সদ্যসমাপ্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সাধারণ ওয়ার্ডে যারা কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন তাদের ৩৯ শতাংশই ‘স্বশিক্ষিত’। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) স্বশিক্ষিত কাউন্সিলর গড়ে ৪০ শতাংশ। আর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) ৩৯ শতাংশ। আর দুই সিটির সংরক্ষিত ওয়ার্ডে নির্বাচিতদের ৪৩ শতাংশই স্বশিক্ষিত। ডিএনসিসিতে এ হার প্রায় ৪২ শতাংশ আর ডিএসসিসিতে ৪৪ শতাংশেরও বেশি। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট ঘেঁটে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, দুই সিটির ১২৯টি সাধারণ ওয়ার্ডে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত ৩১ জন কাউন্সিলর প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ডিএসসিসিতে ২০ জন এবং ডিএনসিসিতে ১১ জন। এসব ওয়ার্ডে যারা কাউন্সিলর হয়েছেন তাদের মধ্যে ৯ জন বিএনপি সমর্থিত এবং বাকিরা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী। বিএনপির কাউন্সিলর হয়েছেন ডিএসসিসিতে ৭ জন এবং ডিএনসিসিতে ২ জন। ডিএসসিসি ৭৫টি সাধারণ ওয়ার্ডে নির্বাচিত কাউন্সিলরদের মধ্যে ৩০ জন স্বশিক্ষিত, যা পাস করা কাউন্সিলরের ৪০ শতাংশ। ডিএসসিসির সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ২৫ জনের মধ্যে ৯ জনের পাওয়া তথ্যমতে ৪ জনই স্বশিক্ষিত, যা ৪৪ ভাগেরও বেশি স্বশিক্ষিত। আর ডিএনসিসির নির্বাচিত ৫৪ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ৫০ জনের তথ্য পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ১৯ জন স্বশিক্ষিত। এ হিসাবে স্বশিক্ষিতের হার ৩৮ শতাংশ। আর সংরক্ষিত (নারী) কাউন্সিলরের ১৮ জনের ১২ জনের তথ্য পাওয়া গেছে। সেখানে ৫ জন স্বশিক্ষিত, যা শতকরা ৪২ ভাগ।
নগরবাসীর সেবা নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা জনপ্রতিনিধিদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার এমন যোগ্যতায় ‘উদ্বেগ ও হতাশা’ প্রকাশ করেছেন অনেকে। স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জনপ্রতিনিধির শিক্ষাগত যোগ্যতা কম হলে বিভিন্ন সেবা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করার ক্ষেত্রে তৈরি হবে নানা সমস্যা। আধুনিক ঢাকা বিনির্মাণে নির্বাচিত হওয়ার আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অবশ্যই আরও শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা উচিত বলে মনে করেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নিরক্ষরতা অযোগ্যতা নয়। তবে কাউন্সিলরদের স্বশিক্ষিতের হার এত অধিক সংখ্যক হওয়া উদ্বেগের। লেখাপড়া না জানলে ডিজিটাল বাংলাদেশের একটি ওয়ার্ডের উন্নয়ন করা কঠিন।’
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘নাগরিক সমস্যার ডায়মেনশন চেঞ্জ হয়ে গেছে। এখন অনেক বেশি আধুনিক মনস্ক, পড়াশোনা জানা লোক লাগবে। এত কম শিক্ষিত লোকের পক্ষে সিটির ডাইনামিক ও টেকনিক্যাল দিকগুলো বোঝা কঠিন হবে। বিষয়টি জনসম্মুখে আলোচনা হওয়া উচিত।’
ডিএসসিসিতে নির্বাচিত যে ৩০ জন কাউন্সিলর স্বশিক্ষিত তারা হলেন ৫ নম্বরে চিত্তরঞ্জন দাস, ৯ নম্বরে মোজাম্মেল হক, ১৩ নম্বরে এনামুল হক আবুল, ১৫ নম্বরে রফিকুল ইসলাম, ১৯ নম্বরে আবুল বাশার, ২০ নম্বরে ফরিদউদ্দিন আহম্মদ রতন, ২২ নম্বরে জিন্নাত আলী, ২৩ নম্বরে মকবুল হোসেন, ২৯ নম্বরে জাহাঙ্গীর আলম বাবুল, ৩৩ নম্বরে আউয়াল হোসেন, ৩৪ নম্বরে মো. মামুন, ৩৫ নম্বরে আবু সাঈদ, ৩৭ নম্বরে আব্দুর রহমান মিয়াজী, ৪১ নম্বরে সারোয়ার হাসান (আলো), ৪২ নম্বরে মো. সেলিম, ৪৪ নম্বরে নিজাম উদ্দিন, ৪৫ নম্বরে মো. শামসুজ্জোহা, ৪৯ নম্বরে বাদল সরদার, ৫০ নম্বরে মাসুম মোল্লাহ, ৫১ নম্বরে কাজী হাবিবুর রহমান (হাবু), ৫২ নম্বরে রুহুল আমিন, ৫৩ নম্বরে মীর হোসেন মীরু, ৫৫ নম্বরে নুরে আলম, ৫৭ নম্বরে সাইদুল ইসলাম, ৫৮ নম্বরে শফিকুর রহমান, ৫৯ নম্বরে আকাশ কুমার ভৌমিক, ৬১ নম্বরে জুম্মন মিয়া, ৬৫ নম্বরে সামসুদ্দিন ভূঁইয়া, ৬৯ নম্বরে সালাউদ্দিন আহমেদ ও ৭২ নম্বরে শফিকুল আলম শামীম।
ডিএসসিসির ২৫টি সংরক্ষিত (নারী) আসনের মধ্যে ৯টির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সেখানে নির্বাচিত ৪ জনই স্বশিক্ষিত। তারা হলেন ২ নম্বরে মাকসুদা শমসের, ৮ নম্বরে নিলুফা, ৯ নম্বরে সাবিনা পারভীন ও ১৬ নম্বরে নাসিমা আক্তার।
ডিএনসিসির মোট ৫৪ জন নির্বাচিত সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মধ্যে ৫১ জনের তথ্য পাওয়া গেছে। যার মধ্যে ১৯ জন স্বশিক্ষিত। তারা হলেন ২ নম্বরে সাজ্জাদ হোসেন, ৩ নম্বরে কাজী জহিরুল ইসলাম মানিক, ৬ নম্বরে তাইজুল ইসলাম চৌধুরী (বাপ্পি), ১০ নম্বরে আবু তাহের, ১৫ নম্বরে সালেক মোল্লা, ১৬ নম্বরে মতিউর রহমান, ২০ নম্বরে মো. নাছির, ২২ নম্বরে লিয়াকত আলী, ২৪ নম্বরে মো. শফিউল্লাহ, ২৫ নম্বরে আবদুল্লাহ আল মনজুর, ২৬ নম্বরে শামিম হাসান, ২৯ নম্বরে সলিমুল্লাহ সলু, ৩১ নম্বরে শরিফুল ইসলাম, ৩৩ নম্বরে আসিফ আহমেদ, ৩৭ নম্বরে জাহাঙ্গীর আলম, ৪০ নম্বরে নজরুল ইসলাম ঢালী, ৪৪ নম্বরে শফিকুল শফিক, ৪৭ নম্বরে মোতালেব মিয়া ও ৫৩ নম্বরে নাসির উদ্দিন। ডিএনসিসির সংরক্ষিত ওয়ার্ডের যে ৫ জন স্বশিক্ষিত তারা হলেনÑ ৪ নম্বরে শিখা চক্রবর্তী, ৫ নম্বরে রাজিয়া সুলতানা, ৮ নম্বরে মিতু আক্তার, ৯ নম্বরে নাজমুন্নাহার হেলেন ও ১৬ নম্বরে ইলোরা পারভিন।
দুই সিটিতে বিএনপির কাউন্সিলর ৯ জন : ডিএসসিসিতে বিএনপির কাউন্সিলর হয়েছেন সাতজন। তারা হলেনÑ ৭ নম্বরে শামসুল হুদা কাজল, ১১ নম্বরে মির্জা আসলাম আসিফ, ৩৪ নম্বরে মোহাম্মদ মামুন, ৪৯ নম্বরে বাদল সরদার, ৫৩ নম্বরে মীর হোসেন মীরু, ৬১ নম্বরে জুম্মুন মিয়া ও ৭৫ নম্বরে আকবর হোসেন। ডিএনসিসিতে বিএনপির কাউন্সিলর হয়েছেন দুজন। তারা হলেনÑ ২ নম্বরে সাজ্জাদ হোসেন ও ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডে আলী আকবর।