মৌলভীবাজারের বড়লেখায় স্ত্রী, শাশুড়ি ও দুই প্রতিবেশীকে কুপিয়ে হত্যার পর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন নির্মল কর্মকার (৩৫) নামে এক যুবক। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। গতকাল রবিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের পাল্লাতল চা-বাগানে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সবাই একই চা-বাগানে কাজ করতেন।
হত্যাকাণ্ডের শিকার চারজন হলেন ঘাতক নির্মলের স্ত্রী জলি ব্যানার্জি (৩০), তার শাশুড়ি লক্ষ্মী ব্যানার্জি (৬০), প্রতিবেশী বসন্ত ভৌমিক (৫০), বসন্তের মেয়ে শিউলি ভৌমিক (১২)। ৫ জন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার ফারুক আহমদ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক বছর আগে জলির সঙ্গে বিয়ে হয় নির্মলের। বিয়ের পর থেকে তিনি শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন। গতকাল ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে নির্মল ও জলির মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে জলিকে চা-গাছ ছাঁটানোর ধারালো দা দিয়ে আক্রমণ করলে সে নিজেকে বাঁচাতে দৌড়ে পাশে মায়ের ঘরে চলে যান। জলিকে রক্ষা করতে শাশুড়ি ছুটে এলে তাকেও কোপায় নির্মল। এ সময় তাদের চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে আসেন প্রতিবেশী বসন্ত ভৌমিক, তার স্ত্রী কানন ভৌমিক ও তার মেয়ে শিউলি ভৌমিক। নির্মলকে ফেরাতে গেলে সে তাদেরও কুপিয়ে জখম করে। এতে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হন বসন্ত ভৌমিকের স্ত্রী কানন ভৌমিক (৪০)। কানন ভৌমিক বর্তমানে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। ঘটনার পরপর ঘাতক নির্মল নিজের গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। এমন ঘটনায় স্তম্ভিত এলাকাবাসী। প্রতিবেশীদের ধারণা ঘটনার দিন নির্মল অতিরিক্ত মাতাল ছিল।
ঘটনার পরপর থানা পুলিশ, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আলামত সংগ্রহ করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পিবিআই) নজরুল ইসলাম জানান, পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে তারা।