চাকরির বড় বাজার বিডিজবস

সারা পৃথিবীতে তখন ঘোর লাগা একসময়। একবিংশ শতাব্দী আসি-আসি করছে। দেশে দেশে শুরু হয়েছে ইন্টারনেট-বিপ্লব। সেই বিপ্লবের আঁচ বাংলাদেশে ওই অর্থে লাগেনি। কিন্তু লাগবে বলে একজন ঠিকই ভেবেছিলেন। সেই ভাবনার দুয়ারে বন্ধুদের নিয়ে টোকা দিলেন নিজেদের ‘অভিজ্ঞতা আর দক্ষতা’ দিয়ে। তাতে বিডি জবস নামের এমন এক মডেল দাঁড় করালেন, যা আজকের দিনে বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের সফলতম অর্জন।

এ কে এম ফাহিম মাশরুর। অনলাইনে চাকরি খোঁজার মাধ্যম বিডি জবসের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী। ২০০০ সালে আট বন্ধুকে নিয়ে, দুটি কম্পিউটারে ঢাকায় নিজের বাসায় বিডি জবস শুরু করেন। প্রথম তিন বছর কোনো আয় হয়নি! তাই বলে হতাশ হয়ে পড়েননি। সেই বছর বিশেক আগে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করে, আজকের সময়ের অপেক্ষায় ছিলেন। এখন তিনি বিডি জবসসহ ‘আজকের ডিল’ এবং ‘বেশতো’র মতো কোম্পানির মালিক। ‘তখন ইন্টারনেট সবেমাত্র শুরু হয়েছে। অনেক হইচই হচ্ছিল। বয়সে তরুণ বলে অন্য সবার মতো টেকনোলজি নিয়ে আমারও আগ্রহ ছিল,’ সোনারগাঁও মোড়ে আজকের ডিল অফিসে বসে দেশ রূপান্তরকে বিডি জবসের শুরুর গল্প শোনাচ্ছিলেন ফাহিম মাশরুর, ‘তখন আমার মনে হলো প্রযুক্তিবিষয়ক এমন কিছু করি, যা নতুন। এরপর বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করে কাজে নেমে পড়ি। আটজনের মধ্যে পাঁচজনই এখন বাইরে। কেউ কেউ শেয়ারহোল্ডার হিসেবে আছেন।’বাংলাদেশের প্রযুক্তি জগতের এই আইকন পড়ালেখা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিষয়ে। এরপর আইবিএ থেকে পাস করে বেক্সিমকো গ্রুপে ইকোনমিস্ট হিসেবে যোগ দেন। সেখান থেকে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের একটি প্রজেক্টে আসেন। কিন্তু ব্যবসা যাকে দুহাত নেড়ে ডেকেছে, চাকরি কী তাকে আর মানায়। একসময় চাকরি ছেড়ে দেন! ‘আমি আসলে নিজে কিছু করতে চেয়েছিলাম। আউট অব দ্য বক্স চিন্তা করতে ভালো লাগে। গতানুগতিক ধারা থেকে বের হওয়ার একটা প্রবণতা সব সময় আমার থাকে। অন্যরা যা করে, আমি তা করতে চাই না।’

মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান ফাহিম মাশরুর এভাবে চাকরি ছাড়ার গল্প শোনান। জানান, পরিবারের কারণেই চাকরিটা ছেড়ে দিতে সাহস পান। অন্যদের মতো তার ওপর পরিবারের অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা ছিল না। মাশরুরের কথায়, ‘পরিবারের দিক থেকে আমি ভাগ্যবান। আমার পরিবার আমাকে সমর্থন করেছিল। অধিকাংশ পরিবার তার ছেলেমেয়েদের আয়ের ওপর নির্ভর করে। আমার ক্ষেত্রে এমন ছিল না। সেটা আমাকে ইতিবাচক সাহায্য করেছে। আমি যেন নিজে থেকে কিছু করি, পরিবার এ ব্যাপারে সব সময় উৎসাহ দিত।’কাজে নামার পর ফাহিম মাশরুর বুঝতে পারেন দেশের মানুষকে অনলাইনে চাকরি খোঁজার অভ্যাসে আনা সহজ হবে না। তাই রাতারাতি সাফল্যের কথা চিন্তা না করে নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পোড়-খাওয়া উদ্যোক্তার মতো পরিকল্পনা করেন, ‘বাংলাদেশে এমন একটি নতুন আইডিয়াকে সফল করতে শুরুতেই লাভের চিন্তা করিনি। ব্যবসা নিয়ে পড়াশোনা ছিল, আশপাশের পরিবেশ বিশ্লেষণ করতে পারতাম। একই সঙ্গে ট্রেনিং ছিল বলেই বাস্তবতা বুঝতে পেরেছিলাম। ব্যবসায়িক সাফল্য যে সহজে আসবে না, সেটা জানতাম।’ ‘বাস্তবতা বুঝতে পেরেই ধৈর্য ধরে এগিয়েছি। অনলাইনে চাকরি খুঁজতে মানুষকে অভ্যস্ত করিয়েছি। তখনই বুঝতে পেরেছিলাম এই আইডিয়া থেকে লাভ করতে পাঁচ-ছয় বছর লেগে যাবে।’ ফাহিম মাশরুর জানান, শুরুর দিকে তারা পত্রিকা কেটে কেটে সাইটে বিজ্ঞাপন বসাতেন। এরপর চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে গিয়ে তাদের বোঝাতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তারাও বুঝতে পারে এখানে বিজ্ঞাপন দিতে খরচ যেমন কম, তেমনি সাড়া পাওয়ার সম্ভাবনাও খারাপ না। এভাবে প্রথম আয় শুরু হয় ২০০৩-০৪ সালের দিকে। সেই সময় ৩০০ টাকার বিনিময়েও বিজ্ঞাপন নিতেন তারা। অর্থনীতির ছাত্র হয়েও প্রযুক্তি জগতে সফল হওয়ার পেছনে কোনো ‘ম্যাজিকাল’ কারণ নেই ফাহিম মাশরুরে জীবনে। বরং এই অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনাই তাকে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। তিনি বলেন, ‘ম্যাজিকাল কিছু নেই। আমরা যথেষ্ট চিন্তাভাবনা এবং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নিয়ে শুরু করেছিলাম।’ ‘আমার কাছে উদ্যোক্তা হওয়াই মূল কথা। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, উদ্যোক্তা হলে সমাজ, অর্থনীতি এবং ব্যবসা সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি। অর্থনীতিতে পড়াশোনা আমাকে এই ধারণা নিতে সাহায্য করেছে। আশপাশের অর্থনীতি কীভাবে চলছে, সেটি আমার বুঝতে সুবিধা হয়েছে।’ দীর্ঘ এই পথচলায় নিজের চোখের সামনেই বাংলাদেশের চাকরির বাজার পরিবর্তন হতে দেখেছেন তিনি। দেশে গ্র্যাজুয়েটদের সংখ্যা বাড়লেও চাকরির সুযোগ সেভাবে না বাড়ায় বেকারত্বের সংখ্যা বাড়ছে বলে মনে করেন তিনি, ‘বাংলাদেশের চাকরির বাজারে গত ১০-১৫ বছরে বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে পরিবর্তন হয়েছে। আমাদের গ্র্যাজুয়েটের সংখ্যা দু-তিন গুণ বেড়েছে। আগে সারা বছরে হয়তো এক লাখের মতো গ্র্যাজুয়েট পাস করত, এখন সেটা প্রায় তিন লাখ হয়ে গেছে। কিন্তু এত বেশি চাকরির সুযোগ তৈরি হয়নি। চাকরির সুযোগ আজ থেকে পাঁচ বছর আগে যেমন ছিল, এখন একটু বাড়লেও প্রায় একই বলা চলে। এখানে গ্র্যাজুয়েটদের বেকারত্বের একটা সমস্যা তৈরি হচ্ছে।’ গত দশকে চাকরি নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের ভাবনায়ও এসেছে পরিবর্তন। এখন সরকারি চাকরির প্রতি আগ্রহ সবার।

এমন পরিবর্তন নিয়ে মাশরুরের মন্তব্য, ‘গত কয়েক বছরে সরকারি বেতন কাঠামো অনেক বাড়ানো হয়েছে। প্রতি দু-তিন বছর পরপরই সরকার এটা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ জন্য সরকারি চাকরির প্রতি সাধারণ মানুষের অতিরিক্ত আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আগে মানুষ ভাবত মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে কিংবা বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করবে। এখন সবাই সরকারি চাকরি নিয়ে ভাবে।’ফাহিম মাশরুর বলছেন কোনো কোনো ক্ষেত্রে আবার যোগ্য লোকও পাওয়া যাচ্ছে না, ‘আমরা অনেক সেক্টরে যোগ্য লোক পাচ্ছি না। সে জন্য বিদেশ থেকে লোক এনে কাজ করাতে হচ্ছে।’ তার তিনটি প্রতিষ্ঠানে এখন ৫০০-এর মতো লোক কাজ করছেন। বিডি জবসে দিনপ্রতি গড়ে ভিজিটর দুই থেকে আড়াই লাখ। আজকের ডিল এবং বেশতোও এগিয়ে চলছে। কীভাবে এত কিছু সামলান? ‘আমি মনে করি একজন মানুষ একসঙ্গে দশটা প্রতিষ্ঠানও চালাতে পারে, যদি তিনি তার সময়টা ক্রিয়েটিভলি বরাদ্দ করতে পারেন।’ ‘বিডি জবসে এখন আমার খুব বেশি সময় দেওয়া লাগে না। এই ২০ বছরে ভালো একটা ম্যানেজমেন্ট তৈরি হয়ে গেছে। আমি হয়তো স্ট্র্যাটেজিক দিকটা বেশি দেখি। অপারেশনটা দেখি না। আজকের ডিলটা বেশিদিন হয়নি বলে এখানে বেশি সময় দিই। বেশতো হচ্ছে একটা সোশ্যাল মিডিয়া সাইট। সেখানে খুব বেশি সময় দেওয়া লাগে না।’ ‘বিডি জবসের শুরুতে অনেক সময় দিতে হতো। কারণ তখন টাকা-পয়সার একটা ব্যাপার ছিল। ইচ্ছা হলেই লোক নিয়োগ দিতে পারতাম না। তখন তো অল্প বিনিয়োগে ব্যবসা শুরু করেছিলাম। তিন বছরে সব মিলিয়ে খরচ হয়েছিল ১৫ লাখ টাকা।’ ‘তখন এই ধরনের কোম্পানিতে বাইরে থেকে বিনিয়োগ আনা সম্ভব ছিল না। ব্যাংকও লোন দিত না। তখন নিজেদেরই গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হতো।’

অনেক প্রতিষ্ঠান ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়, বিডি জবস এই বিষয়টা কীভাবে প্রতিরোধ করে? এমন প্রশ্নের জবাবে মাশরুর বলেন, ‘আমাদের দেশে চাকরি কম বলে প্রতারকরা এটি করার সুযোগ পায়। যেসব এজেন্সি দেশের বাইরে লোক পাঠায়, তারা এগুলো বেশি করে। আগে তারা এগুলো করার জন্য গ্রামে গ্রামে গিয়ে লোকদের কাছে টাকা চাইত। এখনো এটি হয়। তবে বেশি হয় অনলাইন মিডিয়ায়। তারা ফেইসবুকেও এগুলো করছে। যেহেতু আমরা সবচেয়ে জনপ্রিয় সাইট, তারা আমাদেরও ব্যবহার করতে চায়। আমরা দেখেছি, বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান আমাদের এখানে বিজ্ঞাপন দিতে চায়। কিন্তু তারা চাইলেই তাদের সঙ্গে আমরা কাজ করি না। আমরা তাদের প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা তদন্ত করি। তার সম্পর্কে না জেনে বিজ্ঞাপন দিতে দিই না। আমাদের লোক আছে, যারা তাদের অফিস ভিজিট করে। কাউকে সন্দেহ হলেই ব্লক করে দিই। তিন বছর আগে দু-একটা ঘটনা ঘটেছে, জানার সঙ্গে সঙ্গে তাদের ব্লকলিস্ট করেছি।’ ‘আমরা আরেকটি কাজ করি। যেকোনো জবের ক্ষেত্রেই চাকরিপ্রত্যাশীকে সচেতন করি। বিজ্ঞাপনের পাশে লেখা থেকে, এই চাকরির জন্য কেউ অর্থ লেনদেন করতে বললে আমাদের জানাবেন।’ বাংলাদেশের প্রতিবেশী অনেক দেশ গত কয়েক দশকে প্রযুক্তি খাতে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশ কিছুটা করলেও তাদের সঙ্গে পেরে ওঠেনি। এই পার্থক্যের কারণ খুঁজতে গিয়ে ফাহিম মাশরুর বলেন, ‘আমাদের দেশে অনেকের বাসায় কম্পিউটার নেই। ডেটা ব্যবহার করার মতো স্মার্টফোন নেই। ডেটা আবার ব্যয়বহুল।’ ‘সরকার কমিউনিকেশন গুরুত্বপূর্ণ মনে করে বলে পদ্মা সেতু হচ্ছে। গ্রামে গ্রামে ভালো রাস্তা হচ্ছে। এগুলোর মতো দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্রডব্যান্ড নিয়ে যাওয়া উচিত।’ ‘আমি হয়তো থ্রি-জি, ফোর-জির খরচ বহন করতে পারি। শহরের অন্য যারা মধ্যবিত্ত আছেন, তারা মাসে গ্রামীণ কিংবা রবিকে ৫০০-৬০০ টাকা দিলে গায়ে লাগে না। কিন্তু গ্রামের একজন প্রান্তিক মানুষ, যার হয়তো সারা মাসে আয়ই তিন হাজার টাকা, তিনি এখান থেকে ২০ কিংবা ২৫ শতাংশ টাকা ডেটার জন্য দিতে পারবেন না।

এটি সম্ভবও না। কারণ তার মৌলিক চাহিদা মেটাতেই টাকাগুলো খরচ হয়ে যায়। তাকে ইন্টারনেট ব্যবহার করাতে হলে ইন্টারনেট ফ্রি করাতে হবে। ফ্রি করানোর একমাত্র উপায় হচ্ছে সরকারি উদ্যোগে তৃণমূলে ব্রডব্যান্ড নিয়ে যাওয়া।’ সামনের ২০ বছরে ফাহিম মাশরুর বাংলাদেশকে এমন একটা জায়গায় দেখতে চান, যেখানে দেশের বৃহৎ একটা অংশ অনলাইনমুখী হবে। অন্তত ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশের সঙ্গে টেক্কা দেবে। ‘আশপাশের দেশের সঙ্গে তুলনা করলে দেখবেন আমরা পিছিয়ে আছি। চীনের কথা বাদ দিলাম। ভারত, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়াকে ধরি। এই দেশগুলো আমাদের মতোই জনবহুল। তারাও কিন্তু অনেক উন্নত ছিল না। কিন্তু ইন্টারনেটের মতো প্রযুক্তি তাদের জীবন অনেক পাল্টে দিয়েছে।’ ‘আমাদের মতো দেশ হচ্ছে ভিয়েতনাম বা ইন্দোনেশিয়া... আমি ভারতও বাদ দিলাম। এই দুটির দেশের ৩০ শতাংশ মানুষ অনলাইনে কেনাকাটা করে। সেখানে আমাদের দেশে মাত্র এক-শতাংশ। তাদের মাথাপিছু আয় আমাদের থেকে খুব বেশি না। তারা যদি পারে, আমরা কেন পারব না?’

‘এই দেশগুলোতে গিয়ে দেখেছি ইন্টারভিত্তিক অনেক মডেল সেখানে সফল হচ্ছে। আমাদের দেশে সফল মডেল খুঁজতে গেলে ঘুরেফিরে বিডি জবস কিংবা পাঠাওয়ের মতো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম আসবে। বড়জোর পাঁচ থেকে দশটা পাবেন। সেখানে ইন্দোনেশিয়া কিংবা ভারতে কয়েক হাজার সফল মডেল তৈরি হয়েছে।’ ‘আমার কাছে মনে হয়, বাংলাদেশেও এই সুযোগ আছে। কারণ আমাদের মার্কেটটা বড়।’ বাংলাদেশ ওইভাবে না সফল না হওয়ার আরও একটা ব্যাখ্যা আছে তার কাছে, ‘কারণ আসলে অনেক। কাঠামোগত সমস্যা আছে, ইন্টারনেট খরচ আবার আমাদের এখানে বেশি। আমাদের মতো দেশসহ পুরো এশিয়ায় মানুষ বেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করে মোবাইলের মাধ্যমে। আমাদের এখানে থ্রি-জি এবং ফোর-জির খরচ ভারতের থেকে তিন-চার গুণ বেশি! আমাদের ক্রয়-ক্ষমতা অনুযায়ী এটি একটি সমস্যা।’ ‘অনেক ক্ষেত্রে আমরা আবার সঠিক পলিসি করতে পারিনি। সরকারি পর্যায় থেকে সঠিক পলিসি দরকার।

লোকাল যারা তরুণ উদ্যোক্তা আছে, তাদের যেন এগিয়ে নেওয়া যায়, সেটি ভাবতে হবে।’ ফাহিম মাশরুরের এই ভাবনার জগৎ ধাবিত হয় একটা প্যাশনকে ঘিরে। যেকোনো কাজে সফল হওয়ার ক্ষেত্রে প্যাশনই তার মূলমন্ত্র। তরুণ উদ্যোক্তাদের সে কথা স্মরণ করিয়ে দিতে ভুললেন না এই টেক আইকন, ‘প্যাশন একটা ব্যক্তিগত ব্যাপার।

একজন মা তার সন্তানকে চাকরি ভেবে কিন্তু যত্ন নেয় না, এটি তার জীবনের অংশ। একজন উদ্যোক্তাকে সেভাবে ভাবতে হবে। কোথায় কাজ করছি, টাকা পাচ্ছি কি না এসব না ভেবে ভালোবাসা নিয়ে কাজ করতে হবে।’ সফল হওয়ার রহস্য বলতে বলতে ফাহিম মাশরুর ভেসে চলেন ‘শিল্পী’র শিল্পে, ‘শিল্পী যেভাবে তার সৃষ্টিকে ভালোবাসে, একজন উদ্যোক্তারাও উচিত সেভাবে নিজের কাজটাকে ভালোবাসা...।’