স্বশাসিত সংস্থার অর্থ কোষাগারে জমার বিল পাস

তুমুল বিরোধিতার মধ্যে স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্র্তৃপক্ষ পাবলিক নন-ফাইন্যানশিয়াল করপোরেশনসহ স্বশাসিত বিভিন্ন সরকারি সংস্থার তহবিলের অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান বিল-২০২০ জাতীয় সংসদে গতকাল বুধবার পাস হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন। বিলে স্বায়ত্তশাসিতসহ স্বশাসিত সরকারি সংস্থাসমূহ নিজেদের পরিচালন ব্যয় ও নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যয়ের বাইরে নিজস্ব তহবিলের উদ্বৃত্ত অর্থ প্রতি অর্থবছর শেষ হওয়ার পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিলে এসব সরকারি সংস্থাকে নিজস্ব তহবিল সম্পর্কে তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করার বিধান করা হয়েছে। বিলে সঠিক তথ্য প্রদান না করলে ওই সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধানেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। বিলে এসব সরকারি সংস্থা তাদের নিজস্ব তহবিলে আপৎকালীন পরিচালনা ব্যয় হিসাবে মোট বার্ষিক ব্যয়ের শতকরা ২৫ ভাগ অর্থ অতিরিক্ত জমা রাখতে পারবে বলে বিধানে প্রস্তাব করা হয়েছে। বিলে এসব সংস্থার নিজস্ব পেনশন ও ভবিষ্য তহবিল পৃথকভাবে পরিচালনা করতে পারবে বলেও বিধানে প্রস্তাব করা হয়। এ ছাড়া বিলে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিলের তফসিলে স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিতসহ স্বশাসিত মোট ৬১টি সংস্থাকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিল উত্থাপনের সময় বিরোধী দল জাতীয় পার্টির কয়েকজন এবং বিএনপির দুজন এর তুমুল বিরোধিতা করেন। তারা বিলটি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। সংশোধনী প্রস্তাবও দেন। তারপরও বিল প্রত্যাহার না করায় পরে কেউ সংশোধনী প্রস্তাবের আলোচনায় কোনো সংশোধনী দেননি।

বিলটি পাসের সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সাংসদ হারুনুর রশীদ স্পিকারের উদ্দেশে বলেন, আমরা সংশোধনী প্রস্তাব দিয়েও আলোচনা করিনি। আর এ কালো আইন পাসের প্রতিবাদে এবং যেহেতু জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়নি, তাই আমরা সংসদ থেকে ওয়াকআইট করলাম। যদিও তখন মাগরিবের বিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়। বিএনপির মাত্র তিনজন হারুনুর রশীদ, জাহিদুর রহমান ও রুমিন ফারহানা ওয়াকআউট করেন। জাপার কেউ ওয়াকআউট করেননি।