আইসিজেতে গাম্বিয়ার মামলায় পক্ষভুক্ত হওয়া উচিত বাংলাদেশের

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর ড. আলী রীয়াজের জন্ম ৩ এপ্রিল ১৯৫৮ সাল, ঢাকায়। তিনি ১৯৮৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের পড়াশুনা শেষ করেন।  এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যোগাযোগ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন এবং ১৯৯৩ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচ-ডি লাভ করেন। ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটিতে যোগ দেওয়ার আগে অধ্যাপক রীয়াজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রিটেনের লিংকন বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন।  এছাড়া তিনি লন্ডনে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন ১৯৯৫ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত।  দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি এবং রাজনৈতিক ইসলাম বিষয়ের বিশেষজ্ঞ হিসেবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে তার স্বীকৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটি ২০১২ সালে ডক্টর রীয়াজকে ‘ইউনিভার্সিটি প্রফেসর’ পদে ভ‚ষিত করে। তার প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে- ‘Voting in A Hybrid Regime: Understanding’ (২০১৮) ‘Bangladeshi Election
(২০১৯), ‘Bangladesh: A Political History since Independence’(২০১৬)। সম্প্রতি তিনি যৌথভাবে সম্পাদনা করেছেন-Political Violence in South Asia’ (২০১৮) এবং ‘Routledge Handbook of Contemporary Bangladesh’(২০১৬)। রোহিঙ্গা গণহত্যা প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত বা আইসিজের নির্দেশনা নিয়ে তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অনিন্দ্য আরিফ

দেশ রূপান্তর : আন্তর্জাতিক বিচার আদালত বা আইসিজের সাম্প্রতিক সময়ে দেওয়া আদেশে অসম্মতি জানিয়ে মিয়ানমার তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। এদিকে চীন আবার রাখাইন প্রদেশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার জন্য মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। সেক্ষেত্রে আইসিজের এই আদেশের কার্যকর প্রয়োগ কতটুকু হবে বলে আপনি মনে করেন?

আলী রীয়াজ : আইসিজের আদেশের প্রধান দিকটি হচ্ছে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর যে সদস্যরা আছেন প্রায় সাড়ে ছয় লাখের মতো- তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তাদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করা। রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নির্মূল করার ব্যাপারে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ইতিমধ্যেই তাদের লক্ষ্যের একটা বড় দিক অর্জন করে ফেলেছে গণহত্যার মাধ্যমে এবং প্রায় দশ লাখ রোহিঙ্গাকে দেশত্যাগে বাধ্য করে। আইসিজে’র বাকি যেসব নির্দেশনা তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রোহিঙ্গা গণহত্যা সংক্রান্ত যেসব অভিযোগ এসেছে, সে সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণ করা। আমার আশঙ্কা যে এই সব প্রমাণ ইতিমধ্যেই ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। মিয়ানমার প্রাথমিকভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখালেও এই সব নির্দেশনা মিয়ানমারকে মানতে হবে, কেননা এই বিচার প্রক্রিয়ায় মিয়ানমার অংশ নিয়েছে। কিন্তু নির্দেশনার বিষয় নিয়ে মিয়ানমার নিয়মিতভাবে প্রতিবেদন দিলেও অবস্থার কোনো পরিবর্তন ঘটবে না। মনে রাখতে হবে যে এগুলো অন্তর্বর্তী আদেশ; বিচার প্রক্রিয়া এখনো শুরুই হয়নি।  ফলে ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে এই নির্দেশনার প্রতীকী মূল্য অনেক হলেও এগুলোর বাস্তব প্রতিক্রিয়া খুব বেশি হওয়ার নয়।  সেক্ষেত্রে কার্যকর প্রয়োগের বিষয় কেবল চীনের অর্থনৈতিকভাবে আরও বেশি সংশ্লিষ্ট হওয়া বা বিনিয়োগের ওপরে নির্ভর করে না। আমাদের মনে রাখা দরকার যে চীন মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী দেশ নয়, সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ হচ্ছে সিঙ্গাপুরের। জাপানের বিনিয়োগ বড় অংকের। ভারতের বিনিয়োগ তো আছেই, সম্প্রতি ঘোষিত বাজেটে মিয়ানমারে ভারত রাখাইন প্রদেশে বাসস্থানসহ পরিকাঠামো তৈরি করবে বলে এবারে বরাদ্দ বাড়িয়েছে  ১৭০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৩০০ কোটি রুপি করা হয়েছে। তবে বৈশ্বিক রাজনীতিতে প্রভাব এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে চীনের ভেটো ক্ষমতা থাকার কারণে চীনের এই অংশীদারত্ব থেকে বোঝা যাচ্ছে মিয়ানমার নিয়ে তাদের অবস্থানের কোনো বদল হবে না।  দুর্ভাগ্যজনক যে মিয়ানমারের ওপরে আন্তর্জাতিক চাপের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

দেশ রূপান্তর : আইসিজের আদেশটি মিয়ানমারের প্রতি কড়া ও সুস্পষ্ট নির্দেশ। আমরা জানি, জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আইনি সিদ্ধান্তদাতা এ সংস্থাটির যেকোনো সালিশি, রায় ও নির্দেশ অবশ্য পালনীয়। সেদিক থেকে মিয়ানমারের প্রতি এই আদেশটিতে এমন কোনো দ্ব্যর্থতাবাচক নির্দেশনা নেই যে শব্দের ফাঁকফোকর বের করে তারা সময়ক্ষেপণের কৌশল নিতে পারে। সে বিবেচনায় মিয়ানমার এই আদেশকে কতটুকু মেনে চলবে বলে আপনি ধারণা করেন?

আলী রীয়াজ : আমি আগেই বলেছি, মিয়ানমার এই সব নির্দেশনার অংশবিশেষ মানবে। কেননা না মানলে তা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে যাবে। কিন্তু নির্দেশনায় মধ্যে ফাঁকফোকর না থাকলেই যে মিয়ানমার তা নিয়ে কালক্ষেপণ করবে না তা মনে করার কারণ নেই। মিয়ানমার অতীতে বারবার এই পথ বেছে নিয়েছে। গণহত্যার অভিযোগ এড়িয়ে যাওয়ার জন্য মিয়ানমার একটি তথাকথিত স্বাধীন তদন্ত কমিশন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। তাতে গণহত্যার প্রমাণ নেই বলে বলা হচ্ছে। অং সান সু চি ২৩ জানুয়ারি ফিনান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে এই প্রতিবেদনের উল্লেখ করে স্বীকার করেছেন যে, যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে। তবে তিনি এর বিচারের জন্য সময় চেয়েছেন; লিখেছেন ‘যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য মিয়ানমারকে সময় দিন।’ স্পষ্টতই, এটিই হবে মিয়ানমারের পরবর্তী কৌশল।

দেশ রূপান্তর : ইসলামি সম্মেলন সংস্থা (ওআইসি) নিয়ে সাধারণ্যে নানা অসন্তোষ থাকলেও রোহিঙ্গা নির্যাতন ইস্যুতে গাম্বিয়াকে সহায়তাদানের মতো কাজটিতে উদ্যোগী ভ‚মিকা নিয়েছে। এখন আইসিজের নির্দেশের পর তাদের ভ‚মিকা কেমন থাকতে পারে বলে আপনার মনে হয়?

আলী রীয়াজ : ওআইসি গাম্বিয়াকে প্রাথমিকভাবে সহযোগিতা করলেও মামলা করেছে দেশ হিসেবে গাম্বিয়া। আদালতের প্রাথমিক শুনানিতে এই বিষয়ের নিষ্পত্তি হয়েছে। ওআইসি’র পাশাপাশি কানাডা ও নেদারল্যান্ডস গাম্বিয়াকে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আইসিজেতে বিচারের শুনানি শুরুর আগে দুই দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেয়। তারা যৌথ বিবৃতিতে গণহত্যা সনদে স্বাক্ষরকারী সব রাষ্ট্রকে গাম্বিয়ার উদ্যোগে সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছে। ফলে এখন কেবল ওআইসি’র সহযোগিতার ওপরে নির্ভর করার কারণ নেই। ওআইসি সাংগঠনিকভাবে খুব বেশি দূর এগুতে পারবে বলে মনে হয় না কেননা সংস্থার ভেতরে বিভিন্ন ধরনের মতপার্থক্য আছে। কিন্তু ওআইসি’র অনেক সদস্য দেশের সঙ্গে রাশিয়া এবং চীনের ভালো সম্পর্ক আছে, বাংলাদেশ তাদের প্রভাবিত করতে পারলে সেটা কাজে দেবে।

দেশ রূপান্তর : ওআইসি ‘মুসলিম’ দেশের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা হওয়ার কারণে মিয়ানমার ‘মুসলিম-অমুসলিম’ প্রসঙ্গ তুলে আন্তর্জাতিক মহলকে বিভ্রান্ত করতে পারে কি না বা তার সম্ভাবনা কতটুকু?

আলী রীয়াজ : রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের গণহত্যা এখন আর মুসলিম-অমুসলিম বিষয় নেই। আসলে সেভাবে কখনোই বিবেচিত হয়নি। গোড়া থেকেই যুক্তরাষ্ট্র বেশ শক্ত অবস্থান নিয়েছে। কানাডা এর বিরুদ্ধে কথা বলে এসেছে। আমি কানাডা-নেদারল্যান্ডসের যৌথ বিবৃতির কথা বলেছি। ফলে এই ধরনের প্রচারণা হালে পানি পাবে না।

দেশ রূপান্তর : আইসিজের এই আদেশ দেওয়ার বিষয়ে বিচারকরা সর্বসম্মত হয়েছেন। এমনকি এই সংক্রান্ত বেঞ্চে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে যে বিচারককে নিয়োগ করা হয়েছিল, তিনিও মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। চীন, ভারত, জাপান ও রাশিয়ার বিচারকরাও আদালতের আদেশে সমর্থন দিয়েছেন। বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য কী ইতিবাচক তাৎপর্য বহন করছে?

আলী রীয়াজ : আদালতের সব বিচারক এই নিয়ে একমত হয়েছেন যে, মিয়ানমারকে অন্তর্বর্তী আদেশ দেওয়া হোক। এটা ইতিবাচক। কিন্তু তা থেকে এ কথা মনে করার কোনো কারণ নেই যে চীন, ভারত, জাপান ও রাশিয়ার বিচারকরা তাদের দেশের নীতিনির্ধারণ করেন। তাছাড়া আমাদের মনে রাখা দরকার, চীনা বিচারক ভাইস-প্রেসিডেণ্ট শুয়ে হেনকিন আলাদা করে যে মত দিয়েছেন তাতে বেশ কিছু বিষয়েই তার ভিন্নমতের কথা জানিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেছেন যে গাম্বিয়ার এই মামলা করার অধিকার আছে এই বিষয়ে তার ভিন্নমত আছে, ভিন্নমত আছে আদৌ গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে কি না তা নিয়েও।  মিয়ানমারের পক্ষ থেকে নিয়োজিত এডহক বিচারক ক্লাউস ক্রেস একটি ডিক্লারেশন জমা দিয়েছেন। এগুলো আপনাকে বিবেচনায় নিতে হবে।

দেশ রূপান্তর : এই আদেশ কি নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য, বিশেষ করে চীন ও রাশিয়াকে তাদের আগের অবস্থান থেকে সরে আসতে সহায়ক ভ‚মিকা নেবে? এক্ষেত্রে বাংলাদেশের করণীয় কী?

আলী রীয়াজ : চীন এবং রাশিয়ার ভ‚মিকার কারণ ভ‚-রাজনৈতিক এবং বাণিজ্যিক– দুটোই। রাশিয়া মিয়ানমারে অস্ত্রের ব্যবসা করে।  সে চাইবে না এই বাজার নষ্ট হোক। চীনের বিবেচনা হচ্ছে তার প্রভাব বলয়কে আরও শক্তিশালী করা। মিয়ানমারের ভেতরে দিয়ে তার জ্বালানি সরবরাহের পথ খোলা রাখা। বঙ্গোপসাগরে তার প্রভাব তৈরি করা। এই সব বিবেচনার বাইরে গিয়ে চীন বা রাশিয়া ভ‚মিকা নেবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।  বাংলাদেশের করণীয় হচ্ছে চীন এবং রাশিয়ার ওপরে প্রভাব বিস্তারের জন্য একদিকে বাংলাদেশে তাদের যে সব বিনিয়োগ আছে সেগুলোকে ব্যবহার করা এবং ওআইসি’তে রাশিয়া এবং চীনের যেসব বন্ধু আছে তাদের ব্যবহার করার চেষ্টা করা।

দেশ রূপান্তর : রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ১০টি দেশের জোট আসিয়ান এবং দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক রাষ্ট্রসংঘ সার্ককে সক্রিয় করার জন্য বাংলাদেশের কী উদ্যোগী ভূমিকা নেওয়া উচিত? বর্তমানে এ দুটি জোট অকার্যকর রয়েছে, সেক্ষেত্রে কীভাবে জোট দুটিকে কাজে লাগানো যায়?

আলী রীয়াজ : সার্কের ভ‚মিকার কোনো সুযোগ নেই। কেননা সার্ক ইতিমধ্যেই নিজেদের ভেতরকার সমস্যার কারণে অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। আসিয়ানের নীতি যে কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, সেটা একটা বড় বাধা। গত বছরের জুনে আসিয়ানের শীর্ষ বৈঠকের ঘোষণাতেই মিয়ানমার প্রসঙ্গ এসেছিল, কিন্তু সেটা খুব শক্তিশালী নয়। তবে মালয়েশিয়া বারবার এই প্রসঙ্গ তুলছে। সম্প্রতি এক জরিপে দেখা যাচ্ছে দেশগুলোর অধিকাংশ মানুষ আসিয়ানের এই ভূমিকা নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। বাংলাদেশের সামনে করণীয় হচ্ছে মালয়েশিয়ার উদ্যোগে সহযোগিতা করা, ইন্দোনেশিয়ার পক্ষ থেকে যে সব ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সেগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এর জন্য কেবল সরকারের কুটনৈতিক চ্যানেল ব্যবহার না করে সিভিল সোসাইটর সাহায্য নেওয়া দরকার।  

 

দেশ রূপান্তর : মিয়ানমারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে যে সমঝোতা-স্মারক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, তাকে অনেক বিশেষজ্ঞই মিয়ানমারের তৈরি ফাঁদ বলে অভিহিত করছেন। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?

আলী রীয়াজ : এই চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকেই আমি বলে এসেছি যে বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্ত সঠিক হয়নি। ২০১৭ সালের নভেম্বরে যখন এই চুক্তি হয় তখন আমি সন্দেহ প্রকাশ করেছিলাম যে এটি মিয়ানমারের অনুক‚লেই যাবে। ২৪ নভেম্বর ২০১৭ বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেই আমি এই মত প্রকাশ করেছিলাম। তারপরেও আমি একাধিকবার তা উল্লেখ করেছি। অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করে এই অস্পষ্ট চুক্তি করা হয়েছে।  আমি একা নই, এ বিষয়ে যারাই ভেবেছেন তারাই একই মত দিয়েছেন। এটা বাংলাদেশের কূটনৈতিক ব্যর্থতার একটা বড় উদাহরণ এবং এর জন্য বাংলাদেশকে বড় ধরনের মাশুল গুনতে হচ্ছে। স্পষ্টত চীনের অনুরোধে এই ধরনের প্রস্তাবে বাংলাদেশ রাজি হয়েছিল; কিন্তু চীন না মধ্যস্থতাকারী হয়েছে, না গ্যারেন্টর হয়েছে। অপ্রাসঙ্গিক মনে হলেও এখানে একটা বিষয় উল্লেখ করি, বাংলাদেশের এখন উচিত হবে আইসিজে’তে গাম্বিয়ার করা মামলায় পক্ষ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়া। সেটার সুযোগ আছে, বাংলাদেশের উচিত সেটি এখনই বিবেচনায় নিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা।