ফি নিয়ে রেজিস্ট্রেশন ও ফরম পূরণ করেননি মাদ্রাসা সুপার

এসএসসি পরীক্ষায় বসতে পারছে না ক্লাসের ফার্স্টবয়

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বাহার চৌধুরী নূরীয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. ছফি উল্লাহর গাফিলতির কারণে মাহমুদ হাসান নামে এক শিক্ষার্থী আজ সোমবার শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই শিক্ষার্থী ক্লাসের ফার্স্ট বয়। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৮ সালে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় ফি দেওয়ার পরও বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন করেননি মাদ্রাসা সুপার। দশম শ্রেণিতে নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ফি দেওয়ার পরও এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণও করেননি তিনি।

ফলে আজ সারা দেশে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না মাহমুদ হাসান। রেজিস্ট্রেশন না হওয়ার কারণে আগামী বছরও তার পরীক্ষা দেওয়া হবে না। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ বিভিন্ন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করতে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরকে নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন।

শিক্ষার্থীর বাবা জাহাঙ্গীর কবির জানান, ২০১৮ সালে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় তার ছেলে মাহমুদ হাসানের শ্রেণিতে ক্রমিক নম্বর ছিল ৩। দশম শ্রেণিতে সে প্রথম হয়। সহপাঠীদের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করছিল। তার থেকেও নির্ধারিত ফি নেয় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। কিছুদিন আগে মাহমুদের পরীক্ষার ব্যাপারে লুকোচুরি আচরণ শুরু করে মাদ্রাসা সুপার। একপর্যায়ে তিনি তার এক আত্মীয়ের (যিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা) সহায়তায় জানতে পারেন মাহমুদ এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না। এমনকি রেজিস্ট্রেশন না করায় আগামী বছরও সে পরীক্ষা দিতে পারবে না। ২০২১ সালের পরীক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শেষ হয়েছে গত মে মাসে।

পরে গত ২১ জানুয়ারি বাবা জাহাঙ্গীর কবির বাহার চৌধুরী মাদ্রাসার সভাপতি ও মিরসরাইয়ের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি আবেদন করেন।

জাহাঙ্গীর কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শিশু শ্রেণি থেকে আমার ছেলে বাহার চৌধুরী নূরীয়া দাখিল মাদ্রাসার ছাত্র। অষ্টম শ্রেণিতে সে এ-প্লাস পেয়ে উত্তীর্ণ হলে আমি তাকে অন্যত্র ভর্তি করাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জোর করে আমার ছেলেকে রেখে দেয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘মাদ্রাসা সুপার এখন ভুল হয়ে গেছে বলে মাফ চাচ্ছে। আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করি।’ ছেলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে জানিয়ে তিনি প্রশ্ন করেন, হাসান মাহমুদের জীবন থেকে যে দুটি বছর ঝরে গেল এর দায়ভার কে নেবে?

মিরসরাইয়ের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবেদন পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ ব্যাপারে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের ভার দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তদন্ত যাই হোক এ বছর সে পরীক্ষা দিতে পারছে না। তবে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি যাতে সে আগামী বছর (২০২১ সালে) পরীক্ষা দিতে পারে। মাদ্রাসা সুপারকে শাস্তির আওতায় আনার বিষয়টিও তিনি নিশ্চিত করেন।

এ ব্যাপারে মাদ্রাসা সুপার ছফি উল্লাহ মুঠোফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, মাদ্রাসা সুপার হিসেবে এখন সব দায়ভার আমার। কিন্তু প্রকৃত সত্য হচ্ছে, যেসব শিক্ষক দায়িত্বে ছিলেন (২০১৮ সালে রেজিস্ট্রেশন করার) তারাই ওই শিক্ষার্থীর ছবিসহ যাবতীয় কাগজপত্র বোর্ডে পাঠায়নি। এখন বদনাম হচ্ছে আমার। তিনি আরও বলেন, এ বছর তো ছেলেটি পরীক্ষা দিতে পারছে না। তবে আগামী বছর (২০২১ সাল) যাতে পরীক্ষা দিতে পারে আমরা তার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। রেজিস্ট্রেশনের সময় তো শেষ এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে। কাগজপত্র সব জমা দেওয়া হয়েছে। ইনশাআল্লাহ সে আগামী বছর পরীক্ষা দিতে পারবে। এ ব্যাপারে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।