বিজিএমইএ ভবন পুরোপুরি অপসারণে ছয় মাস সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। তিনি বলেছেন, ‘ভবন ভাঙার দায়িত্ব নিয়ে বিজিএমইএ কর্র্তৃপক্ষ যে প্রক্রিয়া করতে চেয়েছিল, তা অনিশ্চিতকাল ধরে চলতে পারত। ফলে আমরা মনে করি, রাষ্ট্রের দুটি টাকা বড় কথা নয়। বড় কথা এই জায়গাটিকে পরিষ্কার করা। আর এ ক্ষেত্রে আমাদের কোনো টাকাও ব্যয় হচ্ছে না। যারা এই ভবনটি ভাঙছেন, তারাই রাষ্ট্রকে টাকা দিচ্ছে। এটা বিজিএমইএ-কে বাঁচানোর কোনো বিষয় নয়।’ গতকাল বুধবার দুপুরে বিজিএমইএ ভবন ভাঙার কাজ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে, পোশাক খাত আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বড় একটি
খাত। আমরা দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেছি, তারা ভেঙে নিচ্ছে না। তাহলে আমরা কি আরও অপেক্ষা করব? সরকারের দায়িত্ব জনগণ ও রাষ্ট্রের জন্য যেটা করণীয়, সেটা করা। সর্বোচ্চ আদালতের রায় রয়েছে। এটা ভাঙার দায়িত্ব আমাদের।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের সুন্দর ঢাকার দৃষ্টিনন্দন হাতিরঝিলের ওপর অপরিকল্পিত ও বেআইনিভাবে বিজিএমইএ ভবনটি গড়ে উঠেছিল। সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা এটি অপসারণ করার জন্য পরিকল্পনা নিই। আমরা পত্রিকায় টেন্ডারে বিজ্ঞাপন দিয়েছি। সর্বোচ্চ দরদাতা তাদের টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে অপারগতা প্রকাশ করেন। এরপর আমরা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতাকে ভবন ভাঙার দায়িত্ব দিয়েছি। তারা ৬ মাসের মধ্যে ভবনটি অপসরণ করবে।’
তিনি আরও বলেন, অপসারণ কার্যক্রম দেখভাল করার জন্য বুয়েটের প্রতিনিধি, সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি, রাজউকের প্রতিনিধি, ফায়ার সার্ভিস প্রতিনিধির টিম থাকবে। এমনকি নগর ও ইমারত বিশারদদের নিয়ে একটি টিম করা হয়েছে। তার সার্বক্ষণিকভাবে এই কর্মকাণ্ড দেখভাল করবেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রেজাউল করিম বলেন, ‘কোনোভাবেই যাতে র্যাংগস ভবনের মতো প্রাণহানি না ঘটে, পরিবেশ বিপন্ন না হয়, সেজন্য সব প্রস্তুতি আমরা রেখেছি। আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় কোনো উপায়ে ভবনটি ভেঙে ফেলা যায় কি না। কিন্তু বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ও ভেবেচিন্তে দেখা গেল, এই ভবনের পাশে ফাইভ স্টার হোটেলসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান আছে। ওভাবে ভবন অপসরণ করতে গেলে তার যে গতিবেগ বা শক্তি তা চারদিকে থাকা ভবনগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ধুলো বাতাসে ছড়িয়ে পরিবেশও নষ্ট হতে পারে। সেজন্য আমরা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভাঙার প্রস্তুতি নিয়েছি।’
গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক বাড়ির পয়ঃনিষ্কাশন পাইপ গোপনে হাতিরঝিলে সংযোগ দেওয়ার মতো দায়িত্বহীন কাজ করা হয়েছিল। আমরা সব লাইন বন্ধ করেছি। আমরা অস্ট্রেলিয়ার একটি প্রযুক্তি নিয়ে এসেছি, সেটি ব্যবহার করে পানিকে প্রতিদিন প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। কোনো রকম দুর্গন্ধ আর আসবে না।’
যারা ভবনটির অনুমোদন দিয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, জানতে চাইলে গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, ‘ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে একবার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, একবার উদ্বোধনের মতো ঘটনা ঘটেছে। ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে রোগ সারাতে হবে। রোগ কী কারণে হয়েছে, সেটা আমরা গবেষণা করব।