গণভবন জনগণের ভবন : প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দুই মেয়র প্রার্থী বিজয়ী হওয়ায় ঢাকাবাসীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল রবিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) ২৩তম আইডিইবি (ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ) জাতীয় সম্মেলন এবং ‘স্কিলস রেডিনেস ফর এচিভিং এসডিজি অ্যান্ড এডপটিং আইআর ৪.০’বিষয়ক তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আইডিইবির এই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমি ঢাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই যে ভোটাররা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদের উত্তর ও দক্ষিণের মেয়রকে জয়যুক্ত করেছেন। তাদের (ঢাকাবাসী) আমার আন্তরিক ধন্যবাদ, অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’ আয়োজকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গণভবন জনগণের ভবন। আপনাদের জন্য সব সময় এর দ্বার উন্মুক্ত। আগে জানালে এ সম্মেলন গণভবনে করা যেত। আগামী সম্মেলনে গণভবনে আপনাদের দাওয়াত থাকল।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জনগণকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে তার সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যাতে তারা চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে (আইআর) যোগ দিয়ে পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে মানিয়ে চলার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। তিনি বলেন, ‘কারিগরি ভিত্তিতে বিশ্ব দ্রুত এগিয়ে চলছে। বিশ্বে খুব শিগগির চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ঘটবে। এ জন্য এই বিপ্লবের সঙ্গে মানিয়ে চলতে আমাদের দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন করা দরকার। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই সরকার কাজ শুরু করেছে। দক্ষ জনশক্তি আমাদের দেশের উন্নয়ন খাতে অবদান রাখতে পারবে। পাশাপাশি তাদের বিদেশের শ্রমবাজারে পাঠাতে পারি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী কাজ করছেন।’ অর্থনৈতিকভাবে অগ্রসর দেশ গঠনে দক্ষ মানবসম্পদ গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জনগণকে দক্ষ কর্মশক্তিতে রূপান্তরিত করতে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষার প্রতি সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে।’

মুজিববর্ষ উদযাপনের সময়ে দেশের প্রত্যেক মানুষের কর্মসংস্থানে তার সরকারের লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করেন তিনি। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মুজিববর্ষ পালনে আপনারা দেশব্যাপী কাজ করছেন। আমরা চাই আপনারা পরিবেশ, প্রতিবেশ, চাষযোগ্য জমি ও জলাধার রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। অপরিকল্পিত শিল্পায়নের জন্য যাতে কোনো আবাদী জমি নষ্ট না হয় সে জন্য সরকার সারা দেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছে। এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিপুলসংখ্যক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’ প্রধানমন্ত্রী জানান, তার সরকার গবেষণা কার্যক্রমের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে এবং বর্তমানে সবার জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে চায়। তিনি বলেন, ‘আমি চাই না বাংলাদেশের একটি লোকও গৃহহীন থাকুক। প্রতিটি লোক যাতে থাকার ঘর পায় তার জন্য জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমরা অনেকগুলো গৃহায়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ করছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে সরকারের গৃহীত ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রমের ফলে বাংলাদেশ ‘উন্নয়নের রোল মডেল’-এ পরিণত হয়েছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি বর্তমানে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এখন আমরা নিজস্ব অর্থায়নে ৯০ শতাংশ উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করছি। তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার স্বপ্ন ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত অনুযায়ী ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বাপেক্ষা উন্নত, সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে।’ ১০০ বছর পরে বাংলাদেশকে একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে দেখার জন্য তার সরকার ‘ডেল্টা প্ল্যান-২১০০’ প্রণয়ন করেছে বলে জানান তিনি। আইডিইবি সভাপতি এ কে এম এ হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল প্রমুখ।