সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ঢাকার দুই সিটির নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি। ভোটগ্রহণের দিন যত ঘনিয়ে আসছে প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ
কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রচারে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ততই বাড়ছে। নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। প্রার্থী নিজে সব জায়গায় উপস্থিত না হতে পারলেও নিজের কর্মী-সমর্থকদের দিয়ে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন পুরোদমে। গতকাল শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় সকাল থেকেই প্রচার জমে ওঠে। বিশেষ করে মসজিদসহ গণজমায়েত হয় এমন কিছু নির্দিষ্ট এলাকা লক্ষ্য করে এদিন প্রার্থীরা তাদের প্রচার শুরু করেন। রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার পাশে পাশে রয়েছে প্রার্থীদের অস্থায়ী নির্বাচনী ক্যাম্প। সেখান থেকে কর্মীরা লিফলেট বিতরণ করছেন। আর মসজিদে মসজিদে জুমার নামাজের পর মুসল্লিদের কাছে ভোট চাইছেন প্রার্থীরা। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া ঢাকার সিটি নির্বাচনের প্রচারে এখন পর্যন্ত বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে উচ্চ স্বরে মাইক বাজিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত প্রচারে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোটারদের কেউ কেউ।
গতকাল সকালে ডিএসসিসির ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হাসিবুর রহমান মানিক প্রচার শুরু করেন আজিমপুরের ছাপড়া মসজিদ এলাকায়। সেখানে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে গণসংযোগ করেন তিনি। এরপর আজিমপুর সরকারি কলোনিতে যান এই প্রার্থী। নিজের প্রচারে সন্তুষ্টির পাশাপাশি জয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করে এই কাউন্সিলর প্রার্থী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি গত নির্বাচনে স্বতন্ত্র থেকে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছি। এবার নিজ দল আওয়ামী লীগ থেকে সমর্থন পেয়েছি। মানুষের কাছে দিনরাত ভোটের জন্য যাচ্ছি। সাড়াও পাচ্ছি বেশ। আশা করছি, নির্বাচিত হলে যেসব উন্নয়নমূলক কাজ চলমান আছে তা শেষ করতে পারব। আর আমার নির্বাচনী এলাকার বেশিরভাগ মানুষই সরকারি কলোনিতে বসবাস করে। সেখানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাটাও বেশ কঠিন ব্যাপার। তাই মিনি ওয়েস্ট ট্রান্সফার স্টেশন নির্মাণ করতে হবে। তাহলে আজিমপুর এলাকার সরকারি কলোনিগুলোতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ময়লার সঠিক ব্যবস্থাপনা করতে পারব।’
ওয়ার্ডটির স্বতন্ত্র কাউন্সিল প্রার্থী বদিউল আলম সুইট গতকাল দিনভর প্রচার চালান। জুমার নামাজের পর এই প্রার্থীর পক্ষে আজিমপুর পার্টি হাউস জামে মসজিদের মুসল্লিদের মাঝে লিফলেট বিতরণ করা হয়। এরপর বিকেলে তার পক্ষে দুইশ থেকে আড়াইশ লোকের একটি মিছিল কলোনির বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
তবে এই প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারের ধরনে সন্তুষ্ট নন এই ওয়ার্ডের সব ভোটার। আজিমপুর কলোনির বাসিন্দা বদরুন্নাহার নাসরিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচার আমাদের কাছে অনেকটা সামাজিক অনুষ্ঠানের মতো। কিন্তু ইদানীং কিছু কিছু প্রার্থী নানা ধরনের গান পরিবর্তন করে নিজেদের নামে বানিয়েছে। এসব গান মাইকের মাধ্যমে উচ্চ স্বরে বাজানো হয়। বেশিরভাগ সময় গভীর রাত পর্যন্ত চলে এসব মাইক। এতে ঘুমের অসুবিধা হচ্ছে।’
ডিএসসিসির ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মোহাম্মদ হাসান পিল্লু গতকাল তার মিষ্টিকুমড়া প্রতীকের পক্ষে প্রচার শুরু করেন দেবীদাস ঘাট লেনে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পিল্লু আওয়ামী লীগ থেকে সমর্থন পেলেও এখানে স্থানীয় সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ইফরান সেলিম নির্বাচন করছেন। ফলে পিল্লু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে তেমন সহযোগিতা পাচ্ছেন না। তিনি পাশের এলাকা কেরানীগঞ্জ থেকে লোকজন এনে গতকাল প্রচার চালান।
ডিএসসিসির ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সারোয়ার হোসেন আলো তার ঘড়ি মার্কার পক্ষে গতকাল প্রচার চালান। ওয়ারীর টিপু সুলতান রোডে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন তিনি। এ সময় তিনি ভোটারদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, ‘সরু রাস্তায় ওয়ারীবাসীর যানজটে ভোগান্তি হচ্ছে। আমি নির্বাচিত হতে পারলে এ ভোগান্তি লাঘবে কাজ করব। এ ছাড়া ফকিরচাঁন কমিউনিটি সেন্টারের উন্নয়ন এবং নতুন করে একটি লাইব্রেরি তৈরি করব।’
রাজধানীর ফরিদাবাদ এলাকায় ডিএসসিসির ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডে গতকাল নির্বাচনী প্রচার চালান সাইদুর রহমান সরকার এবং বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মো. ফারুক। দিনভর এই দুই প্রার্থী প্রচার চালিয়ে যান। তারা তাদের নামে বরাদ্দকৃত প্রতীকে ভোট চেয়ে বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে যান। এ সময় তারা এলাকার উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতি দেন। প্রার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে জানতে চাইলে হরিচরণ রায় রোডের বাসিন্দা অনিন্দ্য সরকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের এলাকায় গ্যাস সংকট চরমে। সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় ভোগান্তি পোহাতে হয়। আর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টিতেও কর্র্তৃপক্ষ নজর দেয় না। তাই আগামী নির্বাচনে যারা এসব সমস্যার সমাধান করতে পারবে বলে মনে করব, আমরা তাকেই ভোট দেব।’