মেলায় কারাপণ্য

সাজাভোগ শেষে কারাবন্দিদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কারাগারগুলোতে হস্তশিল্পের পাশাপাশি ডিজিটাল প্রিন্টিং, পাওয়ারলুম, চামড়াজাত দ্রব্য তৈরি, টাইলস লেইং, প্লাম্বার, হাউজহোল্ড ইলেকট্রিক ওয়ারিং, ফ্রিজ ও এয়ারকন্ডিশনার মেরামত, মহিলা বন্দিদের জন্য বিউটিফিকেশন, গার্মেন্টস পণ্য, রেডিমেড পোশাক, জামদানি তৈরিসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আছে। সেই প্রশিক্ষণের উৎপাদিত পণ্য বাণিজ্য মেলায় পাওয়া যাচ্ছে। এবার নিয়ে তৃতীয়বারের মতো হাজির হয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ কয়েদিদের পণ্য নিয়ে। সারা দেশে ৩৫টি কারাগার থেকে প্রায় ২৫০টি আইটেমের কারাপণ্য আনা হয়েছে এবারের মেলায়। এর মধ্যে যশোর কারাগারের পণ্য সবচেয়ে বেশি বলে জানালেন দায়িত্বরত একজন। পণ্য বিক্রির লভ্যাংশের ৫০ শতাংশ দেওয়া হয় কয়েদিদের। মেলার এই স্টলে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের বেশ ভিড়। মূল্যও সাশ্রয়ী। কারাপণ্যের মূল্যের বিষয়ে তাসনিয়া নামের এক ক্রেতা জানালেন_ ‌‘ এখানে এমন অনেক পণ্য পাওয়া যাচ্ছে, যেসব পণ্য বাইরে হাজার টাকা, সেসব এখানে পণ্য মাত্র চারশ থেকে পাঁচশ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বেতের তৈরি মোড়া, চেয়ারের মূল্য বাইরে অনেক। এখানে মোড়া ছয়শ আর চেয়ার আড়াই হাজার থেকে চার হাজারের মধ্যে। তাই এখান থেকে বেতের তৈরি চেয়ার কিনে নিলাম।’ প্যাভিলিয়নে দায়িত্বরত বিক্রেতা জানালেন, দিনপ্রতি প্রায় ৬০ হাজার থেকে লাখ টাকার মতো বিক্রি হচ্ছে।

কারা প্যাভিলিয়নে পাওয়া যাচ্ছে এমন পণ্যসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে কাঠের তৈরি চেয়ার, বেতের চেয়ার, বাঁশের চেয়ার, টেবিল, মোড়া, খাবারের ঢাকনা, ব্যাগ, পাটের ব্যাগ, পাটের ফাইল, ভ্যানিটি ব্যাগ, চায়ের টেবিল, আলমারি, ড্রেসিং টেবিল, পুঁতির তৈরি মানিব্যাগ, জুতা, বিছানার চাদর, কাপড়, পাপোশ, টি-শার্ট ও নকশিকাঁথা। শুধু তা-ই নয়, হস্তশিল্পের পুঁতিদানার ব্যাগ, পার্স ব্যাগ, ফুলদানি, টিস্যু বক্স, শো-পিসসহ বিভিন্ন উপহারসামগ্রী রয়েছে ।

দরদাম : বাঁশ ও বেতের তৈরি প্রতিটি মোড়া ৬০০ থেকে ৮৫০ টাকা, ফুল ও ফলের ঝুড়ি ১০০ থেকে ২৫০ টাকা, জামদানি শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে ৪০০০ টাকায়, পোলো শার্ট ১৬০ এবং ২০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে উলেন গেঞ্জি ও টি-শার্ট, নকশিকাঁথা ২২০০-৪৫০০, বুটিক ও বাটিকের থ্রি-পিস ৫০০-১৫০০ টাকা, গামছা ও লুঙ্গি ২০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং বেডশিট এক থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাঁশ ও প্লাস্টিকের সংমিশ্রণে তৈরি বড় চেয়ার পাওয়া যাচ্ছে ১২০০ থেকে ৩০০০ টাকায়। সিংহাসন চেয়ার পাওয়া যাচ্ছে ২৫০০-৪৫০০ টাকায়। বাঁশের কুলা ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, পানদানি, কলমদানি ও ফুড কভার ৩০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া টি-শার্ট ২০০-৫০০ টাকা, কুলা ও চালনি ১০০ থেকে ৩০০ টাকা। ব্লক ও বাটিকের থ্রি-পিস ৫০০ থেকে দেড় হাজার টাকা। গামছা ও লুঙ্গি ২০০ থেকে ৫০০ টাকা। বেডশিট এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাটের তৈরি বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ ১২০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েদিদের কাঠের তৈরি খাট ২২ হাজার, আলমারি ও ওয়ার্ডরোব ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। ড্রেসিং টেবিল ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খাদ্যপণ্যের বিভিন্ন পদের আচার পাওয়া যাবে ৮০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে। মেলা ছাড়াও কারাপণ্য পাওয়া যাবে কাশিমপুর কারাগারসহ বিভিন্ন কারাগারের বিক্রয় ও প্রদর্শনী কেন্দ্রে।