চার লেন হচ্ছে ঢাকার সাড়ে ১৩ কিমি সড়ক

যানজট নিরসনে সাড়ে ১৩ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করতে যাচ্ছে সরকার। এজন্য ১২০৯ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে (পিপিপি) এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা অর্জনে প্রকল্পের আওতায় ৭২ জন কর্মকর্তা বিদেশ যাবেন। এজন্য তাদের জন্য রাখা হয়েছে বড় অঙ্কের বরাদ্দ। আগামীকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্প প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, পিপিপি ভিত্তিতে ‘হাতিরঝিল রামপুরা সেতু বনশ্রী-শেখেরজায়গা-আমুলিয়া-ডেমরা মহাসড়ক (চিটাগাং রোড মোড় ও তারাবো লিংক মহাসড়ক) চার লেনে উন্নীত করতে একটি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠিয়েছে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর। প্রকল্পের মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ২০৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

এ অর্থ দিয়ে প্রকল্প এলাকায় জমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ সম্পন্ন করা হবে। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী পরামর্শক এবং স্বাধীন প্রকৌশল পরামর্শক সেবার মাধ্যমে নির্মাণ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রম সুপারিভিশন বা তদারকি করা হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটার সামগ্রী, ভাড়াভিত্তিক যানবাহন ব্যবহার করা হবে। প্রকল্পের আওতায় ৭২ জন সরকারি কর্মকর্তা বিদেশ সফর করবেন। তাদের জন্য রাখা হয়েছে আলাদা বরাদ্দ।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সড়ক বিভাগের প্রস্তাব অনুসারে সাড়ে ১৩ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে। সড়কটি হাতিরঝিল সংলগ্ন রামপুরা সেতুর কাছ থেকে শুরু হয়ে বনশ্রী-মেরাদিয়া-শেখের জায়গা-আমুলিয়া-ডেমরা পর্যন্ত যাবে। সড়কটির একটি অংশ ডেমরা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চিটাগাং রোডে শেষ হবে। আরেকটি অংশ সুলতানা কামাল সেতু হয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের তারাবো লিংক মহাসড়ককে যুক্ত করবে। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) অনুসারে, অনুমোদন পেলে চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর নাগাদ কাজ শেষ হবে।

এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ঢাকার যানজট নিরসনে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রকল্পটি পিপিপির ভিত্তিতে সার্বিক কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করা হবে। এর মধ্যে জমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন ও ইউটিলিটি স্থানান্তর অন্যতম। তবে বিদেশ সফর নিয়ে তিনি কোনো কথা বলতে চাননি।

ডিপিপি থেকে জানা গেছে, আলোচ্য সড়কটি ৪ লেনে উন্নীত হলে প্রতিদিন ১১ হাজার যানবাহন চলাচল করতে পারবে। মহাসড়কটি রাজধানী ঢাকার সঙ্গে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম, সিলেট, নারায়ণগঞ্জসহ অন্যান্য জেলাকে সংযোগ করবে। প্রস্তাবিত রুটটি গুলশান, বাড্ডা, ফার্মগেট, তেজগাঁও, বনানী, রামপুরা ও উত্তরার যানবাহনকে আকৃষ্ট করবে। এছাড়া এটি দুটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত হবে।

সড়ক বিভাগ সূত্র জানায়, আলোচ্য সড়কের মূল প্রকল্পের তিনটি অংশ রয়েছে। প্রথমটি হচ্ছে রামপুরা ব্রিজ থেকে ডেমরা সার্কেল। দ্বিতীয়টি হচ্ছে ডেমরা সার্কেল থেকে চিটাগাং রোড। আর তৃতীয়টি ডেমরা থেকে তারাবো মোড় পর্যন্ত। প্রথম অংশটি সাড়ে ৯ কিলোমিটার। সড়কটি রামপুরা থেকে বনশ্রী আইডিয়াল স্কুল পর্যন্ত ১ কিলোমিটার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত। বনশ্রী আইডিয়াল স্কুল থেকে মেরাদিয়া পর্যন্ত ১ দশমিক ২৫ কিলোমিটার সড়ক ও জনপথের আওতাভুক্ত। রামপুরা ব্রিজ থেকে মেরাদিয়া পর্যন্ত বর্তমানে সড়কের পাশে লেক রয়েছে। লেক ও বিদ্যমান সড়কের মাঝের অব্যবহৃত সড়ক ঢালে পিয়ারের মাধ্যমে এলিভেটেড সড়ক নির্মাণ করা হবে।