ধারাবাহিকভাবে বড় দরপতনের পর অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক সরকারি ব্যাংকগুলোকে বিনিয়োগের নির্দেশনা দেওয়ার প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারে। গতকাল লেনদেন শুরুর আধঘণ্টায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক আগের দিনের তুলনায় ৮৩ পয়েন্ট বেড়ে যায়। তবে বেলা ১২টার পর থেকে শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউজগুলো থেকে আসা বিক্রিচাপের কারণে পুঁজিবাজারের উল্লম্ফন ধারা টিকেনি। যদিও শেষ পর্যন্ত সূচকে বাড়তি পয়েন্ট যোগ করে গতকালের লেনদেন শেষ হয়েছে।
গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রায় ৬০ শতাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে প্রধান মূল্যসূচকটি প্রায় ৩২ পয়েন্ট বেড়েছে। এতে সূচকটি দাঁড়িয়েছে ৪০৬৪ পয়েন্টে। যদিও বেলা ১১টায় এ সূচকটি ৪১১৯ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছিল। গতকাল শেষ পর্যন্ত সূচক বাড়লেও স্টক এক্সচেঞ্জটিতে কেনাবেচা কমে গেছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গতকাল লেনদেন শুরুর আধঘণ্টা পর্যন্ত শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউজগুলো শেয়ার বিক্রি থেকে নিজেদের বিরত রাখে। এ সময় সরকারি দুটি ব্যাংকসহ মধ্যম শ্রেণির ব্রোকারেজ হাউজগুলো থেকে শেয়ারের ক্রয়াদেশ আসে। ফলে মাত্র আধঘণ্টায় লেনদেন হওয়া ২৬৫টি শেয়ারের মধ্যে ২৫০টির দর বাড়তে দেখা যায়। এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচকটি বেড়ে যায় ৮৩ পয়েন্ট। এরপর কিছুটা বিক্রিচাপ বাড়লেও সরকারি প্রতিষ্ঠান অগ্রণী ব্যাংক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডের তৎপরতায় বেলা ১২টা পর্যন্ত সূচকের উল্লম্ফন ধারা অব্যাহত ছিল। তবে লেনদেনের দ্বিতীয়ার্ধে শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউজগুলো থেকে বিক্রিচাপ বাড়তে থাকায় উল্লম্ফনে থাকা সূচকে নিম্নমুখী ধারা তৈরি হয়। এ সময় সূচক পতনের শঙ্কা তৈরি হলেও নানামুখী তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত বাড়তি পয়েন্ট যোগ করে দিনের লেনদেন শেষ হয়।
পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকালের বিক্রিচাপে শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউজগুলোকে আইসিবিও অনুসরণ করেছে। যদিও গত কয়েক দিন দরপতনের সময় রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবি কিছু শেয়ার ক্রয়ের মাধ্যমে বাজারকে সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছে। তবে গতকাল সূচকের ঊর্ধ্বমুখী ধারার সুযোগ নিয়ে আইসিবি প্রায় ৯ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে। দিনশেষে প্রতিষ্ঠানটির নিট বিক্রি ছিল প্রায় ৩ কোটি টাকা। এছাড়া অন্যান্য দিনের মতো শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউজগুলোর মধ্যে লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ, আইডিএলসি সিকিউরিটিজ, ইউসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট, ইউনাইটেড ফিনান্সিয়াল ট্রেডিং ও ব্র্যাক ইপিএল থেকে শেয়ার বিক্রির চাপ ছিল। বিপরীতে সিটি ব্রোকারেজকে নিট ক্রয়ে থাকতে দেখা গেছে।
চলতি সপ্তাহের চার কার্যদিবসের মধ্যে দুই দিন বড় দরপতন হয়। বিদেশি ও মার্জিন ঋণে কেনা শেয়ারের বিক্রিচাপে চলতি বছরের মাত্র ১১ কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচকটি সাড়ে ৮ শতাংশের বেশি পয়েন্ট হারিয়েছে। ২০১৮ ও ১৯ সালেও সূচকটি যথাক্রমে ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ ও ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট হারায়। দুই বছরের বেশি সময়ের দরপতনে ডিএসই পরিণত হয়েছে বিশে^র সবচেয়ে খারাপ পুঁজিবাজারে। বাজারের বিপর্যয়কর পরিস্থিতি উত্তরণে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও তার প্রভাব পড়েনি। অংশীজনদের সঙ্গে অর্থমন্ত্রী গত এক বছর ধরে একাধিক বৈঠক করলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম। তবে গতকাল দুটি সরকারি ব্যাংক শেয়ার ক্রয়ে কিছুটা ভূমিকা রাখলেও অন্য দুই ব্যাংকের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
গতকাল সূচক বাড়াতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে স্কয়ার ফার্মা, ব্র্যাক ব্যাংক, আইসিবি, রেনেটা, শাহজালাল ইসলামী, ব্যাংক এশিয়া ও আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক। গতকাল বেশিরভাগ শেয়ারের দরবৃদ্ধি পেলেও বাজার মূলধন তেমনটা বাড়েনি। খাতওয়ারি হিসেবে গতকাল সবচেয়ে বেশি বাজার মূলধন বেড়েছে এনবিএফআইয়ের। এ খাতটির বাজার মূলধন বেড়েছে ১ দশমিক ৮ শতাংশ। এছাড়া ট্যানারি, ভ্রমণ ও অবকাশ, খাদ্য ও অনুষঙ্গ, ব্যাংক, ফার্মাসিউটিক্যালস, জীবন বীমা, বস্ত্র ও প্রকৌশল খাতের বাজার মূলধন বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬ থেকে ১ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত।