টেকনাফে ২১ ইয়াবা কারবারির আত্মসমর্পণ

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ২১ ইয়াবা কারবারি আত্মসমর্পণ করেছেন। গতকাল সোমবার বিকেলে টেকনাফ ডিগ্রি কলেজ মাঠে এক অনুষ্ঠানে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুকের কাছে তারা আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় দেশে তৈরি ১০টি এলজি, ৩০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ২১ হাজার ইয়াবা জমা দেন তারা।

আত্মসমর্পণকারীরা হলেন আবুল কালাম ওরফে কালা সওদাগর, আবদুল আমিন ওরফে আবুল, মোহাম্মদ ইদ্রিস, মোহাম্মদ ইসমাঈল, মোহাম্মদ সাদ্দাম, বশির আহম্মদ, আবদুল গফুর, মোহাম্মদ রিদুয়ান, মোহাম্মদ তৈয়ব ওরফে মধু তৈয়ব, নুর মোহাম্মদ, ইমাম হোসেন, ফরিদ আলম, আবদুর রাজ্জাক, মোহাম্মদ রাসেল ওরফে হাজী রাসেল, ফজল করিম, শাহাদাত হোসাইন, আবদুল নুর, মোহাম্মদ জাহেদ উল্লাহ, মোহাম্মদ হোসেন ওরফে কালু, মিজানুর রহমান ও ইমাম হোসেন।

এর আগে গত বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি ১০২ ইয়াবা কারবারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এদিন আত্মসমর্পণ করা মোহাম্মদ তৈয়ব বলেন, ‘ইয়াবা অঢেল টাকা দেয়। কিন্তু শান্তি দেয় না। এ ব্যবসায় জড়ানোর পর আমি স্বজনদের সঙ্গে একটি ঈদও করতে পারিনি।’

ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, ‘মিয়ানমার ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আমাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। দেশটি থেকে বছরে ৫০ হাজার কোটি টাকার ইয়াবা আসছে। মাদক, দুর্নীতি ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জিরো ট্রলারেন্স বাস্তবায়নে আমরা মাঠে কাজ করছি। আজকের আত্মসমর্পণ তারই অংশ।’ তিনি আরও বলেন, ‘মাকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। আত্মসমর্পণকারীদের সাধুবাদ জানাচ্ছি। বাকিদেরও একই পথ অনুসরণের আহ্বান জানাচ্ছি।’

কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, জেলা কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি তোফায়েল আহমদ, কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন, টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, টেকনাফ পৌর মেয়র মোহাম্মদ ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।

এর আগে আত্মসমর্পণ উপলক্ষে জেলা পুলিশ লাইন থেকে কড়া নিরাপত্তায় ইয়াবা কারবারিদের টেকনাফ সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে আনা হয়। তাদের দেখতে সেখানে শত শত মানুষ ভিড় করেন। টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস জানান, আত্মসমর্পণের পর তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা রুজু করে আদালতের মাধ্যমে জেলাকারাগারে পাঠানো হয়েছে।