আগামী অর্থবছরের জন্য ৩০ লাখ ৪২ হাজার কোটি রুপির বাজেট ঘোষণা করেছেন ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। গতকাল দেশটির পার্লামেন্টে পেশ করা বাজেটে ৫ লাখ রুপি পর্যন্ত আয় করমুক্ত ঘোষণা করেছেন তিনি। বিদায়ী অর্থবছর করমুক্ত আয়সীমা ছিল আড়াই লাখ রুপি। কর ছাড় দিয়ে নাগরিকদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে অর্থনীতিকে চাঙা করতেই করমুক্ত আয়সীমা একলাফে দ্বিগুণ করা হয়েছে। ৫ লাখ রুপির বেশি মানুষের ওপরও আগের চেয়ে কম হারে কর আরোপের প্রস্তাব করেছে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি।
বর্তমানে বাংলাদেশে করমুক্ত আয়সীমা আড়াই লাখ টাকা। এটি ভারত ঘোষিত করমুক্ত আয়সীমার অর্ধেক। কয়েক বছর ধরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি বাড়ার কথা তুলে ধরে অর্থনীতিবিদরা করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেও তা আমলে নেননি সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও বর্তমান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাজেটে বছরে ৫ লাখ রুপি আয়ের ক্ষেত্রে কোনো কর না নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া ৫ থেকে সাড়ে ৭ লাখ রুপি পর্যন্ত আয়ে করহার ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এত দিন এটি ছিল ২০ শতাংশ।
এ ছাড়া বার্ষিক আয় সাড়ে ৭ থেকে ১০ লাখ রুপি হলে কর দিতে হবে ১৫ শতাংশ হারে, এত দিন এটিও ছিল ২০ শতাংশ। আর ১০ থেকে সাড়ে ১২ লাখ আয়ে করহার ৩০ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ এবং সাড়ে ১২ লাখ থেকে ১৫ লাখের ক্ষেত্রে করহার ৩০ থেকে কমে হয়েছে ২৫ শতাংশ। তবে আয় ১৫ লাখের বেশি হলে আগের মতো ৩০ শতাংশই কর দিতে হবে।
নতুন আয়কর কাঠামোয় ৭০টি ছাড় তুলে দেওয়া হয়েছে। পুরনো হারে আয়করে ছাড়ের সুবিধা থাকছে। নতুন হারে কর দিলে আয়করে ছাড়ের সুবিধা থাকছে না। তবে করদাতা বেছে নিতে পারবেন তিনি নতুন হারে আয়কর দেবেন না পুরনো হারেই কর দেবেন।
ব্যাংকগুলোকে চাঙ্গা করতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজার কোটি রুপি। ব্যাংক গ্যারান্টি ১ লাখ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ রুপি। ব্যাংক বন্ধ হলে গ্রাহক বীমা হিসেবে পাবেন ৫ লাখ রুপি। আগামী অর্থবছর ২২ লাখ ৪৬ কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্য ভারত সরকারের। আর্থিক বৃদ্ধির লক্ষ্য ১০ শতাংশ।
দেশটির পরিবহনকাঠামোয় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ দশমিক ৭ লাখ কোটি রুপি। ২০২৪ সালের মধ্যে ১০০টি নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের এই বাজেট লগ্নিকারীদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। এর প্রভাব পড়েছে ভারতের পুঁজিবাজারে। বাজেট পেশের আগে নিম্নগামী থাকলেও বাজেট ভাষণ শুরুর পরপরই উঠতে থাকে সূচক। সে সময় সেনসেক্স ১৫০ পয়েন্টের বেশি উঠে যায়। বাজেট পেশ শেষ হওয়ার আগেই ৯৮৮ পয়েন্ট পড়ে সেনসেক্স। আর নিফটি ৩০০ পয়েন্ট নেমে দাঁড়ায় ১১৬৬২ পয়েন্টে। শনিবার ভারতের পুঁজিবাজার বন্ধ থাকলেও গতকাল বাজেট উপলক্ষে খোলা ছিল। এদিন কোল ইন্ডিয়া, টেক মাহিন্দ্রা, এনটিপিসি, টাটা স্টিল ও এসবিআইয়ের শেয়ার দর সবচেয়ে বেশি কমেছে।