আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সরকার নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে বিএনপি এমন অভিযোগ বারবার করছে। কিন্তু শুধু অভিযোগ করলেই হবে না তাদের প্রমাণও করতে হবে। গতকাল শনিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। নারী গাড়িচালকদের প্রশিক্ষণ পরবর্তী সনদপত্র বিতরণ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ব্র্যাক ব্যাংক।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি তথ্যপ্রমাণ দিক সেটা দেশবাসী জানুক। অন্ধকারে ঢিল মারা আর মনগড়া কথা বললে তো হবে না। আমি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, তারপরও নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে একেবারে দূরে। নির্বাচন শুরুর পর এখন পর্যন্ত আমাদের অফিস ভিজিট করিনি আজ পর্যন্ত। কীভাবে নির্বাচনকে প্রভাবিত করছে সরকার, আমি তো বুঝতে পারছি না!’
নির্বাচনী কর্মকর্তারা চাইলে ইভিএমে ভোট কারচুপি করতে পারে সুজনের এ অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সদ্যসমাপ্ত দুটি নির্বাচনের উদাহরণ দিয়ে আমি বলছি, চট্টগ্রাম-৮-এর উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়লাভ করেছে। এদিকে বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় এই পদ্ধতিতেই বিএনপির প্রার্থী জয়লাভ করেছে। যদি কোনো কারচুপির বিষয় কাজ করত, তাহলে চট্টগ্রামের উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি অনেক বৃদ্ধি পেত। তাই যুক্তি ছাড়া কথা বললে তো হবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘এতদিন যত নির্বাচন ইভিএমে হয়েছে কোথায় ভোট কারচুপির তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে, একটার কথা তারা উল্লেখ করুক। তারা শুধু বলেই যাচ্ছে। বলার জন্য বলছে আর বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করে যাচ্ছে। সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও ইভিএম পদ্ধতিতে বিএনপির প্রার্থী জয়লাভ করেছে।’
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে বিশেষ আবেদন করা হলে সরকারের পক্ষ থেকে কী প্রতিক্রিয়া আসবে এ প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘বিশেষ আবেদনের কথা বলছেন তারা। আসলে বিশেষ আবেদন কার কাছে করবেন, আদালতের কাছে নাকি সরকারের কাছে। খালেদা জিয়া যেহেতু এখন আদালতের এখতিয়ারে আছেন সেহেতু সরকারের কাছে আবেদন করে তো লাভ নেই।’
এর আগে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১১ নারী গাড়িচালকের হাতে সনদপত্র তুলে দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী রওশন আক্তার, ব্র্যাক ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ প্রমুখ।