৩৫৮০ জন প্রশিক্ষণসহ নগদ সহায়তা পাবে

আর্থিকভাবে পিছিয়ে আছে এমন ৫টি জেলার ৩ হাজার ৮৫০ জন দুস্থ ছেলেমেয়েকে প্রশিক্ষণ দেবে সমাজসেবা অধিদপ্তর। দর্জি, অটোমোবাইল, ড্রাইভিং ও হস্তশিল্পবিষয়ক প্রশিক্ষণ শেষে তাদের নগদ ৪ হাজার করে টাকাও দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে তারা যেন আত্মনির্ভরশীল হতে পারে সে জন্যই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে এ-সংক্রান্ত একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪ কোটি ২৭ লাখ টাকা। চলতি বছর থেকে ২০২১ সালের জুন নাগাদ এটি বাস্তবায়ন হবে। আগামী বুধবার এই প্রস্তাবের ওপর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে।

প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) থেকে জানা গেছে, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, শেরপুর, কড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের ২৫টি উপজেলার অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর ৩ হাজার ৮৫০ জন দুস্থ ছেলেমেয়েকে পেশাভিত্তিক দর্জিবিজ্ঞান, ড্রাইভিং, অটোমোবাইল, ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প (হস্তশিল্প) প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে কর্মক্ষম ও উপার্জনক্ষম করে গড়ে তুলে আর্থসামাজিক উন্নয়নে স্বনির্ভর করে গড়ে তোলা যাবে।  বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১৫ সালের জরিপ অনুসারে দেশে বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ। দেশের বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে প্রশিক্ষণ ছাড়া কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার উপায় নেই বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এ জন্য এ ধরনের প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। 

প্রকল্প প্রস্তাবনায় বেশ কিছু অসংগতি রয়েছে বলে জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। প্রস্তাবনা ঘেঁটে দেখা গেছে, অবহেলিত বিধবা, দুস্থ, অনগ্রসর ও পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য কর্মসংস্থানমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান শীর্ষক প্রকল্পের উদ্দেশ্য কেবল দুস্থ-অসহায় ছেলেমেয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য নয়।

পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের যুগ্ম প্রধান রবীন্দ্রনাথ বর্মণ বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত। বাস্তবতার নিরিখে তা আরও বাড়ানো দরকার। এ ছাড়া প্রকল্পের বেশ কিছু খাতে অসংগতি রয়েছে। এগুলো দূর করতে হবে।