মানবসম্পদ উন্নয়নে ২০,০০০ কোটি টাকার প্রকল্প

শিল্পকারখানা নির্মাণে জলাধার রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুর্ঘটনা হলে আগুন নেভানোসহ অন্যান্য প্রয়োজনে পানির সংস্থানে এই নির্দেশনা দেন তিনি। একই সঙ্গে বর্ষায় এসব জলাধারে বৃষ্টির পানি ধরে রাখারও কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় গতকাল এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান।  শিল্পকারখানায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয়ভাবে বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) স্থাপনের কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। উন্নয়ন প্রকল্পের সেবা যাতে একদিনও বিলম্ব না হয়, সেজন্য কাজ শেষ হওয়ার আগে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং প্রশিক্ষিত জনবল প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। দেশে আরও তিন শতাধিক টেকনিক্যাল স্কুল এবং কলেজ প্রতিষ্ঠা প্রকল্প প্রসঙ্গে জনবলের প্রতি এই গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

‘৩২৯টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন’ নামের এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য,  কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য হ্রাস ও  দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে দক্ষ জনবলের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে প্রবাসী আয় বাড়ানো। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ হাজার ৫২৬ কোটি টাকা। আগামী চার বছরে এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ করার কথা রয়েছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রী জানান, সাতটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে একনেক। অনুমিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২২ হাজার ৪৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২৮০ কোটি টাকার ভারতীয় ঋণ। বাকি অর্থ সরকারের নিজস্ব জোগান।

অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে বিসিক শিল্প পার্ক সিরাজগঞ্জ প্রকল্পের সংশোধনী। মোট ব্যয় এখন ৭১৯ টাকারও বেশি। ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে। মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের ভবন নির্মাণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪৩ কোটি টাকা। কিশোরগঞ্জ জেলার হাওর এলাকায় নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় অনুমোদন করা হয়েছে ৩৯৩ কোটি টাকা। ২৩৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজ স্থাপন প্রকল্পের সংশোধনী। ৩৩৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সাতক্ষীরার বেতগ্রাম-তালা-পাইকগাছা-কয়রা সড়ক যথাযথ মানে উন্নীতকরণ প্রকল্প। ৩৬৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয়ে লক্ষ্মীপুর শহর সংযোগ সড়ক ও লক্ষ্মীপুর-আলেকজান্ডার- সোনাপুর-মাইজদী মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প ও ৮৪৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ভোলা-পরান তালুকদার হাট-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প।