সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলায় ১০ জঙ্গির ফাঁসির রায়

ঢাকার পল্টন ময়দানে ১৯ বছর আগে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সমাবেশে বোমা হামলা মামলায় নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) ১০ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

গতকাল সোমবার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রবিউল আলম এ রায় ঘোষণা করেন। ২০০১ সালের এই দিনে (২০ জানুয়ারি) ভয়াবহ হামলায় ৫ জন নিহত ও শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। হামলার ২০তম বার্ষিকীর দিনে এ রায় হলো।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিদের মধ্যে রায়ের সময় মুফতি মঈন উদ্দিন শেখ, আরিফ হাসান সুমন, সাব্বির আহমেদ ও শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদকে কাঠগড়ায় হাজির করা হয়। বাকি ছয় আসামি জাহাঙ্গীর আলম বদর, মহিবুল মুত্তাকিন, আমিনুল মুরসালিন, মুফতি আবদুল হাই, মুফতি শফিকুর রহমান ও নুর ইসলাম পলাতক রয়েছেন।

বিচারক পলাতক দুই আসামি মো. মশিউর রহমান ও রফিকুল আলম মিরাজকে খালাস দিয়েছেন। এই মামলার মোট ১৩ আসামির মধ্যে শীর্ষ জঙ্গি মুফতি আবদুল হান্নানের অন্য মামলায় ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হওয়ায় তাকে আগেই অব্যাহতি দেওয়া হয়।

গত বছরের ১ ডিসেম্বর উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে বিচারক রায়ের দিন ধার্য করেছিলেন। ১০৪ পৃষ্ঠার রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ‘জঙ্গিরা কমিউনিস্ট পার্টিকে কাফের ও ইসলাম ধর্মের শত্রু মনে করত। দলটিকে নিশ্চিহ্ন করতেই তারা হামলা করেছিল।’ এতে আরও বলা হয়, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখতে এই জঙ্গিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।’

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি পল্টনে সিপিবির লাল পতাকা সমাবেশে জঙ্গিরা বোমা হামলায় চালায়। এতে খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার সিপিবি নেতা হিমাংশু মণ্ডল, রূপসা উপজেলার সিপিবি ও দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরির শ্রমিক নেতা আবদুল মজিদ, ঢাকার ডেমরার লতিফ বাওয়ানি জুটমিলের শ্রমিক নেতা আবুল হাসেম ও মাদারীপুরের কর্মী মোক্তার হোসেন ঘটনাস্থলেই মারা যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কয়েক দিন পরে খুলনা বিএল কলেজের ছাত্র ইউনিয়ন নেতা বিপ্রদাস রায়ের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় সিপিবির তৎকালীন সভাপতি মনজুরুল আহসান খান মতিঝিল থানায় মামলা করেন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন তদন্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মোমিন হোসেন। এতে তিনি আসামিদের বিরুদ্ধে নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি উল্লেখ করেন। এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে একযোগে বোমা হামলার সঙ্গে যোগসূত্র পেয়ে ২০০৫ সালে সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলার মামলাটি আদালত পুনঃ তদন্তের আদেশ দেয়। সাত তদন্ত কর্মকর্তার হাত ঘুরে ২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর সিআইডির পরিদর্শক মৃণাল কান্তি সাহা ১৩ আসামির বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি অভিযোগপত্র দেন।

২০১৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচারকাজ শুরু হয়। ১০৬ সাক্ষীর মধ্যে ৩৮ জন সাক্ষ্য দেন। তবে আসামিরা তাদের সাফাই সাক্ষী হাজির করেননি।