রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে বাবাকে ৬ হাজার টাকা ধার দিয়ে এক বছর ধরে তার ১৩ বছর বয়সী কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণ করেছে আবুল হোসেন (৩৬) নামে এক মুরগি দোকানদার। কিশোরীর বাবা ওই দোকানের কর্মচারী ছিল। পুলিশের দাবি, টাকা শোধ দিতে না পেরে ধর্ষণকারীর হাতে মেয়েকে তুলে দিয়েছে কিশোরীর বাবা।
গত মঙ্গলবার জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ নম্বরে ফোন পেয়ে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসিতে) ভর্তি করা হয়। রাতে কিশোরীর বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তবে ধর্ষণকারী আবুল হোসেন পলাতক।
ওসিসি সূত্রে জানা যায়, ধর্ষণের শিকার কিশোরীর মা বিদেশে থাকেন। মা-বাবার বিচ্ছেদের পর থেকে সে অসুস্থ দাদির কাছে থাকত। ফোন নম্বর না থাকায় মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, আমরা বিষয়টি অবগত হওয়ার পর ওই কিশোরীর বাবা নিজেই ফোন করে ধর্ষককে পালিয়ে যেতে বলেছে। আমরা এ সংক্রান্ত মোবাইল অডিও রেকর্ড পেয়েছি। যাতে তার বাবা পালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছিল আবুল হোসেনকে। তিনি বলছিল ‘পালাও, পালাও।’ এরপরই আমরা নিশ্চিত হই যে বাবার সম্পৃক্ততা রয়েছে। আসামি আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তারের জন্য নানামুখী চেষ্টা অব্যাহত আছে। দ্রুতই তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।
লালবাগ থানার এসআই মোর্শেদ আলী জানান, ৯৯৯-এ একটি ফোন পেয়ে তারা মঙ্গলবার কিশোরীকে উদ্ধার করে। তাকে এক বছর ধরে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার সে তার বাড়িওয়ালাকে জানিয়েছে। ওই বাড়িওয়ালাই পুলিশকে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানান। পরে তাকে উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা জানায়, কিশোরীর বাবা মুরগি দোকানের কর্মচারী। কামরাঙ্গীরচরের ব্যাটারিঘাট এলাকায় মুরগি দোকানদার আবুল হোসেনের কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা ধার নেয়। টাকা শোধ করতে না পারায় মেয়েকে ধর্ষণের সুযোগ করে দেয় বাবা। একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে বাড়ির মালিককে বিষয়টি জানায় ওই কিশোরী।
লালবাগ থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, উদ্ধারের পর মেয়েটি অসুস্থ ছিল। সে তার বাবার কথা উল্লেখ করেছিল কিন্তু আমরা বিশ্বাস করিনি। ভেবেছি যে, অসুস্থতার কারণে হয়তো ভুল করে এসব বলছে। কিন্তু মোবাইল ফোনের কল রেকর্ডে তার কথার সত্যতা মেলে। তাছাড়া রাজি না হওয়ায় কিশোরীকে তার বাবা ভয়ও দেখায়। সর্বশেষ গত ১১ জানুয়ারি আবুল কিশোরীকে ধর্ষণ করে। পরে ওই কিশোরী পাশের বাসার এক নারীর কাছে ঘটনা জানিয়ে তাকে বাঁচাতে বলে।
ঢামেক হাসপাতালের ওসিসির তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিলকিস বেগম বলেন, গতকাল বুধবার কিশোরীর ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়েছে। এখন তার কাউন্সেলিং চলছে। তার বাড়িওয়ালা বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন।
কিশোরী অপহরণ : এদিকে কামরাঙ্গীরচরে ১৩ বছর বয়সী অন্য এক কিশোরীকে অপহরণের অভিযোগে তোফায়েল (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই কিশোরীকেও ঢামেকের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়েছে।
কামরাঙ্গীরচর থানার এসআই মাহমুদুল হাসান বলেন, কিশোরীটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়ে। এলাকার সিলেটিবাজার এলাকা থেকে তোফায়েল তাকে ফুঁসলিয়ে গত ৪ জানুয়ারি বাসা থেকে নিয়ে পালিয়ে যায়। কিশোরীর বাবা গত ১২ জানুয়ারি থানায় অপহরণ মামলা করলে দুদিন পর (১৪ জানুয়ারি) কিশোরগঞ্জ থেকে তাদের দুজনকে আটক করে নিয়ে আসা হয়। এরপর রাতে ওই কিশোরীকে হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করানো হয়। আর তোফায়েলকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
ঘর ভাড়া না পেয়ে নারী শ্রমিককে দল বেঁধে ধর্ষণ : সাভারের আশুলিয়ায় এক মাসের বকেয়া বাসা ভাড়া পরিশোধ করতে না পারায় স্বামীকে আটকে রেখে এক নারী শ্রমিককে (২৪) দ বেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাড়ির মালিক কালামকে (৪৫) আটক করেছে পুলিশ। বাকিরা পলাতক। গত সোমবার রাতে আশুলিয়ার পশ্চিম জামগড়া এলাকার ফকির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী নারী শ্রমিকের অভিযোগ, তিনি পশ্চিম জামগড়া এলাকায় মো. কালামের বাড়ির একটি কক্ষে ভাড়া থেকে ডিইপিজেডের একটি তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। সোমবার রাতে পরিবহন চালক স্বামীকে নিয়ে তিনি নিজ কক্ষেই ছিলেন। একপর্যায়ে রাত ১২টার দিকে বাড়ির মালিক কালাম তার পাঁচ সঙ্গী নিয়ে বকেয়া ডিসেম্বরের মাসের ২ হাজার টাকা ভাড়ার জন্য আসে। এ সময় কারখানায় তাদের বেতন পরিশোধ করা হয়নি বলে বাড়ির মালিককে জানালে সে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। পরে তার স্বামীকে পাশের কক্ষে আটকে রেখে জোরপূর্বক তার স্বর্ণের চেইন, চুরি, কানের দুল ও নাকের ফুল খুলে নেয় তারা। একপর্যায়ে তিনজন মিলে তার হাত-পা চেপে ধরলে প্রথমে বাড়ির মালিক তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পর্যায়ক্রমে বাকি তিনজন ভোর ৪টা পর্যন্ত তাকে দল বেঁধে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।
আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিম রেজা জানান, ওই নারী শ্রমিকের অভিযোগের ভিত্তিতে বাড়ির মালিক মো. কালামকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের আটকের চেষ্টা চলছে।
আ.লীগ নেত্রীর বাড়িতে শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ : সাভার পৌর মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক রাহিমা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া পরিবারের এক শিশুকে (৭) ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেঝে। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেত্রীর বাবা নয়ন মোল্লার (৭৫) বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক। গতকাল বুধবার সকালে সাভার মডেল থানার ওসি এএফএম সায়েদ এ তথ্য জানান।
তবে সাভার পৌর মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক রাহিমা বেগম বলেন, ‘ভাড়াটিয়া ওই পরিবারের কাছে ছয় মাসের বকেয়া বাসা ভাড়ার জন্য চাপ দেওয়ায় তার বাবার বিরুদ্ধে এই মিথ্যা অভিযোগ করেছেন তারা। এছাড়া একটি মহল তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই তার পরিবারকে জড়িয়ে এ ধরনের হীন চক্রান্ত করছে।’
সাভার মডেল থানার এসআই পলি আক্তার বলেন, গত ১২ জানুয়ারি পৌর এলাকার কামাল গার্মেন্ট রোড এলাকায় বাড়িতে এ ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিশুর মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। শিশুকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার সত্যতা মিলেছে। নয়ন মোল্লার স্ত্রী নিজেই এ বিষয়টি পুলিশকে নিশ্চিত করেছেন।
সাভার মডেল থানার ওসি এএফএম সায়েদ জানান, শিশু ধর্ষণচেষ্টা মামলার আসামি নয়ন মোল্লাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সিরাজগঞ্জে নাতনিকে ধর্ষণের অভিযোগ : সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার তেঘরী গ্রামের নিজবাড়ি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী নাতনিকে ধর্ষণের অভিযোগে ভ্যানচালক দাদাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার নাম ইনু মিয়া (৫৫)। গতকাল সকালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কামারখন্দ থানার ওসি হাবিবুল ইসলাম জানান, গত শনিবার সন্ধ্যায় ওই গ্রামের সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ করে ইনু মিয়া। শিশুটি বাড়ি ফিরে তার মাকে জানালে এ নিয়ে সালিশ বৈঠকে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। গত মঙ্গলবার রাতে শিশুর মা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেন।