টাকা নিয়ে প্রশ্নের নামে সাজেশন দিয়ে প্রতারণা

চলমান মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষা শুরু হতে না হতে সারা দেশে সক্রিয় হয়ে উঠেছে প্রশ্নফাঁস চক্র। ফেইসবুক মেসেঞ্জার গ্রুপ ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রশ্ন দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে মোটা অঙ্কের টাকা নিলেও পরীক্ষার আগ মুহূর্তে দিচ্ছে ভুয়া প্রশ্ন বা সাজেশন। অনেক ক্ষেত্রে টাকা নেওয়ার পর কিছু না দিয়েই গ্রুপটি মুছে ফেলছে। সম্প্রতি এই চক্রের কয়েকজনকে আটকের পর এসব তথ্য জানতে পেরেছে র‌্যাব। সংস্থাটি বলছে, গুজব ছড়িয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়াই চক্রটির মূল উদ্দেশ্য। চক্রের হোতাদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে জানিয়ে র‌্যাব এই ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিও বলেছেন, এবার যেন কেউ প্রশ্নফাঁস করতে না পারে সে জন্য বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থা যথেষ্ট সতর্ক রয়েছে। প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে গুজব ছাড়ানো হচ্ছে জানিয়ে এজন্য সব পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতন থাকার আহ্বানও জানিয়েছেন মন্ত্রী। 

প্রশ্নফাঁস চক্রকে নজরদারিতে রাখা র‌্যাব-২ এর সিপিসি-১ কোম্পানি কমান্ডার মেজর রুহুল আমিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও ফল পরিবর্তনের কথা বলে একটি চক্র পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে। র‌্যাবের সাইবার মনিটরিং ইউনিট বেশ কিছুদিন ধরেই তাদের নজরদারিতে রেখেছে। কয়েকজন গ্রেপ্তারও হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল হোতাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

তিনি বলেন, ‘চক্রের মাঠ পর্যায়ে যারা রয়েছে তারা মূলত একটি ফেইসবুক গ্রুপ থেকে প্রশ্ন বা সাজেশন পাওয়ার আশ্বাসে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা নিয়ে থাকে।’ 

র‌্যাবের একটি সূত্র জানায়, গত ১, ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীসহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে চক্রের বেশ কয়েক সদস্যকে আটক করা হয়। তারাই জিজ্ঞাসাবাদে দিয়েছে নানান তথ্য। এর মধ্যে রাজধানী হাজারীবাগ থানায় আটক মাসুম খালাসী জানায়, সে রায়ের বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের বাণিজ্যিক বিভাগে অধ্যয়নরত। সে হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেইসবুক মেসেঞ্জারে প্রশ্ন দেওয়ার কথা বলে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা নিত।

গাজীপুর থেকে আটক আবু বকর সিদ্দিকের মুঠোফোন ঘেঁটে হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে র‌্যাব। র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের প্রাইভেট পড়ান। ফেইসবুক আইডির মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু করেন। প্রশ্নপত্র দেওয়ার কথা বলে ৫ থেকে ২০ হাজার পর্যন্ত টাকা নিতেন তিনি। পরে প্রশ্নের পরিবর্তে সাজেশন দিতেন।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) গভীর রাত পর্যন্ত রাজধানীর পল্লবী ও আশুলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসএসসি পরীক্ষার ভুয়া প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে সামিউল আজমাইন, মো. আল আলিফ হোসাইন ওরফে আলিফ, জামিল আল মামুন ওরফে তন্ময় ও মো. মনিরুল ইসলাম পাপ্পু নামের চারজনকে আটক করে র‌্যাব-৪। তাদের কাছ থেকে প্রশ্নফাঁসের আলামত উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব-৪ এর সিনিয়র সহকারী এসপি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃতরা বিভিন্ন কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক ও অনার্সে পড়াশোনা করে। এই চক্রের আরও ৭ থেকে ৮ জনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এদের প্রত্যেকের একাধিক মেসেঞ্জার গ্রুপ রয়েছে।’

র‌্যাব-১ এর সহকারী পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আবু বকর সিদ্দিক প্রশ্ন দিতে না পারলেও প্রতারণার মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছিলেন। টাকা নিয়ে তিনি সাজেশন দিতেন। পরীক্ষার আগের রাত ১২টা বা ২টার পরে প্রশ্ন দেবেন এমন প্রতিশ্রুতি দিতেন তিনি।