মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ব : আতিক

মাদকমুক্ত ঢাকা গড়তে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম। গতকাল সোমবার উত্তরার হাউজ বিল্ডিং এলাকায় এক পথসভায় এ আহ্বান জানিয়ে মেয়র নির্বাচিত হলে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন

গড়ে তোলারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

মাদককে ভবিষ্যতের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে ক্ষমতাসীন দলের এ মেয়র প্রার্থী বলেন, ‘এ চ্যালেঞ্জ সামাজিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে। আমি যদি ভোটে নির্বাচিত হই, তাহলে কথা দিতে পারি, এলাকার আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, সামাজিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষকসমাজ ও সব অভিভাবককে নিয়ে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলব। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে পারলে উন্নয়ন আরও বেশি হবে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন করতেই হবে। আসুন সবাই মাদককে না বলি।’

এ সময় তিনি তার ঘোষিত ইশতেহারের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে প্রতি মাসে বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে গিয়ে কাউন্সিলরদের জনতার মুখোমুখি দাঁড় করাব। সবাইকে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসব। জনগণ থেকে ভোট নিয়ে জনবিচ্ছিন্ন হওয়া যাবে না। জনগণকে সেবা দিতে হবে।’ নগরবাসীর উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘আমি আপনাদের কথা দিতে চাই, ‘ ফেব্রুয়ারি নৌকার বিজয় হলে আপনাদের একটি সবুজ, মানবিক, সুন্দর, সুস্থ, গতিময় এবং একটি আধুনিক ঢাকা উপহার দেব।’

পথসভায় ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএ মান্নান কচি, ১ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী আফছারউদ্দিন খান, সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী হাছিনা বারী চৌধুরীসহ দলের স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ডিএনসিসির ১ নম্বরে ওয়ার্ড থেকে প্রচার শুরু করেন আতিকুল ইসলাম। শুরুতেই মাসকট প্লাজার সামনে পথসভায় বক্তব্য দেন। পথসভায় ইউনিফর্ম পরা বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রদের অংশ নিতে দেখা যায়। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তার এলাকার বিসিআই কলেজ, উত্তরা আইডিয়াল কলেজ ও স্থানীয় দুটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। তাদের দাবি, ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর নির্দেশে তারা সভায় এসেছেন। এটি আচরণবিধির লঙ্ঘন কি না জানতে চাইলে আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘অবশ্যই। আমি মনে করি, যদি তারা এখানে এসে থাকে, তাহলে কাজটি তারা ঠিক করেনি। আমি বলিনি তাদের আসতে। তারা যদি এসে থাকে, অন্যায় হয়েছে। আমি এর প্রতিবাদ করছি। আমি চাই না জোর করে কাউকে এখানে আনা হোক। আমি স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের অনুরোধ করব কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচারের জন্য আপনারা আপনাদের শিক্ষার্থীদের ছাড়বেন না।’

পথসভা শেষে ১ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন আতিকুল ইসলাম। দুপুরের পর তিনি ১১ নম্বর সেক্টরের জমজম টাওয়ার, তুরাগ থানার বাউনিয়া এলাকাসহ ডিএনসিসির ৫১, ৫২ ও ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন।