পঞ্চগড়ে পুলিশ-র‌্যাবের সঙ্গে সংঘর্ষে পাথরশ্রমিক নিহত

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় মাটি খুঁড়ে পাথর উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধকারী শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। গতকাল রবিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা মহাসড়কের ভজনপুর এলাকায় দফায় দফায় এ সংঘর্ষ হয়। এতে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত চারজন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অন্যরা পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন। এ সংঘর্ষের ঘটনায় ওই মহাসড়কে সাড়ে চার ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নিহত পাথরশ্রমিক জুমারউদ্দিন (৫৫) তেঁতুলিয়ার ভজনপুর ইউনিয়নের গনাগছ গ্রামের দেবারুর ছেলে। গুরুতর আহত আজিবউদ্দিন (৩৫), শহিদুল (৪০), ভোম্বল (৪৫) ও করিমুলকে (৫২) রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আহত অন্যরা হলেন নীলফামারী র‌্যাব-১৩-এর ডিএডি আবু বক্কর, ফেরদৌস রনি ও সাইদুল ইসলাম; পুলিশের নায়েক মেহেদী হাসান (২৬), কনস্টেবল জয়ন্ত কুমার (২১) ও ইমতিয়াজ (২১); ভজনপুরের মূর্খাগছ এলাকার ভ্যানচালক মোনাজুল (৩০), নিজবাড়ি এলাকার মাহবুব (৩০), কাউরগছ এলাকার নাজমুল হক (৪০), সিপাইপাড়া এলাকার জুমের আলী (২৫)।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, তেঁতুলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ড্রিল-ড্রেজার মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছিল। এতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন ও লোকজনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পাঁচ মাস আগে পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। এতে শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছিল। পাথর উত্তোলনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবিতে শনিবার রাতে ঢোল পিটিয়ে রবিবার সকালে সড়ক অবরোধের ঘোষণা দেয় ভজনপুর এলাকার পাথরশ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা। ঘোষণা অনুযায়ী পাথর সকাল থেকে ভজনপুর বাজারে অবস্থান নেয় কয়েক হাজার শ্রমিক। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশও মোতায়েন করা হয়। শ্রমিকরা সকাল ১০টায় লাঠিসোঁটা নিয়ে পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা মহাসড়কে অবরোধ করেন। এ সময় বাধা দিলে শ্রমিকরা পুলিশের ওপর পাথর ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এ সময় পুলিশও লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে পুলিশ পরিস্থিতি সামলাতে নীলফামারী র‌্যাব-১৩-এর সহযোগিতা নেয়। এ সময় সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হন। তাদের মধ্যে পাথরশ্রমিক জুমারউদ্দিন পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

ওই হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সিরাজউদ্দোলা পলিন জানিয়েছেন, নিহত শ্রমিকের শরীরে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। তবে কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে তা ময়নাতদন্ত না করে বলা যাবে না।

পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী জানান, পাথর উত্তোলনের সুবিধাভোগীরা শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে মাঠে নামিয়েছে। তারা লাঠিসোঁটা নিয়ে পুলিশ ও র‌্যাবের ওপর হামলা করে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এমনকি আহত পুলিশ সদস্যদের হাসপাতালে নিতেও বাধা দেয়। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় পুলিশ ও র‌্যাবের ১১ জন সদস্য আহত হয় এবং পুলিশের কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।