১০ দিনেই হাজার শয্যার হাসপাতাল

মহাপ্রাচীর থেকে শুরু করে সংক্ষুব্ধ সমুদ্রের বুকে দীর্ঘতম সেতু জানান দেয় অকল্পনীয় সব স্থাপনা নির্মাণে চীনের ঐতিহ্যগত দক্ষতার কথা। এগুলো ছাড়াও দেশে বা বিদেশে বিভিন্ন সময়ে নিজেদের নির্মাণ দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে দেশটি। নির্মাণ দক্ষতা কেবল বড় বড় স্থাপনার ক্ষেত্রেই নয়, বরং ওই সব স্থাপনা কতটা কম সময়ে করা যায় তার নজিরও রেখেছে চীন। বছর তিনেক আগে তারা মাত্র চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ প্ল্যাটফর্মের রেল স্টেশন তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল গোট বিশ্বকে। দেশটি এবার তাক লাগাতে যাচ্ছে মাত্র ১০ দিনের মধ্যে ১০০০ শয্যার একটি হাসপাতাল তৈরি করে। 

সম্প্রতি রহস্যজনক করোনাভাইরাসের আক্রমণে চীনের অনেক শহরই কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। গেল বছরের শেষের দিক থেকে শুরু হওয়া এই ভাইরাসের আক্রমণে ইতিমধ্যে দেশটিতে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ২৬ জন। আক্রান্ত হয়েছে সাড়ে আট শতাধিক মানুষ। ‘হাঁচি, কাশির মাধ্যমে’ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকায় দেশটির বেশ কয়েকটি শহরের প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষ কার্যত গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন। তাদের ঘর থেকে বাইরে বেরুতেই না করেছে কর্র্তৃপক্ষ। পাশাপাশি আক্রান্তদের চিকৎসাসেবা নিশ্চিত করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছে স্বাস্থ্য কর্র্তৃপক্ষ। সাধারণ হাসপাতালে আক্রান্ত থেকে অন্যদের মধ্যে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকায় নেওয়া হয়েছে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ। মাত্র দশ দিনের মধ্যেই তার কাজ শেষ হবে, শুরু হবে সেবা। 

ভাইরাসটিতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের শহর উহানেই তৈরি হচ্ছে হাসপাতালটি। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার থেকেই প্রায় ২৫ হাজার বর্গমিটারের হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি থেকেই সেখানে শুরু হবে চিকিৎসাসেবা।

সিনহুয়ার খবরে বলা হয়েছে, ২০০৩ সালে সার্স ভাইরাসের আক্রমণের পর পেইচিংয়ের এক গ্রামীণ এলাকায় যেভাবে দ্রুত একটি হাসপাতাল তৈরি করা হয়েছিল উহানের নতুন হাসপাতালটিও অনেকেটা সে রকম। তবে এবারের হাসপাতালটি আগেরটির চাইতে বড় আর সময়ও লাগবে অনেক কম। 

সিসিটিভির সংবাদে দেখানো হয়েছে বিশাল এলাকা জুড়ে কাজ করছে অসংখ্য খননযন্ত্র। শত শত ট্রাকে করে নেওয়া হচ্ছে যন্ত্রপাতি। সিসিটিভিও আশা করছে ৩ ফেব্রুয়ারি থেকেই সেখানে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া শুরু হবে।