কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর পাখিউড়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত হয়েছে এক বাংলাদেশি যুবক। গতকাল শনিবার ভোরে ভারত থেকে গরু আনতে গেলে বিএসএফের গুলিতে আহত হন মো. জামাল (১৯) নামে ওই যুবক। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহত জামাল নারায়ণপুর ইউনিয়নের কালাইয়ের চর গ্রামের লুৎফর রহমানের
ছেলে। পুলিশ ও গ্রামবাসী জানায়, গতকাল ভোরে পাখিউড়া সীমান্ত পার হয়ে ভারত থেকে গরু আনতে গেলে জামালকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে বিএসএফ। খবর পেয়ে গুলিবিদ্ধ জামালকে পরিবারের সদস্যরা উদ্ধার করে হাসপাতালের পথে রওনা হয়। কিন্তু পথেই তার মৃত্যু হয়। এ পরিস্থিতিতে মামলার হয়রানি এড়াতে পরিবারের লোকজন জামালের মরদেহ লুকিয়ে রাখে। পরে বিকেলে নিহত জামালের বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় কচাকাটা থানা পুলিশের একটি দল।
স্থানীয় নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ জামালকে নিয়ে তার পরিবারের লোকজন বাড়ি ছেড়ে গা ঢাকা দেয়। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করে বিকেলে বাড়ি তল্লাশি করে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।’
কচাকাটা থানার ওসি মামুন অর রশিদ বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর হাসপাতালে নেওয়ার পথে জামালের মৃত্যু হয়। বিকেলে লাশ বাড়িতে নিয়ে আসে পরিবারের সদস্যরা। পরে সেখান থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।’
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে যুবক নিহতের ব্যাপারে জানতে চাইলে কুড়িগ্রাম ২২ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্নেল মো. মোহাম্মদ জামাল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পাখিউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত এক যুবকের লাশ পুলিশ উদ্ধার করেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।’
রাজশাহী থেকে ধরে নেওয়া ৫ বাংলাদেশিকে ফেরতে সাড়া নেই : রাজশাহীর গোদাগাড়ীর খরচাকা সীমান্ত থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া পাঁচ বাংলাদেশিকে এখনো মুক্তি দেয়নি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তাদের ফেরত পেতে পতাকা বৈঠকের জন্য বিএসএফকে চিঠি দিয়েছিল বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গতকাল শনিবার বিজিবির সদস্যরা পতাকা বৈঠকের জন্য সীমান্তে গেলেও বিএসএফের সাড়া না পেয়ে বৈঠক না করেই সীমান্ত থেকে ফেরত আসে।
এর আগে গত শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে খরচাকা সীমান্ত থেকে পাঁচ বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ। যাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তারা সবাই রাখাল। নিজেদের বাড়িতে পালন করা গবাদিপশু তারা পদ্মা নদীর বিস্তীর্ণ চরে চরাতে যান। প্রত্যেকের বাড়ি রাজশাহীর পবার গহমাবোনা গ্রামে। তারা হলেন সেলিম রেজার ছেলে রাজন হোসেন (২৫), মনিবুলের ছেলে সোহেল (২৭), প্রয়াত কালুর ছেলে কাবিল (২৫), প্রয়াত রফিকুলের ছেলে শাহীন (৩৫) ও আল্লামের ছেলে শফিকুল (৩০) । নেওয়ার সময় একজনকে নির্যাতন করা হয় বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা। এ ঘটনার পর পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশিদের ফেরত দিতে শুক্রবারই বিএসএফকে আহ্বান জানায় বিজিবি। এরপর শনিবার সকালে খরচাকা সীমান্ত এলাকায় যায় বিজিবির একটি দল। এর বিপরীতে ভারতের নির্মল চর সীমান্ত। সেখানে বিএসএফের দলের আসার কথা ছিল। কিন্তু তারা আসেনি। ফলে পতাকা বৈঠক না করেই বিজিবির দলটিকে ফিরে আসতে হয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গতকাল বিকেলে বিজিবির রাজশাহী-১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল ফেরদৌস জিয়াউদ্দিন মাহমুদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পতাকা বৈঠকের জন্য আমরা বিএসএফকে চিঠি দিয়েছিলাম। কিš ‘সকালে (শনিবার) বিএসএফ পতাকা বৈঠকে আসেনি। পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।’