২৭ বীমা কোম্পানির ৪টি যাচ্ছে পুঁজিবাজারে

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির বাধ্যবাধকতা থাকলেও এখনো ২৭ বীমা কোম্পানি তা পরিপালন করতে পারেনি। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সব বীমা কোম্পানিকে তালিকাভুক্তির নির্দেশনা দিলেও নির্ধারিত সময়ে কোনো বীমা কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসতে পারেনি। তবে এখন পর্যন্ত মাত্র চার বীমা কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন জানিয়েছে। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে আইডিআরএ’র সদস্য গকুল চাঁদ দাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, এখন পর্যন্ত নয়টি বীমা কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে আমাদের কাছ থেকে অনুমোদন নিয়েছে, যার মধ্যে চারটি কোম্পানি তালিকাভুক্তির আবেদন করেছে। অবশিষ্ট পাঁচ কোম্পানি তালিকাভুক্তির আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আর যেসব কোম্পানি তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেনি, তাদের সঙ্গে চলতি মাসেই বৈঠক হবে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির আবেদন জানানো কোম্পানিগুলোর নাম হচ্ছে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স ও ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স। এছাড়া তালিকভুক্তির আবেদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, এলআইসি বাংলাদেশ, সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ও মেঘনা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড।

গত বছর ডিসেম্বরের মধ্যে পুঁজিবাজারের বাইরে থাকা বীমা কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্তির নির্দেশনা দেন অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল। বর্তমানে তালিকাবহির্ভূত বীমা কোম্পানি রয়েছে ২৭টি। এর অধিকাংশেরই আর্থিক ভিত্তি দুর্বল। এসব কোম্পানির মধ্যে মাত্র নয়টি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা রয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির। কোনো কোনো বীমা কোম্পানি ইতিমধ্যেই তালিকাভুক্তির উদ্দেশ্যে ইস্যু ম্যানেজার নিয়োগ দিয়েছে। তবে অর্থমন্ত্রীর বেঁধে দেওয়া সময়ে কোনো বীমা কোম্পানিই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারেনি।

নির্দেশনা অনুযায়ী, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়ার বাইরে রয়েছে আরও ১৮টি কোম্পানি। এসব কোম্পানির সবই পরিশোধিত মূলধনজনিত সমস্যায় রয়েছে। আর এর মধ্যে অন্তত নয়টি কোম্পানি রয়েছে লোকসানে।

শর্ত অনুযায়ী বীমা কোম্পানিগুলোর অনুমোদন পাওয়ার তিন বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পরও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়নি ২৭টি বীমা কোম্পানি। এর মধ্যে পুরনো কোম্পানি ১২টি ও নতুন ১৫টি। গত বছর ১৬ সেপ্টেম্বর পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক তালিকাবহির্ভূত কোম্পানিগুলোকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেয় আইডিআরএ। অন্যথায় বীমা আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সে সময় জানায় নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাটি।

পরবর্তীকালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়ার অগ্রগতি জানতে গত ১৭ ডিসেম্বর বীমা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে জরুরি বৈঠক করে আইডিআরএ। ওই বৈঠকে ২৭ বীমা কোম্পানির প্রতিনিধি ছাড়াও অর্থ মন্ত্রণালয় ও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধিও অংশ নেন। বৈঠকে ওই ২৭ বীমা কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি পর্যালোচনা করা হয়। এতে দেখা গেছে, মাত্র নয়টি কোম্পানির এখনই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার সক্ষমতা রয়েছে।

আইডিআরএ সদস্য ড. এম মোশাররফ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ১৮টি কোম্পানির এই মুহূর্তে তালিকাভুক্তির আবেদন জানানোর অবস্থায় নেই। আইপিওতে (প্রাথমিক গণপ্রস্তাব) ন্যূনতম মূলধনের যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা পূরণ করতে পারেনি এসব কোম্পানি। আবার মূলধন বিষয়ে আইডিআরএ ও এসইসির আইনে কিছু জটিলতা রয়েছে। এছাড়া অধিকাংশ কোম্পানিই লোকসানে রয়েছে, যা আইপিওর বিধি অনুযায়ী তালিকাভুক্তির যোগ্যতা নেই। এমন কিছু সমস্যা রয়েছে কোম্পানিগুলোতে। তবে এগুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে।

পুরনো যেসব কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির বাধ্যবাধকতা পরিপালনে ব্যর্থ হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স, গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্স, মেঘনা ইন্স্যুরেন্স, ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স, ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স ও সাউথ এশিয়া ইন্স্যুরেন্স। এর বাইরে ২০১৩ সালে নতুন ১৫টি বীমা কোম্পানির লাইসেন্স দেয় আইডিআরএ। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর কয়েকটি কোম্পানি দুই বছর সময় বাড়িয়ে নেয়। কিন্তু সে সময় পার হলেও পুঁজিবাজারে আসেনি তারা।