জিয়ার সমাধিতে ফখরুল

নির্বাচন পরিচালনায় ইসি একেবারেই ব্যর্থ ও অযোগ্য

নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে বর্তমান নির্বাচন কমিশন (ইসি) একেবারেই ব্যর্থ ও অযোগ্য বলে মনে করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল রবিবার বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বর্তমান ইসি নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে একেবারেই ব্যর্থ ও অযোগ্য। তার প্রমাণ হচ্ছে সিটি নির্বাচনের তারিখ তারা নির্ধারণ করে রেখেছিল হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজার দিনে। বড় সমস্যা হচ্ছে যেখানে নির্বাচনী কেন্দ্রগুলো হয়, সেখানে পূজাও হয়। এতে করে বড় ধরনের সমস্যা হতে পারত। কিন্তু এসব চিন্তা না করে তারা তারিখ নির্ধারণ করেছিল। ইসির অযোগ্যতার কারণেই এমন সমস্যার সৃষ্টি হয়।’

ফখরুল বলেন, ‘জিয়াউর রহমান একজন ক্ষণজন্মা মানুষ ছিলেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে তিনি বাঙালি জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যে তিনি বাংলাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে একটি মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়।’ বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের। আমরা যখন জিয়ার জন্মদিবস পালন করছি, তখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে একটা মিথ্যা মামলায় আওয়ামী লীগ সরকার কারাগারে আটকে রেখেছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বিদেশে নির্বাসিত করে রেখেছে। লাখ লাখ বিএনপির নেতাকর্মীকে তারা মিথ্যা মামলা দিয়েছে, হত্যা করেছে, গ্রেপ্তার করেছে, গুম করেছে, খুন করেছে। দেশটাকে একটা অগণতান্ত্রিক স্বৈরাচারী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে তারা।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে আওয়ামী লীগ দেশে একটা একদলীয় শাসন ব্যবস্থা সৃষ্টি করতে চায়। সেজন্যই তারা অত্যাচার নির্যাতনের স্টিমরোলার চালিয়ে যাচ্ছে। আজকে আমরা এখানে শপথ নিয়েছি যেকোনো ত্যাগের বিনিময়ে আমরা এ দেশকে ও গণতন্ত্রকে মুক্ত করব। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব এবং জিয়াউর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করব।’ তিনি বলেন, ‘বহুদলীয় গণতন্ত্র মানেই তো সবার সমান সুযোগ, তা কি এখন এই দেশে আছে? আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশের সব গণতান্ত্রিক স্তরগুলোকে সংকুচিত করে ফেলেছে। গণতান্ত্রিক কার্যক্রম সীমিত করে দিয়েছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। গত জাতীয় নির্বাচনে ৩০ তারিখের নির্বাচন ২৯ তারিখ রাতে করে নিয়েছে তারা।’ তিনি বলেন, ‘আজকে এই ঢাকা সিটি নির্বাচনে একটি দলের প্রার্থীরা বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে, কারণ একটি অযোগ্য ইসি কোনো ব্যবস্থা নিতে সক্ষম নয়। তাদের সেই যোগ্যতা নেই। ইভিএমে (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) নির্বাচন করার মানে হচ্ছে বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়ার আরেকটা অপকৌশল।’

রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর জিয়া ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানানোর পর প্রয়াত নেতার আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করেন বিএনপি ছাড়াও বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এদিকে জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় দিনব্যাপী বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেয়। বিকেলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভা হয়। ভোরে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন ও সংবাদপত্রে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হয়।