কালকিনি উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস কার্যক্রম চালাচ্ছে বরখাস্ত হওয়া শিক্ষা কর্মকর্তাকে দিয়ে। দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটে ভুগছে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজ করতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা অফিসারসহ চারটি পদ শূন্য থাকায় উপজেলার ৫২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ২৬টি মাদ্রাসা পরিদর্শন ও খোঁজ-খবর রাখার কোনো কর্মকর্তা নেই মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে। ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি স্ত্রীর করা নারী নির্যাতন মামলায় জেলে যাওয়ার কারণে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাহাবুবর রহমান সাময়িক বরখাস্ত রয়েছেন। কিন্তু এরপরও তিনি কাজ করছেন শিক্ষা অফিসে, যাচ্ছেন সরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে।
সূত্র আরও জানিয়েছে, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে পদ রয়েছে ছয়টি। সেগুলো হলো মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার, সহকারী হিসাবরক্ষক, অফিস সহায়ক ও নৈশপ্রহরী। এর মধ্যে প্রধান চারটিই শূন্য।
আরও জানা যায়, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহাবুবর রহমান বেতন বেশি ওঠানোর কারণে তার বেতন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, তিনি অফিশিয়াল সমস্ত কাজ নিজে করেন এবং স্বাক্ষরও করে থাকেন। আবার তিনি পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষায়ও দায়িত্ব পালন করেছেন। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া এসএসসি পরীক্ষাতেও তিনি দায়িত্ব পালন করবেন।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে এক প্রধান শিক্ষক বলেন, কালকিনিতে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস বলতে কোনো অফিস আছে বলে মনে হয় না। এখন অফিস চালায় অফিস সহায়ক ও নৈশপ্রহরী।
এ ব্যাপারে বরখাস্তকৃত শিক্ষা কর্মকর্তা মাহাবুবর রহমান বলেন, ‘অফিসে এতগুলো পদ খালি। বিষয়টি কর্র্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’ বরখাস্ত অবস্থায় কীভাবে অফিশিয়াল কার্যক্রম করছেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি উপজেলা ও জেলার সব অফিসার জানে। কর্র্তৃপক্ষ আমাকে কাজ করার অনুমতি দিয়েছে।’
মাদারীপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র দাস ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কালকিনি উপজেলা শিক্ষা অফিসে যে দুজন রয়েছে তাদের দিয়ে কাজ চালানো অসম্ভব। তাই সাময়িক বরখাস্ত অফিসারকে দিয়ে অফিশিয়াল কাজ করানো হচ্ছে। তবে তাকে দিয়ে কোনো আর্থিক লেনদেনের কাগজে স্বাক্ষর করানো হয় না।
মাদারীপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম বলেন, সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কোনো কর্মকর্তা অফিশিয়াল কোনো কাজ করতে পারবে না। তবে তিনি প্রতিদিন অফিসে এসে হাজিরা দেবেন। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখব।’