অকারণে বাড়তি বিমান ভাড়ায় হজ খরচ নির্ধারণে জটিলতা

বাড়তি বিমান ভাড়ার কারণে সরকার হজ প্যাকেজ চূড়ান্ত করতে পারছে না। জ¦ালানি তেলের দাম গত বছর একই সময়ের তুলনায় কমেছে এমনকি নতুন কোনো চার্জও আরোপ হয়নি এ অবস্থায় বাড়তি বিমান ভাড়া মেনে নিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে হজ এজেন্সিগুলোর সংগঠন হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)। ধর্ম মন্ত্রণালয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও হাবকে সঙ্গে নিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে হজের গুচ্ছ খরচের খসড়া চূড়ান্ত করে থাকে। পরে এই প্যাকেজ মন্ত্রিসভা অনুমোদন করে।

গত বছর হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া ছিল ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা। ২২ হাজার ৪৯৪ টাকা বাড়িয়ে চলতি বছর বিমান তা ১ লাখ ৫০ হাজার ৪৯৪ টাকা নির্ধারণ করে। বিমান গত ১ ডিসেম্বর ঢাকা-জেদ্দা ও মদিনা-ঢাকা রুটের ভাড়া নির্ধারণ করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। এরপরই শুরু হয় বিপত্তি। বিমান ভাড়া বাড়লে পুরো প্যাকেজের খরচ বাড়বে। যার প্রভাব পড়বে সাধারণ হজযাত্রীদের ওপর। এ কারণে শুরু থেকেই আপত্তি জানাতে থাকে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও হাব।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ৫৮ সেন্ট। গত বছর যা ছিল ৬৯ সেন্ট। গত বছরের তুলনায় জেট ফুয়েলের দাম কমেছে ১১ সেন্ট। পদ্মা অয়েল কোম্পানি বিমানকে শুল্কমুক্ত হারে জেট ফুয়েল সরবরাহ করে।

জেট ফুয়েলের দাম ছাড়াও ভাড়া নির্ধারণের অন্যান্য উপাদানগুলো হচ্ছে এজেন্ট

কমিশন, এমবারকেশন ফি, এক্সাইজ ডিউটি, এয়ারপোর্ট বিল্ডিং চার্জ, হজ টার্মিনাল সার্ভিস চার্জ ও সিকিউরিটি চার্জ। গত এক বছরে এসব চার্জে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

ভাড়া নিয়ে আপত্তি উঠলে বিমান বর্ধিত ভাড়া ১০ হাজার টাকা কমিয়ে হজযাত্রীদের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করে। গত রবিবার ভাড়া নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। বিমানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুনর্নির্ধারিত ভাড়া ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সম্মতিতেই নির্ধারণ করা হয়েছে।

কিন্তু হাব নেতারা পুনর্নির্ধারিত ভাড়াও মানতে নারাজ। তাদের সাফ কথা, গত বছর ১ লাখ ২৮ হাজার টাকায় হজযাত্রীদের পরিবহন করতে পারলে এবার কেন তা সম্ভব হবে না। বাংলাদেশি হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া অন্য দেশ থেকে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। প্রতিবেশী দেশ ভারত হজযাত্রী পরিবহনে আগ্রহী এয়ারলাইনস থেকে দরপত্র আহ্বান করে হজযাত্রীদের জন্য সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করে। কোনো এয়ারলাইনসকে দরপত্র ছাড়া হজযাত্রী পরিবহনের সুযোগ দেওয়া হয় না। বাংলাদেশ থেকেও হজযাত্রী পরিবহনে আগ্রহী এয়ারলাইনসসমূহ থেকে দরপত্র আহ্বান করে সর্বনিম্ন বিমান ভাড়া নির্ধারণ করা যায়। এতে হজযাত্রীদের অধিকার ও সুবিধাপ্রাপ্তি নিশ্চিত হবে।

হাব সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ডেডিকেটেড ফ্লাইটের মাধ্যমে এয়ারলাইনসগুলো হজযাত্রীদের বহন করার কথা। কিন্তু ৩০ থেকে ৪০ ভাগ হজযাত্রী সাধারণ শিডিউলে পরিবহন করে থাকে। একই ফ্লাইটে কম ভাড়ার সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে “অতিমূল্যের” হজযাত্রীদের বহন করা হয়। বছরের অন্যান্য সময়ে ওমরাহযাত্রীসহ অন্য যাত্রীদের একবার যাওয়া-আসার বিমান ভাড়া ৪৪ হাজার থেকে ৫৭ হাজার টাকা। সে ক্ষেত্রে দুবার যাওয়া-আসার খরচ হতে পারে ৮৮ হাজার থেকে ১ লাখ ১৪ হাজার টাকা। এক পথ খালি ফ্লাইটের ক্যাটারিং, ব্যাগেজ হ্যান্ডেলিং, ট্যাক্স ও ইনফ্লাইট সার্ভিস খাতে কোনো ব্যয় হয় না। তার ওপর খালি ফ্লাইট থাকার কারণে জ¦ালানি খরচ কম হয়। ওমরাহ ফ্লাইটসহ অন্যান্য ফ্লাইটে কখনই যাত্রী শতভাগ হয় না। ২০ থেকে ৩০ ভাগ আসন খালি থাকে। হজ ফ্লাইটের জন্য জিডিএস সিস্টেম কোম্পানিকে কোনো অতিরিক্ত টাকা দিতে হয় না। মার্কেটিং খাতেও কোনো খরচ নেই। এমনকি আইএটিএকেও কোনো টাকা দিতে হয় না। তারপরও কেন হজ ফ্লাইটের টিকিটের দাম বাড়বে?’

গত বছর হজ প্যাকেজ-১-এর খরচ ছিল ৪ লাখ ১৮ হাজার ৫০০ টাকা এবং প্যাকেজ-২-এর খরচ ছিল ৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। বিমান ভাড়া বাড়লে হজ প্যাকেজের খরচ গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি হবে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৩১ জুলাই হজ হবে। এ বছর হজযাত্রীর কোটা ১০ হাজার বাড়িয়ে ১ লাখ ৩৭ হাজার ১৯৮ জন নির্ধারণ করা হয়েছে। হজ ফ্লাইটের ‘অযৌক্তিক ও অনৈতিক’ ভাড়া কমানোর দাবি হাবের

হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) বলেছে, কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই ২০২০ সালের হজ ফ্লাইটের ভাড়া নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ বিমান। এটা হলে হজ ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। হাব হজযাত্রীদের বর্ধিত বিমানভাড়া প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

গতকাল রাজধানীর নয়াপল্টনের একটি হোটেলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন হাবের সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম। এ সময় হাবের অন্যান্য নেতা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত বছর হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া ছিল ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা। বাংলাদেশ বিমান কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন অজুহাতে ১২ হাজার টাকা ভাড়া বাড়িয়ে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে, যা অযৌক্তিক ও অনৈতিক।

সংবাদ সম্মেলনে দেশ রূপান্তরের এক প্রশ্নের জবাবে হাব সভাপতি বলেন, ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়ার সময় যুক্তি হিসেবে বিমানের পক্ষ থেকে ডলারের দাম ৭৫ সেন্ট বৃদ্ধির কথা তুলে ধরা হয়। সেটা মেনে নিলেও ১ হাজার ২০০ টাকার বেশি বৃদ্ধির কোনো যুক্তি তারা দিতে পারেনি। বিমান ভাড়া কমাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ চেয়েছে সংগঠনটি।