আট বছর পর শুক্রবারের জুমার নামাজের ইমামতি করলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তেহরানের হামলায় ইউক্রেনের বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় বিক্ষোভে উত্তাল সময়ে খামেনির এই ইমামতিকে ইঙ্গিতপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
২০১২ সালের পর জুমার নামাজে হাজির হয়ে খামেনি বলেন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল কাসেম সুলেইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে আইআরজিসি যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে তা যুক্তরাষ্ট্রের সম্মান-মর্যাদায় আঘাত করেছে। নিজেকে পরাশক্তি দাবি করে যুক্তরাষ্ট্র যে অহংকার দেখায় আইআরজিসির ক্ষেপণাস্ত্র তাদের সেই দম্ভে আঘাত করেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেন, তারা এখন বলছে আমাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করবে। কিন্তু এসবের মাধ্যমে তারা তাদের হারানো সম্মান ফিরে পাবে না। ভাষণে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের শত্রু উল্লেখ করে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান খামেনি। তিনি দাবি করেন, কাসেম সুলেইমানি হত্যা আড়াল করতে শত্রুরা বিমান ভূপাতিত করার ঘটনাকে ব্যবহার করছে। বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আমরা শোকাহত হলেও আমাদের শত্রুরা খুশি হয়েছে। কারণ ইরানের বিপ্লবী বাহিনী ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কিছু একটা বলার মতো কিছু তারা পেয়েছে। এর আগে ২০১২ সালে ইসলামি বিপ্লবের ৩৩তম বার্ষিকীতে জুমায় ইমামতি করেছিলেন ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় এ নেতা। তখন আরব বসন্তের প্রভাবে পুরো মধ্যপ্রাচ্য উত্তাল ছিল।
দ্য ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির মাহদি খালাজি বলেন, জুমার নামাজের এই ইমামতি এক ধরনের প্রতীকী তাৎপর্য বহন করে। ইরানের সর্বোচ্চ কর্র্তৃপক্ষ যখন কোনো গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে চান, তখনই এ সময়টা বরাদ্দ রাখা হয়। তিনি বলেন, জুমার ইমামতি সাধারণত খুতবা দেওয়ার ভালো দক্ষতাসম্পন্ন ধর্মীয় নেতাদেরই দায়িত্ব।
গত ৮ জানুয়ারি জেনারেল কাসেম সুলেইমানি হত্যার বদলা নিতে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিমানঘাঁটিতে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দিনেই ১৭৬ আরোহীসহ বিধ্বস্ত হয় ইউক্রেনগামী বিমান। ঘটনার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন দাবি করে জানায়, বিমানটি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই বিধ্বস্ত হয়েছে। প্রথমে অস্বীকার করলেও একপর্যায়ে তেহরান বিমান ভূপাতিত করার কথা স্বীকার করে। এরপর থেকেই সেখানে বিক্ষোভ শুরু হয়।