ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দক্ষিণের ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী সাইদুর রহমান রতনের প্রচারে দুই দফায় হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রতন বলছেন, ওয়ার্ডে তার প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী মোহাম্মদ হোসেনের লোকজন গতকাল শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে কামরাঙ্গীরচরের বড়গ্রাম এলাকার ইসলাম চেয়ারম্যান বাড়ির মোড়ে তার সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তার নির্বাচনী অফিসের আসবাব ভাঙচুরের পর তাতে আগুন ধরিয়ে
দেওয়া হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে কুরারঘাট এলাকায় পোস্টার লাগানোর সময়ও তার সমর্থকদের ওপর হামলা চালায় মোহাম্মদ হোসেনের লোকজন। এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে মোহাম্মদ হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা দেশ রূপান্তরকে জানান, ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী বর্তমান কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন। ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগেরই চার নেতা বিদ্রোহী হয়েছেন। তারা হলেন-কামরাঙ্গীরচর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান রতন, কেরানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম, ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক বিল্লাল হোসেন ও মহিলা সম্পাদক অ্যাডভোকেট শিরিন। তিনি আরও জানান, এলাকার জনপ্রিয়তা ও জনসমর্থনে সাইদুর রহমান রতন অনেক এগিয়ে রয়েছেন। বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না কাউন্সিলর হোসেন। তাই তার নির্বাচনী কাজে প্রতিবন্ধকতা তৈরির জন্য দফায় দফায় হামলা চালিয়ে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করছেন।
বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী রতন গতকাল সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে দেশ রূপান্তরকে অভিযোগ করে বলেন, বিকেলে বড়গ্রাম এলাকায় ইসলাম চেয়ারম্যান বাড়ির মোড়ে পুলিশের সামনেই তার প্রচারে হামলা চালায় কাউন্সিলর প্রার্থী মোহাম্মদ হোসেনের লোকজন। একই এলাকায় তার বাড়ির নির্বাচনী অফিসের আসবাব ভাঙচুর করে। তারপর সেখানে আগুন ধরিয়ে দিয়ে চলে যায়। এরপর স্থানীয় লোকজন আগুন নিভিয়ে ফেলে। তিনি বলেন, তারা অফিসের টিভি, এসি, সোফা, মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে। এ ছাড়া তার ব্যক্তিগত ল্যাপটপটি নিয়ে গেছে। তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে কুরারঘাট এলাকায় পোস্টার লাগানোর সময়ও তার কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়। এতে আহত ১০ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পরপরই বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। গতকাল জুমার নামাজের পর তার রসুলপুরে নির্বাচনী প্রচারে যাওয়ার কথা ছিল জানিয়ে রতন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তার আগেই খবর পাই হোসেনের সমর্থকরা অস্ত্র, ইটপাটকেল ও চাপাতি নিয়ে বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান করছেন। বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করার পর কামরাঙ্গীরচর থানার ওসি আমাকে ওই এলাকায় না গিয়ে খালপাড় পর্যন্ত প্রচার চালানোর নির্দেশনা দেন। তার কথামতো বাড়ি থেকে বের হয়ে ইসলাম চেয়ারম্যান বাড়ির মোড় পর্যন্ত যাওয়ার পরপরই অতর্কিত হামলা চালায় হোসেনের লোকজন।’
এ বিষয়ে জানতে কামরাঙ্গীরচর থানার ওসি মশিউর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। পুলিশের লালবাগ জোনের উপকমিশনার মুনতাসিরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। তিনি বলেন, ‘দুপক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করছে। আমরা সবাইকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে শান্তিপূর্ণভাবে প্রচার চালানোর কথা বলেছি।’