অক্সফাম রিপোর্ট ২০২০

২১৫৩ ব্যক্তির হাতে বিশ্বের অধিকাংশ অর্থসম্পদ

বিশ্বের ২১৫৩ শীর্ষ ধনী দরিদ্রতম ৪৬০ কোটি ব্যক্তির মোট অর্থের চেয়েও বেশি অর্থ ২০১৯ সালে নিয়ন্ত্রণ করেছেন বলে জানিয়েছে স্বাধীন দাতব্য সংস্থা অক্সফাম। মজুরিহীন ও কম মজুরি পাওয়া নারীদের শ্রম প্রতি বছর বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রযুক্তি শিল্পগুলোর চেয়ে তিনগুণ বেশি মূল্য সংযোজন করছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক নেতাদের বার্ষিক বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম সম্মেলনের আগে গতকাল সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে অক্সফাম এমনটি জানিয়েছে বলে এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

অক্সফামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী নারীরা বিনা বেতনে বা স্বীকৃতি ছাড়াই প্রতিদিন মোট ১ হাজার ২৫০ কোটি ঘণ্টা কাজ করছেন। ‘টাইম টু কেয়ার’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে অক্সফাম জানায়, সংস্থার হিসাবে নারীদের মজুরিহীন সেবা কাজ প্রতি বছর বিশ্ব অর্থনীতিতে অন্তত ১০ লাখ ৮০ হাজার কোটি ডলার মূল্য যোগ করছে। এটি প্রযুক্তিশিল্পের যোগ করা মূল্যের তিনগুণেরও বেশি।

অক্সফাম ইন্ডিয়ার প্রধান নির্বাহী অমিতাভ বেহার বলেন, ‘যে অর্থনীতি আমরা দেখছি সত্যিকারভাবে নারীদের মজুরিহীন সেবাই তার অলক্ষ্যে থাকা চালিকাশক্তি। আমাদের এখানে নজর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এটার পরিবর্তন হওয়া দরকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কারণে ধনকুবেরদের পকেট ভর্তি হচ্ছে। বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণ নারী-পুরুষের প্রাপ্য অর্থ দিচ্ছে না।’ বেহার বিশ্ব অর্থনীতির অসাম্যের মাত্রা দৃষ্টিগোচর করার জন্য বুচু দেবী নামে ভারতীয় এক নারীর জীবন তুলে ধরেন।

তিনি জানান, বুচু দেবী প্রতিদিন ১৬ থেকে ১৭ ঘণ্টা কাজ করেন। তিনি হেঁটে তিন কিলোমিটার দূর গিয়ে সেখান থেকে পানি নিয়ে আসেন, তারপর রান্না করেন, ছেলেমেয়েদের স্কুলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত করেন এবং নিম্নমজুরির একটি কাজ করেন।

তিনি বলেন, ‘বুচু দেবীর অপরদিকে আপনি দেখেন, দাভোসে জমায়েত হওয়া ধনকুবেররা তাদের ব্যক্তিগত বিমান, ব্যক্তিগত জেট ও বিলাসবহুল জীবনধারা নিয়ে আছেন। এই বুচু দেবী শুধু একজনই নন। ভারতে প্রায় প্রতিদিন এ ধরনের নারীদের সঙ্গে আমার দেখা হয়, আর বিশ্বজুড়েই এই একই গল্প। আমাদের এটি পরিবর্তন করা দরকার আর নিশ্চিতভাবে এই ধনকুবেরদের বাড়বাড়ন্তেরও ইতি ঘটানো দরকার।’

এর প্রতিকারের জন্য ধনীদের কর দেওয়া সরকারগুলোর নিশ্চিত করা উচিত বলে মনে করেন বেহার। ওই করের টাকা পরিষ্কার পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও উন্নতমানের স্কুলের মতো সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে ব্যবহার করা উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের দিকে তাকিয়ে দেখুন ৩০টিরও বেশি দেশে প্রতিবাদ হচ্ছে। লোকজন রাস্তায় নেমে এসেছে। কী বলছে তারা? তারা এই বৈষম্যকে মেনে নেবে না, তারা এ ধরনের পরিস্থিতিতে আর জীবনযাপন করতে চাইছে না।’