টার্গেটে না পৌঁছানো পর্যন্ত শুদ্ধি অভিযান চলবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। গতকাল বুধবার নগরীর পতেঙ্গায় র‌্যাব-৭ কার্যালয়ে আলোচিত  ৩৭০ লিটার তরল কোকেন ধ্বংস অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘টার্গেটে না পৌঁছানো পর্যন্ত শুদ্ধি অভিযান চলবে। তবে সুনিশ্চিত হয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে। ভবিষ্যতে যে শুদ্ধি অভিযানের আওতায় আসবে তাকে সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করেই আমরা ধরব।’ ২০১৫ সালের ৭ জুন চট্টগ্রাম বন্দরে একটি কন্টেইনার জব্দ করে সিলগালা করে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। আদালতের নির্দেশে কন্টেইনারটি খুলে ১০৭টি ড্রাম থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ৫৯ ও ৯৬ নম্বর ড্রামে ১৮৫ লিটার করে মোট ৩৭০ লিটার তরল কোকেন ছিল। র‌্যাব বলছে, এ কোকেনের মূল্য ৯ হাজার কোটি টাকা। এসব তরল কোকেন আদালতের নির্দেশে গতকাল পতেঙ্গা র‌্যাব-৭ কার্যালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে মাটিচাপা দিয়ে ধ্বংস করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে আটক কোকেন চালানের সঙ্গে দেশি-বিদেশি আন্তর্জাতিক চক্র জড়িত। তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। ইন্টারপোলের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। যেকোনো মাদক সীমান্ত দিয়ে যাতে ঢুকতে না পারে সে জন্য কোস্টগার্ড বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোকেনের চালানটি কোথায় যাচ্ছিল যারা আসামি তারাই জানবে। আমরা বেশির ভাগকেই শনাক্ত করেছি। বিচারের মুখোমুখি করেছি। উপযুক্ত শাস্তি তারা পাবেন এই মাদক চালানের জন্য।

এর আগে কোকেন ধ্বংস অনুষ্ঠানের সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর যে ঘোষণা মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, সে জায়গাটিতে আরও শক্ত অবস্থানে আমরা আসছি। আমরা কোনোক্রমেই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস হতে দেব না।’ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, মাদক প্রতিরোধে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ইয়াবা। মিয়ানমার থেকে কক্সবাজার হয়ে ইয়াবা পাচার হয়। এসব মাদক নির্মূলে কক্সবাজারে ৫টি র‌্যাব ক্যাম্প করা হয়েছে। একটি ব্যাটালিয়নও উদ্বোধন হবে শিগগিরই। মাদক কারবারিদের সতর্ক করে বলেন, যত বড় ক্ষমতাবান হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। যারা মাদক সরবরাহ করে, ব্যবসা করে তারাও একধরনের রাজাকার। কোকেন জব্দের মামলার বিচার বন্ধে অপচেষ্টা হয়েছে জানিয়ে র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, বাংলাদেশের অনেক স্বনামধন্য আইনজীবী কোকেন মামলার আসামিদের জামিনের চেষ্টা করেছিলেন। মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিজ্ঞ বিচারক এবং র‌্যাবের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কারণে পারেননি।