ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে উত্তরের মেয়র পদে আতিকুল ইসলামের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়ালকে ভাবছে না আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীন দলটির নেতারা বলছেন, উত্তর সিটিতে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হচ্ছে মূলত প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের সঙ্গে। দেশ রূপান্তরকে তারা বলেন, নির্বাচনী প্রচারে নেমে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বিষয়টি আঁচ করতে পেরেছেন। কারণ মেয়রের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আনিসুল হক জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা দেশ রূপান্তরকে আরও বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস বেশ সুবিধাজনক অবস্থায়ই আছেন। তার সঙ্গে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনের তেমন কোনো লড়াই-ই হবে না।
আওয়ামী লীগের ওই কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, ৩০ জানুয়ারির সিটি নির্বাচন সামনে রেখে কে এগিয়ে আছেন, কে পিছিয়ে আছেন সে হিসাব প্রায় প্রতিদিনই মেলাচ্ছেন ক্ষমতাসীনরা। প্রার্থীদের প্রচার শেষে এ নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। কোথায় কোন সমস্যা তা চিহ্নিত করছেন সবাই মিলে। ঢাকা উত্তর-দক্ষিণের ভোটের হিসাব-নিকাশ কষতে গিয়ে আতিকুল ও তাপসের ব্যাপারে এমন চিত্র পেয়েছেন তারা।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, ভাবমূর্তি, বয়স ও কথাবার্তার বিবেচনায় দক্ষিণে তাপসের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছেন ইশরাক। সব মিলে সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছেন তাপস। দেশ রূপান্তরকে তারা আরও বলেন, উত্তর সিটিতেও নৌকার মেয়রপ্রার্থী যোগ্য। কিন্তু গত মেয়াদে মেয়রের দায়িত্ব পালনকালে আনিসুল হক বেশকিছু সফলতা দেখিয়ে নগরবাসীর প্রত্যাশার মাত্রা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছেন। এজন্য উত্তরের জনগণ মেয়র হিসেবে আনিসুল হকের মতো একজনকেই খুঁজছেন। তাদের এ খোঁজাই সমস্যায় ফেলে দিয়েছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলামকে। তাকে কিছুটা বৈরী পরিস্থিতি মোকাবিলা করে নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যেতে হচ্ছে। বলা যায় প্রতি মুহূর্তে আনিসুল হকের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হচ্ছে আতিকুল ইসলামকে। আওয়ামী লীগের ওই নেতারা আরও বলেন, প্রচারে নেমে এমন প্রশ্নের মুখেও পড়তে হয়েছে যে আতিকুল ইসলাম আনিসুল হকের মতো পারবেন তো?
এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘উত্তরের সিটি নির্বাচনে আমাদের মেয়র প্রার্থীকে নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আনিসুল হক তার মেয়াদে নগরবাসীর মনে যে প্রত্যাশা তৈরি করে দিয়ে গেছেন তাতে তারা আনিসুল হকের মতোই মেয়র খুঁজছেন। এটা প্রচারে গিয়ে আমরা উপলব্ধি করছি।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে আমরা এবং আমাদের প্রার্থীর প্রতি দলীয় সিদ্ধান্ত হলো যে আপাতত আনিসুল হককে “হিডেন” রাখা। কারণ আমরা উপলব্ধি করছি আনিসুল হককে সামনে যত কম আনা যায় প্রার্থীর জন্য ততই ভালো হবে।’
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র হিসেবে তাবিথের চেয়েও আনিসুল হক অনেক বড় প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকার প্রার্থী আতিকুল ইসলামের কাছে। তিনি বলেন, মেয়র হিসেবে আনিসুল হক নগরবাসীর কাছে সফল হিসেবে পরিচিত। তারা আনিসুল হকের মতো মেয়র প্রত্যাশা করেন। দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ফারুক খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রচারে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। তিনি বলেন, ভোটারদের কাছ থেকে সাড়াও পাওয়া যাচ্ছে। কিছু কিছু ইস্যু উঠে আসছে আমরা তা মোকাবিলাও করছি। সভাপতিমন্ডলীর ওই সদস্য আরও বলেন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তাদের মেয়রপ্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থীর তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন। তবে উত্তরের মেয়রপ্রার্থী আতিকুল ইসলাম প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের সঙ্গে লড়াই করছেন।