সিঁদ কেটে ঘরে ঢুকে স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে দল বেঁধে ধর্ষণ

মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে সিঁদ কেটে ঘরে ঢুকে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে দল বেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ জানায়, গত বুধবার গভীর রাতে উপজেলার বাড়াটিয়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একই এলাকার চারজনকে আটক করা হয়েছে। ধর্ষণের শিকার ওই নারীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।

আটকরা হলো উপজেলার মধ্য চারিগ্রামের মতিয়ার (৪৫), আবদুল মাজেদ (৪০), জহুরুল (৩০) ও লেবু মিয়া (৩৫)। তারা সবাই মাদকাসক্ত বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

ধর্ষণের শিকার ওই নারীর পরিবারের সদস্যরা জানান, বুধবার রাতে দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে নিজেদের ঘরে ঘুমিয়েছিলেন স্বামী ও স্ত্রী। রাত সাড়ে ১২টার দিকে ৬-৭ জন বখাটে সিঁদ কেটে ঘরে ঢোকে। তারা সবাই মাদকাসক্ত। এ সময় তারা গৃহকর্তাকে রশি ও কাপড় দিয়ে হাত-পা বেঁধে স্ত্রীকে পাশের রুমে নিয়ে দল বেঁধে ধর্ষণ করে। পরে ওই গৃহকর্তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়। পরদিন বৃহস্পতিবার ভোরে ওই নারীকে গুরুতর অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায় স্বজনরা। সকাল ১০টার দিকে সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়।

সিঙ্গাইর থানার ওসি আবদুস সাত্তার মিয়া দেশ রূপান্তরকে জানান, এ ঘটনায় কয়েকজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন ধর্ষণের শিকার ওই নারীর স্বামী। পরে আটক চারজনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ১৩ বছরের এক কিশোরী দল বেঁধে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। গাজীপুরের শ্রীপুরে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঢাকার কেরানীগঞ্জে প্রথম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। বিস্তারিত আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে :

ভৈরবে শিশুকে দল বেঁধে ধর্ষণ : কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ১৩ বছরের এক কিশোরী দল বেঁধে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। গত বুধবার গভীর রাতে পৌর শহরের জগন্নাথপুর গ্রামে রেললাইনের পাশে ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে অজ্ঞাতপরিচয় চারজনকে আসামি করে মামলা করেন কিশোরীর খালা বিলকিস বেগম। ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরীর বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার বোয়ালি গ্রামে। কিশোরীটি তার খালার সঙ্গে গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় থাকত।

বিলকিস বেগম দেশ রূপান্তরকে জানান, বুধবার সন্ধ্যায় তার ভাগ্নি রাগ করে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও ওই রাতে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরদিন সকালে তাকে ফোন করে ধর্ষণের ঘটনাটি জানায় ভৈরব থানা পুলিশ। খবর পেয়ে দ্রুত ভৈরব চলে যান তিনি। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন তিনি।

ভৈরব রেলওয়ে থানার ওসি ফেরদাউস আহমেদ বিশ্বাস জানান, ওই কিশোরী টঙ্গী থেকে বাসে করে ভৈরব বাসস্ট্যান্ডে নামে। রাত আনুমানিক ৮টার দিকে কিশোরী সিলেটের বাসে উঠতে এক রিকশাচালকের সহযোগিতা চায়। পরে ওই রিকশাচালক সহযাত্রী হিসেবে আরও এক যুবককে তার রিকশায় তোলে। এরপর কিশোরীকে সিলেট বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে না দিয়ে উল্টোদিকে জগন্নাথপুর রেললাইনের কাছে একটি নির্জন ঝোপে নিয়ে যায়। সেখানে কয়েকজন মিলে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। রাত দেড়টার দিকে তাকে উদ্ধার করে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় পুলিশ।

ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. তামজীদুস সিফাত জানান, প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ওই কিশোরীকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাকে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গাজীপুরে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ : গাজীপুরের শ্রীপুরে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ জানায়, গত বুধবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার নয়নপুর এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় ওই রাতেই ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।

মামলায় অভিযুক্তরা হলো নয়নপুর এলাকার সোহরাবের ছেলে শরীফ (১৮), লিটনের ছেলে সুজন (১৯), ভাড়াটে কবিরের স্ত্রী ঊর্মি (১৮) ও শরীফ (২০) । এ ঘটনায় ঊর্মিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর মা দেশ রূপান্তরকে জানান, তিনি স্থানীয় একটি কারখানায় অপারেটর হিসেবে কাজ করেন। তার মেয়ে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে তার মেয়েকে প্রেমের প্রস্তাবসহ নানা ধরনের কুপ্রস্তাব দিত শরীফ। তার প্রস্তাবে সাড়া না দিলে অপহরণের হুমকিও দেয় সে। বুধবার কাজ শেষে রাত ১০টায় বাসায় এসে মেয়েকে দেখতে না পেয়ে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেন পরিবারের সদস্যরা। একপর্যায়ে নয়নপুর গ্রামের জনৈক আসাদ মোল্লার বাড়ির পাশে ঝোপঝাড়ের ভেতর থেকে মেয়েকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়। চিকিৎসা শেষে জ্ঞান ফিরে এলে মেয়ে জানায়, রাত ৮টার দিকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে গেলে শরীফ মুখে গামছা দিয়ে তাকে তুলে নেয়। পরে তাকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায় সে।

শ্রীপুর থানার এসআই নাজমুস সাকীব জানান, ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

কেরানীগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ : ঢাকার কেরানীগঞ্জে প্রথম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। গত রবিবার বিকেলে ধর্ষণের ওই ঘটনায় সিদ্দিক (৫২) নামে স্থানীয় এক পান ব্যবসায়ী জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন নির্যাতিতর স্বজনরা।

ধর্ষণের শিকার ওই শিশুটির বাবা গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠিতে দিনমজুরের কাজ করেন। আর মা জামাকাপড় ফেরি করে বিক্রি করেন। মেয়েকে নিয়ে কেরানীগঞ্জের একটি বাসায় ভাড়া থাকেন তিনি।

স্বজনদের অভিযোগ, একসময় সিদ্দিকের দোকানের পাশেই ফল বিক্রি করতেন শিশুটির বাবা। টাকা ধার নেওয়ার সূত্রে তার পরিবারের সঙ্গে ভালো একটি সম্পর্ক তৈরি হয় সিদ্দিকের। রবিবার বিকেলে একই এলাকায় খালার বাসা থেকে বাসায় ফিরছিল শিশুটি। তখন সিদ্দিক শিশুটিকে একটি পানের ডালা হাতে ধরিয়ে দিয়ে তার বাড়িতে দিয়ে আসতে বলে। পরে সিদ্দিকের কথামতো শিশুটি তার বাড়িতে গেলে ফাঁকা বাসায় তাকে ধর্ষণ করে সে। এরপর নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে শিশুটিকে বাসায় পাঠিয়ে দেয় সিদ্দিক। বাসায় গিয়ে শিশুটি তার মাকে কিছু জানায়নি। তবে রাতে তার প্রচন্ড জ্বর এলে পরের দিন সকালে তার মা গামছা ভিজিয়ে শিশুটির শরীর মুছিয়ে দেওয়ার সময় তার বুকে কামড়ের চিহ্ন পান। জিজ্ঞাসাবাদের পর শিশুটি সব ঘটনা খুলে বলে। লোক জানাজানি, মানসম্মানের ভয় ও অভিযুক্ত সিদ্দিক স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় এত দিন ঘটনাটি প্রকাশ করেনি তার পরিবার। তবে গতকাল তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে আনা হয়। পরে ঘটনাটি জানাজানি হয়।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী ইনচার্জ (এএসআই) আবদুল খান দেশ রূপান্তরকে জানান, শিশুটিকে মা ও খালা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। অভিযোগ আসার পর পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত করছে। অভিযুক্তকে আটকের চেষ্টা চলছে।