রামগঞ্জে বিদ্যুতের তার টানতে রাস্তার পাশের গাছ ন্যাড়া

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গাছ কাটছে ঠিকাদার

রামগঞ্জ শহরের বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে বিদ্যুতের তার নেওয়ার নাম করে নির্বিচারে গাছ কেটে সাবাড় করার অভিযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

প্রকল্পের স্থানীয় উপকারভোগী ও ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির জাহান ও উপজেলা বন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটার সত্যতা পেয়ে উপজেলা পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারকে কাজ বন্ধ রাখতে মৌখিকভাবে জানান।

সরেজমিনে দেখা যায়, রামগঞ্জ বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে পল্লী বিদ্যুতের পিলারে বিদ্যুতের তার টানার জন্য রাস্তার পাশের নারিকেল-সুপারি গাছসহ সরকারি বনায়নের বিভিন্ন জাতের গাছের মাথা কেটে ফেলা হচ্ছে। বিশেষ করে রামগঞ্জ দক্ষিণ বাজার থেকে সোনাপুর হয়ে কাঞ্চনপুর পর্যন্ত ছোট-বড় সব ধরনের গাছ কাটা হচ্ছে।

প্রকল্পের উপকারভোগী আরমান হোসেন জয় বলেন, আমরা সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষকে এভাবে নির্বিচারে গাছ কাটতে বাধা দিতে গেলে তারা আমাদেরকে ‘আইনের ভয়’ দেখিয়েছে। যেভাবে গাছ কাটা হচ্ছে তাতে করে স্থানীয় লোকজন অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে।

পৌর সোনাপুর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রকল্পের উপকারভোগী সভাপতি আবুল বাশার বাচ্চু বলেন, বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেছি এভাবে গাছ নিধন বন্ধ রাখতে। বড় গাছের পাশাপাশি কয়েকমাস বয়সী গাছও কেটে ফেলা হচ্ছে। কিছু বললে তারা আইনের ভয় দেখাচ্ছে।

ঠিকাদারের প্রতিনিধি আবদুল কাদেরের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে কল করে সেটি বন্ধ পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

উপজেলা বন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, নির্বিচারে গাছ নিধন বন্ধ রাখতে বলেছি। ওরা ইচ্ছা করলে বিদ্যুতের পিলারগুলো রাস্তা থেকে আরও দূরে সরিয়ে নিতে পারে। কয়েকমাস বয়সী গাছের চারাও তারা অবাধে কেটে ফেলছে। প্রয়োজনে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।

রামগঞ্জ উপজেলা পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) নুরুল আমিন ভূঁইয়া জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী গাছ কাটতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে গাছ কাটা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমাদের অধীনে নয়।  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির জাহান বলেন, আমরা বিদ্যুৎও চাই-বনায়নও চাই। তবে এভাবে নির্বিচারে গাছ কাটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। প্রয়োজনে বিদ্যুতের পিলারগুলো রাস্তার পাশ থেকে আরও সরিয়ে নিতে হবে।