একাত্তরের ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের স্মৃতিবিজড়িত সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা ও সেখানে থাকা স্থাপনার বিষয়ে আগামী ১১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিস্তারিত জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের শুনানিতে গতকাল বুধবার রাষ্ট্রপক্ষকে এ মৌখিক নির্দেশ দেয় বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী বশির আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এম সাইফুল আলম।
হাইকোর্ট শুনানিকালে অভিমত দেয়, বঙ্গবন্ধুর এই ঐতিহাসিক ভাষণ সব জায়গায় বাজানো উচিত। একইসঙ্গে এই ভাষণটি পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা, বর্তমান প্রজন্মকে শোনানো এবং এর মর্মার্থ তাদের জানানো উচিত। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ভাষণের স্থানটি সংরক্ষণ না করা এবং উদ্যানের ভেতরে শিশুপার্ক নির্মাণ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে আদালত বলে, ‘বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি ধ্বংস করার উদ্দেশ্যেই এখানে শিশুপার্ক নির্মাণ করা হয়েছিল। এত বছর পরও কেন সেটি এখান থেকে সরানো হয়নি?’
৭ মার্চকে ‘জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস’ ঘোষণা, যে মঞ্চে বঙ্গবন্ধু ভাষণ দিয়েছিলেন সেখানে সেই ভাষণের আদলে বঙ্গবন্ধুর তর্জনি উঁচানো ভাস্কর্য নির্মাণ করাসহ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে ২০১৭ সালে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন অ্যাডভোকেট বশির আহমেদ। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে একই বছরের ২০ নভেম্বর এ নিয়ে আদালত রুল জারি করে। রুলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের যে মঞ্চে সাতই মার্চের ভাষণ দিয়েছিলেন সেটি পুনর্নির্মাণে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, ভাষণের স্থানটিতে কেন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে না এবং ৭ই মার্চকে কেন জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হবে না জানতে চাওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বিষয়টি গতকাল শুনানির জন্য আসে।