স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তির এ দেশে রাজনীতি করা সমীচীন নয় বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, দেশকে যদি এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়, তাহলে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি ক্ষমতায় থাকবে, আবার বিরোধী দলও হবে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি। সরকারি দলও স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি, বিরোধী দলও স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি, সেটিই হওয়া বাঞ্ছনীয়। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের এলজিইডি ভবনে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য নুরুল আলম চৌধুরীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আগামী বছর স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্ণ হবে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও একটি দেশে স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি থাকবে, স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি রাজনীতি করবে, এটা হওয়া উচিত নয়। যারা দেশটাই চাইনি, দেশের পতাকাটাই চাইনি, যারা দেশের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, দেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও তারা আস্ফালন করবে, তাদের রাজনীতি থাকবে, সেটা কোনো দেশে হওয়া সমীচীন নয়।
রাজনীতি এখন রাজনীতিবিদদের হাতে পুরোপুরি নেই উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, রাজনীতিতে বণিকায়ন ও দুর্বৃত্তায়ন হয়েছে। রাজনীতিতে প্রচণ্ড সুবিধাবাদীদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে এবং এটির সূচনা করেছিল জিয়াউর রহমান। তিনি ক্ষমতা দখল করার জন্য রাজনীতিবিদদের কেনাবেচার হাট বসিয়েছিলেন। মৌসুমে যেমন খেলোয়াড় বিক্রি হয়, ঠিক সেভাবে অনেক রাজনীতিবিদ বিক্রি হয়েছিল। সেভাবেই গঠিত হয়েছিল বিএনপি। আজকে যারা বিএনপির বড় বড় নেতা, তারা সবাই খেলোয়াড়দের মতো রাজনীতির হাটে বিক্রি হওয়া রাজনীতিক।
তিনি বলেন, পরপর তিনবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকার কারণে আওয়ামী লীগের মধ্যে অনেকের আলস্য এসেছে। আমাদের মধ্যে আলস্য থাকলে হবে না। দলে অনেক অনুপ্রবেশকারী ঢুকেছে। অনুপ্রবেশকারীদেরও চিহ্নিত করা প্রয়োজন। দলকে পরিশুদ্ধ করা প্রয়োজন। অনুপ্রবেশকারী, সুবিধাবাদীরা যাতে দলকে গিলে ফেলতে না পারে, সেদিকে আমাদের নজর রাখতে হবে। অনুপ্রবেশকারী ও সুবিধাবাদীমুক্ত আওয়ামী লীগ গঠন করতে হবে।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, খাদিজাতুল আনোয়ার সনি এমপি, আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যাপক মঈন উদ্দিন, আবুল কালাম আজাদ, এটিএম পেয়ারুল ইসলাম ও মরহুমের সন্তান আসিফুল সোহাগ সাকিব। এতে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম সভাপতিত্ব করেন এবং সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান সঞ্চালনা করেন।