজ করছে না। বর্তমান সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ২০১১ সাল থেকে তার কার্যকালে যতগুলো প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (IPO) নিয়ে এসেছে, তার অনেকগুলোই ছিল অত্যন্ত দুর্বল মৌল ভিত্তির; সেখানে একই পরিবারের মালিকানাধীন একাধিক দুর্বল কোম্পানিকে একের পর এক বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে; এগুলো এখন ফেইসভ্যালুর নিচে কেনা-বেচা হচ্ছে। এই কমিশন বহু আইনকানুন প্রবর্তন করেছে, কিন্তু সেগুলো বাস্তবায়নে থোড়াই কেয়ার করেছে। উদ্যোক্তা-পরিচালকদের এককভাবে ২% এবং যৌথভাবে ৩০% শেয়ার ধারণ করার বাধ্যবাধকতার যে শর্ত প্রবর্তন করা হয়, তা লঙ্ঘিত হলে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তাদের শেয়ার বিক্রির আগাম ঘোষণা দেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও দান-করা শেয়ারের বেলায় তা প্রযোজ্য করা হয়নি। বাজারের কারসাজি রোধে অত্যাধুনিক সফটওয়্যার স্থাপন করেও তেমন কোনো দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি; দুই একটি ক্ষেত্রে যা করা হয়েছে, তা গরু মেরে জুতা দানের সঙ্গে তুল্য। অজানা কারণে বিনিয়োগকারীদের হতাশ করে মিউচুয়াল ফান্ডের মেয়াদ বাড়িয়ে দশ বছরের স্থলে বিশ করা হয়েছে। পুঁজিবাজারে স্থায়ী কোনো মঙ্গল সাধন করতে না পারলেও আইন ডিঙিয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান তার অপরিহার্যতা তৃতীয় মেয়াদ পর্যন্ত স্থায়ী করতে সমর্থ হয়েছেন; তবে সেদিন তাকে অসহায়ের মতো বলতে শুনলাম যে, একশ্রেণির কুশীলব সংঘবদ্ধভাবে বাজারে ধস নামাচ্ছেন। তিনি কার কাছে এসব অভিযোগ করছেন? লোকজন তো এতদিন তার কাছেই এই সব অভিযোগ করেছেন, তিনিই তো এখানে দণ্ডমুণ্ডের কর্তা। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে যে এখানে এখন আর কোনো অভিভাবক নেই, দেশে কোনো যোগ্য ও শক্ত লোক নেই; প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা ছাড়া এর আর কোনো দাওয়াই নেই!

অথচ উন্নয়নের এই পর্যায়ে পুঁজিবাজারই হতে পারে অর্থায়নের নিরন্তর উৎস। এখন সাধারণ মানুষের আয় বেড়েছে, সরকারি কর্মচারীদের গ্র্যাচুইটি ও পেনশন বেড়েছে, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু সুশাসন, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত, দৃশ্যমান ও নির্বিঘ্ন করা গেলে আস্থার পরিবেশ আবার ফিরে আসবে এবং সবার কাছে থাকা সঞ্চয়, এমনকি বিদেশ থেকেও পোর্টফোলিও বিনিয়োগ ধীরে ধীরে পুঁজিবাজারে চলে আসবে। তখন বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থের জন্য আর হাহাকার করতে হবে না। এ ক্ষেত্রে একটি কাজের জন্য অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ না দিয়ে পারছি না; বিগত ২ জানুয়ারি পুঁজিবাজারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তিনি এক সভায় মিলিত হন। সেখানে তাদের দাবি অনুযায়ী দশ হাজার কোটি টাকা তাদের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে সরবরাহের কোনো প্রতিশ্রুতি তিনি দেননি। আসলে কোনো কৃত্রিম পন্থায় পুঁজিবাজারকে বাঁচানো ঠিক হবে না; তাকে বাঁচতে হবে তার নিজস্ব শক্তিতে। সুশাসন নিশ্চিত করা হলে, বাজার ক্রমে নিজস্ব বলে বলীয়ান হয়ে উঠবে; তখন আর দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য ব্যাংকের কাছে ধরনা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। শেয়ারবাজারে সুশাসন নিশ্চিত করা ছাড়া সরকারের আর কোনো কাজ নেই। অর্থমন্ত্রী একাধিকবার এই কথাটি বলেছেন। এবার তার এটা নিশ্চিত করার পালা। নিজে না পারলে মন্ত্রীকে বলব প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য নিতে।

লেখক

খাদ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক

rulhanpasha@gmail. com