বেজোসের কেলেঙ্কারি ফাঁসের নেপথ্যে সালমান নাকি লরেন

পৃথিবীর শীর্ষ ধনী আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। ২০১৯ সালের শুরুতেই স্ত্রী ম্যাকেঞ্জির সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই ফাঁস হয় বন্ধুপতœী লরেন সানচেজের সঙ্গে তার গোপন সম্পর্কের নানা তথ্য ও ছবি। ২১ জানুয়ারি দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এসব তথ্য ফাঁসের নেপথ্যে ছিলেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। যদিও দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে অন্য কথা। লিখেছেন পরাগ মাঝি

বেজোসের কেলেঙ্কারি

২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি জেফ বেজোস ও তার স্ত্রী ম্যাকেঞ্জি যৌথ এক বিবৃতিতে তাদের বিচ্ছেদের কথা ঘোষণা করার কয়েক দিনের মধ্যেই বেজোস ও লরেন সানচেজের মধ্যকার গোপন সম্পর্ক প্রকাশ করে দেয় যুক্তরাষ্ট্রের একটি ম্যাগাজিন ‘দ্য ন্যাশনাল এনকোয়েরার’।

বেজোস-ম্যাকেনজির বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণা আসার পরই এর কারণ অনুসন্ধানে নেমে পড়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। এর মধ্যে এনকোয়েরার দাবি করে, তাদের কাছে রয়েছে বেজোসের প্রেমিকা সাবেক টিভি উপস্থাপিকা লরেন সানচেজের সঙ্গে অন্তরঙ্গ ছবি। স্ত্রী ম্যাকেনজির সঙ্গে বিচ্ছেদের ঘোষণা দেওয়ার তিন মাস আগেই এক প্রেমময় নৈশভোজে মিলিত হয়েছিলেন তারা। সেই অন্তরঙ্গ সময়ের বেশ কিছু ছবি প্রকাশ হয়ে যায়। তাতে দেখা যায়, স্ত্রীকে রেখে প্রেমিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়েছেন বেজোস। এর বাইরে লরেনকে উদ্দেশ করে লেখা তার নানা রগরগে খুদে বার্তাও ফাঁস হয়ে যায় অনলাইনে।

ম্যাগাজিনটির প্রতিবেদনে বলা হয়, সানচেজের কাছে জেফ বেজোস যেসব ছবি পাঠিয়েছেন, তা প্রকাশের অযোগ্য। এ ছাড়া রয়েছে যৌন উত্তেজনায় ভরপুর রগরগে সব খুদে বার্তা। এসবই শেষ নয়, স্ত্রী ম্যাকেনজির সঙ্গে বিছানায় বেজোসের কি কথা হতো, তাও প্রকাশ করে এনকোয়েরার।

এ বিষয়ে জেফ বেজোসের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বলেছিল, সানচেজের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার আগে থেকেই জেফ বেজোস ও স্ত্রী ম্যাকেনজি আলাদা ছিলেন। যদিও বিভিন্ন মহল থেকে দাবি করা হচ্ছে, অবৈধ সম্পর্ক ধরা পড়ার পরই পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন বেজোস দম্পতি।

লরেন সানচেজের স্বামী হলিউডের মুঘল বলে পরিচিত প্যাট্রিক হোয়াইটসেল ছিলেন বেজোসের বন্ধু। হোয়াইটসেল ও ম্যাকেনজি ২০১৭ সালের থ্যাংকসগিভিংয়ের সময়ই লরেনের সঙ্গে বেজোসের গোপন সম্পর্কের কথা জানতে পারেন। তারপর থেকে আরও অবাধ মেলামেশা শুরু করেন বেজোস ও লরেন। এ সময় তারা কখনো ব্যক্তিগত জেটে অভিসারে গিয়েছেন। মিলিত হয়েছেন অন্তরঙ্গ নৈশভোজে। একই বাসায়, একই বিছানায় রাত্রিযাপনও করেছেন। এরই মধ্যে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের শার্টহীন শরীরের ছবি তুলে লরেনকে পাঠিয়েছেন বেজোস। একটি ছবিতে তাকে দেখা যায় স্টিমি রুমে। সেখানে শুধু একটি তোয়ালে পরা ছিলেন বেজোস। লরেনের কাছে শুধু এসব সেলফিই নয়, নিজের গোপনাঙ্গেরও ছবি পাঠিয়েছেন তিনি।

এনকোয়েরার দাবি করে, তাদের হাতে যেসব ছবি আছে, তার মধ্যে একটি ছবিতে জেফ বেজোস শার্ট খোলা। তার বাম হাতে একটি ফোন ধরা। হাতে আছে বিয়ের আংটি পরা। তিনি পরে আছেন শরীরের সঙ্গে শক্তভাবে এঁটে থাকে এমন টাইট কালো প্যান্ট বা শর্টস। আর তাতে তার শরীরের অঙ্গবিশেষকে দেখা যায় উত্থিত অবস্থায়। এ ছাড়া তাদের কাছে আছে একটি বাথরুমে জেফ বেজোসের নগ্ন সেলফি। শরীরে শুধু একটি সাদা তোয়ালে ছাড়া আর কোনো পোশাক নেই। তার শরীরের বাকি সব অঙ্গ নগ্ন, দেখা যায় পরিষ্কার। সেখানে প্রেমিকা লরেন সানচেজ পরে আছেন গলা নামানো লাল পোশাক। তার ওপর দিয়ে বেরিয়ে আছে শরীরের ওপরের অংশের ভাঁজ।

ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ বেজোসের

কেলেঙ্কারি ফাঁসের ঘটনায় ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন জেফ বেজোস। লরেন সানচেজের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে তিনি অস্বীকার না করলেও কীভাবে তার ব্যক্তিগত তথ্য এনকুইরারের হাতে পৌঁছাল তা নিয়ে তদন্তের ঘোষণা দেন তিনি।

ব্লগপোস্টে তিনি দাবি করেছিলেন, কোমরের নিচের দিকের অংশের সেলফি প্রকাশ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাকে ব্ল্যাকমেইল করেছেন এনকোয়েরার প্রকাশক ডেভিড প্যাকার, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ।

যুক্তরাষ্ট্রের গসিপ জাতীয়, সেলিব্রেটিবিষয়ক ‘দ্য ন্যাশনাল এনকোয়েরার’-এর মালিক ডেভিড প্যাকার। জেফ বেজোস তার প্রেমিকা লরেনকে নিজের গোপনাঙ্গের যে ছবি পাঠিয়েছিলেন, তা প্রকাশ করে ওই ম্যাগাজিনটি। বেজোস দাবি করেন, কেলেঙ্কারি ফাঁসের আগে ওই ম্যাগাজিন থেকে তাকে একটি ইমেইল পাঠানো হয়। ম্যাগাজিনটির বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইল করতে চাওয়ার অভিযোগ তুলে ওই ইমেইল প্রকাশ করে দেন বেজোসও।

বেজোসের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই ইমেইলে প্রেমিকা লরেন সানচেজের শরীরের স্পর্শকাতর অংশগুলোর ছবি প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। বিশ্বের শীর্ষ ধনী বলেন, আমাকে ব্ল্যাকমেইল করা সত্ত্বেও তারা আমার কাছে যা পাঠিয়েছে তা প্রকাশ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাতে হয়তো আমার ব্যক্তিগত সম্মানহানি হবে।

এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক পোস্ট একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। তারা প্রথম পৃষ্ঠায় বড় করে প্রকাশ করেÑ ‘বেজোস এক্সপোজেস পেকার’ শীর্ষক প্রতিবেদন। এতে সেক্স, ক্ষমতা ও হোয়াইট হাউজবিষয়ক রাজনীতি ও স্ক্যান্ডাল ফুটে ওঠে। বেজোস ও লরেন সানচেজের মধ্যে প্রেমের ‘কাহিনী’ যেন আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মতো উদ্গীরিত হতে থাকে।

যেভাবে দৃশ্যপটে সালমান

কেলেঙ্কারি ফাঁসের ঘটনায় শেষ পর্যন্ত আমাজন প্রধান জেফ বেজোসের মোবাইল ফোনে আড়ি পাতার অভিযোগ উঠেছে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি এই বিস্ফোরক অভিযোগ মিলেছে ‘দ্য গার্ডিয়ান’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদে।

ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, হ্যাকিংয়ের ঘটনার তদন্তে বেজোসের ফোনটির ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ওই ফোন থেকে তথ্য চুরির ঘটনা ঘটে ২০১৮ সালে। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তার মোবাইল ফোনে মোহাম্মদ বিন সালমানের অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ভাইরাসযুক্ত ভিডিও ফাইল পাঠানো হয়েছিল সে সময়। ওই ভিডিও ফাইল ডাউনলোডের সূত্র ধরে বেজোসের ব্যক্তিগত তথ্য হাতানো শুরু হয়। ওই ঘটনার আট মাসের মধ্যেই এনকোয়েরার পত্রিকাটি বেজোস ও লরেন সানচেজের মধ্যে গোপন প্রণয়ের কথা ফাঁস করে দেয়।

সালমানের পাঠানো হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিওতে কী ছিল সে সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। তবে, চলচ্চিত্র নির্মাতা ব্রায়ান ফোগেল বলেন, ওই ভিডিও ফাইলটিতে পেগাসাস নামে একটি হ্যাকিং সফটওয়্যার ছিল। পেগাসাস নামের আলোচিত ওই হ্যাকিং সফটওয়্যারটি একটি ইসরায়েলি টেকনোলজি ফার্মে তৈরি করা হয়েছে। এই ভাইরাসে আক্রান্ত ফোনের মেসেজ থেকে শুরু করে ফোন কলও ট্রেক করতে পারে হ্যাকাররা। এ ছাড়া আক্রান্ত ফোনের গুরুত্বপূর্ণ নানা পাসওয়ার্ডও হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ফোনটি কোথায় অবস্থান করছে, তাও জানা সম্ভব। ফোনের মাইক্রোন, ক্যামেরা এবং এতে থাকা বিভিন্ন অ্যাপসও হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে।

জানা গেছে, বেজোসের ফোনে ভাইরাসটি প্রবেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার বিপুলসংখ্যক ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে নেয় হ্যাকাররা।

আলোচনায় খাশোগি হত্যাকাণ্ডও

সৌদি বংশোদ্ভূত জামাল খাশোগি দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের একজন সাংবাদিক ও লেখক ছিলেন। এর আগে তিনি সৌদি আরবের ‘আল-আরব’ নিউজ চ্যানেলের ব্যবস্থাপক এবং মুখ্য সম্পাদকের পদে নিযুক্ত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে অবস্থিত সৌদি দূতাবাসে সৌদি আরবের সরকারি প্রতিনিধিদের দ্বারা গুপ্তহত্যার শিকার হন। ঠিক কীভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে তা এখনো অজানা। কারণ তার দেহ এখনো উদ্ধার এবং পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, কেলেঙ্কারি ফাঁসের ঘটনায় টাইম ম্যাগাজিনের ব্লগপোস্টে এনকোয়েরার পত্রিকাটির সঙ্গে সৌদি আরবের আর্থিক লেনদেন থাকার অভিযোগ করেছিলেন বেজোস। তিনি এও জানিয়েছিলেন, ওয়াশিংটন পোস্টে জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কিত ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের জন্য সৌদি কর্র্তৃপক্ষ বেজোসের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের এই পত্রিকাটির মালিক বেজোস।

ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই সৌদি আরবের টার্গেটে পরিণত হন বেজোস। যদিও খাশোগি হত্যাকাণ্ডের আরও পাঁচ মাস আগেই তার ফোন হ্যাক করতে সক্ষম হয় সৌদি কর্র্তৃপক্ষ। জাতিসংঘের দুজন তদন্তকারী এই হ্যাকের বিষয়টি সম্প্রতি নিশ্চিত করেছেন।

তবে, ওয়াশিংটনে অবস্থিত সৌদি দূতাবাস এক বিবৃতিতে মোহাম্মদ বিন সালমান কর্র্তৃক বেজোসের ফোন হ্যাক করার ঘটনাটিকে ‘অবাস্তব’ বলে মন্তব্য করেছে। নরওয়েতে বাস করা ফিলিস্তিনি গবেষক ইয়াদ এল-বাগদাদি এক টুইট বার্তায় দাবি করেছেন, এক অনুষ্ঠানে বেজোস এবং মোহাম্মদ বিন সালমান নিজেদের ফোন নম্বর আদান-প্রদান করার কয়েক দিনের মধ্যেই ওই হ্যাকিংয়ের ঘটনাটি ঘটে। বেজোসকে লক্ষ্যবস্তু করে সৌদি প্রোপাগান্ডা বিষয়ে তদন্ত করছিলেন বাগদাদি।

যেভাবে হ্যাকিং ও অপরাপর ঘটনা

জানা যায়, এনকোয়েরার পত্রিকার প্রকাশক ডেভিড প্যাকার ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি যুবরাজ সালমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। পরে যুবরাজ সালমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরকে সামনে রেখে ২০১৮ সালের এপ্রিলে এনকোয়েরার পত্রিকাটির এক ম্যাগাজিনে সৌদি আরব এবং যুবরাজ সালমানের প্রশংসা করে ৯৭ পৃষ্ঠার এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ‘দ্য নিউ কিংডম’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে যুবরাজ সালমানের আমলকে সৌদি আরবের স্বর্ণযুগ হিসেবে আখ্যায়িত করে এনকোয়েরার।

এদিকে, একই মাসে অর্থাৎ ২০১৮ সালের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় লস অ্যাঞ্জেলসে হলিউডের পরিচালক ব্রায়ান গ্রেজারের দেওয়া এক ডিনার পার্টিতে দেখা হয় বেজোস ও সালমানকে। দেখা হওয়ার পর তারা একে অপরের ফোন নম্বর আদান-প্রদান করেন। এ ঘটনার কয়েক দিন পর ২০১৮ সালের ১ মে বিকেলে সালমানের ফোন থেকে হোয়াটসঅ্যাপে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ভিডিও মেসেজ আসে বেজোসের ফোনে। এর আগেও এই দুজনের মধ্যে একই প্ল্যাটফরমে দু-একবার মেসেজ আদান-প্রদান করলেও সেদিনের মেসেজটি ছিল অনেকটা অপ্রত্যাশিত। ওপেন করার আগে ভিডিও ফাইলটিকে সৌদি আরব ও সুইডেনের পতাকা দেখা যাচ্ছিল। আর আরবি অক্ষরে কিছু একটা লেখা ছিল। বেজোসের আইনফোন অ্যাক্স ফোনটির ফরেনসিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৪ দশমিক ৪ মেগাবাইটের ওই ভিডিও ফাইলটিতেই লুকিয়ে ছিল স্পাই মেলওয়্যার। সরল বিশ্বাসে ওই ভিডিও ওপেন করেই নিজের ফোনে সৌদি কর্র্তৃপক্ষের অনুপ্রবেশের সুযোগ করে দেন বেজোস।

ওই ঘটনার ৫ মাস পর ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে ঘটে জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ড। এই হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করতে থাকে বেজোসের পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্ট। একপর্যায়ে খাশোগি হত্যাকাণ্ডের তিন মাসের মধ্যেই ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে লরেন সানচেজের সঙ্গে বেজোসের কেলেঙ্কারি ফাঁস করে দেয় এনকোয়েরার। আর কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার কয়েক দিন আগেই দাম্পত্য জীবন অবসানের ঘোষণা দিয়েছিলেন বেজোস ও ম্যাকেনজি দম্পতি।

কেলেঙ্কারি ফাঁসের পরপরই বেসরকারি তদন্তকারী গ্যাভিন ডি বেকারকে তথ্য ফাঁসের ঘটনায় অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেন জেফ বেজোস। ২০১৯ সালের মার্চে বেজোসের ব্যক্তিগত তদন্ত কর্মকর্তা ডি বেকার ফোন হ্যাক করার জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করে। ডি বেকার বলেন, এনকোয়েরার প্রকাশক প্যাকারের সঙ্গে যুবরাজ সালমানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার আগে সৌদি সরকার বেজোসের মোবাইল ফোন হ্যাক করে তথ্য হাতিয়েছিল বলে তিনি বিশ্বাস করেন। নিজের দাবির সপক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দাখিল করেননি সেই সময়, তবে ওই সংবাদমাধ্যম কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে সৌদি সরকারের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন।

সৌদি কর্র্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে প্রতিক্রিয়া জানায়। অবশেষে গত ২১ জানুয়ারি বেজোসের ফোন হ্যাকের মূল হোতা হিসেবে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নাম প্রকাশ করে ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ান।

এদিকে, সৌদি আরব এবং এনকোয়েরার পত্রিকা থেকে দাবি করা হয়েছে, বেজোস ও সানচেজের মধ্যকার গোপন সম্পর্ক ফাঁসে মোহাম্মদ বিন সালমানের কোনো হাত নেই। এ বিষয়ে বেজোসের এক আইনজীবী দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকাকে বলেন, ‘তদন্তে বেজোস সহায়তা করছেন, এ ছাড়া আমার আর কিছু বলার নেই।’

সালমান নয়, লরেনের কাছ থেকে ফাঁস

বেজোস ও লরেন সানচেজের মধ্যকার গোপন সম্পর্ক ফাঁসের নেপথ্যে সৌদি যুবরাজ মোহম্মদ বিন সালমানের খবরটি বাসি হতে না হতেই নতুন খবর দিয়েছে মার্কিন প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।

পত্রিকাটি জানিয়েছে, কেলেঙ্কারি ফাঁস করে দেওয়া এনকোয়েরার পত্রিকাটির কাছে গোপন ছবি ও বার্তাগুলো পাঠিয়েছিলেন লরেন সানচেজেরই ভাই মাইকেল সানচেজ। জানা গেছে, লরেন সানচেজ নিজেই ওই ছবিগুলো তার ভাইকে দিয়েছিলেন। পরে এগুলো এনকোয়েরার পত্রিকার কাছে দুই লাখ ডলারে বিক্রি করে দেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করলেও অন্তত চারটি সূত্রের বরাত দিয়ে কীভাবে ছবি ও বার্তাগুলো আদান-প্রদান করা হয়েছে, তা জানায় নিউ ইয়র্ক টাইমস। এ ক্ষেত্রে মাইক্যাল সানচেজ ও এনকোয়েরার পত্রিকার প্রকাশক সংস্থা ‘আমেরিকান মিডিয়া ইংক’-এর মধ্যকার একটি চুক্তিপত্রও প্রকাশ করেছে পত্রিকাটি।

তবে, এর আগে এক বক্তব্যে মাইক্যাল সানচেজ বেজোসের খুদে বার্তা ফাঁসের দায় মেনে নিলেও তার গোপনাঙ্গের ছবি ফাঁসে নিজের সম্পৃক্ততাকে অস্বীকার করে।

শুরু থেকে এনকোয়েরার পত্রিকাও দাবি করে আসছিল যে, মাইক্যাল সানচেজের কাছ থেকেই তারা যাবতীয় তথ্য ও ছবি পেয়েছিল। তবে, তথ্যফাঁসের ঘটনায় অধিকতর তদন্তের ঘোষণা দিয়ে ব্যক্তিগত তদন্তকারী ডি বেকারকে নিয়োগ করেছিলেন বেজোস।