কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ইজারা দেওয়া ১৬ একর জমি প্রভাবশালীরা জোরপূর্বক দখল করে শুঁটকি মহল তৈরি করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে প্রকৃত ইজারাদার ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
জানা যায়, গত কয়েক বছর ধরে প্রকৃত ইজারাদারকে বিভিন্ন হয়রানিমূলক ভিত্তিহীন মামলা দিয়ে স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী মহল পাউবোর ওই জায়গা জবর দখলে নেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়া উপজেলায় ৮ নং খতিয়ানের বড়ঘোপ মৌজার ১৬ একর জমি উপজেলার কৈয়ারবিল পরান সিকদার পাড়া গ্রামের মনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী মুকুলকে ইজারা দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, পাউবোর পক্ষ থেকে জমি বুঝিয়ে দিলেও প্রভাবশালীদের বাধার মুখে তিনি এখনো ইজারাকৃত জমির ভোগ দখলে যেতে পারেনি।
মুকুলের অভিযোগ, ইজারা গ্রহণের পর উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের ফতেয়ার পাড়া গ্রামের মো. ইকবালের নেতৃত্বে অপর ৪৫ জন ব্যক্তি ওই জমি জবর দখল করে নেন। তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে উপর্যুপরি হয়রানি করেছে।
এ পরিপ্রেক্ষিতে মুকুল ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ইকবালকে প্রধান আসামি করে ৪৫ জনের বিরুদ্ধে একটি এম আর মামলাও করেন। মামলার প্রেক্ষিতে আদালত থেকে পাউবোর কাছ থেকে প্রতিবেদন চাওয়া হয়।
জানা যায়, পাউবো কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান বিগত ২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর একটি প্রতিবেদন প্রেরণ করেন।
পাউবোর প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই বছর ৫ মে সমন্বিত মৎস্য চাষ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এবং কক্সবাজার ইজারা দান কমিটির সভায় উপজেলার বড়ঘোপ মৌজার ১৬ একর জমি ইজারা নিতে আবেদন করেছিলেন মুকুল। আবেদনটি সভায় উপস্থাপিত হলে সভায় উপস্থিত সদস্যবৃন্দ পর্যালোচনা করে রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমে সর্ব সম্মতিক্রমে তাকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ইজারা কার্যক্রমও সম্পন্ন হয়।
মুকুল অভিযোগ করেন, পাউবোর কাছ থেকে ১৬ একজর জমি সরকারি নিয়ম অনুসরণ করে রাজস্ব পরিশোধ করে ইজারা নেওয়ার পরও তা ইকবাল গং দখল করে নেয়। আমার ইজারাকৃত জমিতে দখলদার গোষ্ঠী অবৈধ শুঁটকি মহাল তৈরি করে এলাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত করেছে।
তবে ইকবাল অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, মুকুলের ইজারার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছি। এ জমি নিজেদের বলে দাবি করলেও, তিনি কোন কাগজ দেখাতে পারেননি।
কুতুবদিয়ার থানার ওসি দিদারুর ফেরদৌস জানান, পাউবোর ১৬ একর জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে।