শুদ্ধ সংস্কৃতির প্রতিটি শাখার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জন্মাক

এ বছর সংগীত বিভাগে একুশে পদক পেতে যাচ্ছেন প্রখ্যাত রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী মিতা হক। রাষ্ট্রের অন্যতম সম্মান পাওয়ার অনুভ‚তি, গান নিয়ে চিন্তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ

 

 

একুশে পদক পেতে যাচ্ছেন। আপনাকে দেশ রূপান্তরের পক্ষ থেকে অভিনন্দন...

দেশ রূপান্তরের প্রত্যেককে অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

পদকপ্রাপ্তির অনুভ‚তি নিশ্চয়ই অনেক আনন্দের...

অবশ্যই। রাষ্ট্রের অন্যতম সম্মান পেতে যাচ্ছি ভাবতে খুব ভালো লাগছে। আমি পদকসংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে এই ভেবে ভালো লাগছে যে, জীবদ্দশায় পুরস্কার পাওয়ার আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাাগি করতে পারছি। একই সঙ্গে একটু মন খারাপও আছে। আমার আজকের অবস্থানে আশার পেছনে যে চারজনের সবচেয়ে বেশি অবদান তারা এখন বেঁচে নেই। আমার মা, বাবা, স্বামী এবং শিক্ষক ওয়াহিদুল হক। তারা এই সুখবর শুনে যেতে পারেননি।

 

অনেকে বলে পুরস্কারপ্রাপ্তিতে দায়িত্ব বেড়ে যায়...

আমি কথাটির সঙ্গে একমত নই। আমি গান করার শুরু থেকেই দায়িত্বের সঙ্গেই গান করছি। চেষ্টা করে যাচ্ছি রবীন্দ্রনাথের গানের বাণী ও সুরের শুদ্ধতা সমাজে ছড়িয়ে দিতে। রবীন্দ্রনাথের গানের মধ্যেই জীবন পরিচালনার রদন পেয়েছি। অনেক বাধা, সংগ্রাম পেরিয়ে আজকের অবস্থানে এসেছি। সেই দায়িত্ববোধ সবার কাছে ভালো লেগেছে বলেই তারা আমাকে অনেক আগেই নিজের মনে জায়গা দিয়েছেন। আমি একজন সফল রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী। আমার দায়িত্ব না থাকলে নিশ্চয়ই এই পুরস্কার আমাকে দেওয়া হতো না।

 

বাধার কথা বলছিলেন, কী ধরনের বাধা ছিল...

আসলে একটা সময় কিন্তু এদেশে রবীন্দ্রনাথের গান করা নিষিদ্ধ ছিল। সে সময় অবশ্য আমার জন্ম হয়নি। তখন যারা গান করতেন তারা এটাকে সংগ্রামের মতো করেই করতেন। যেন রবীন্দ্রনাথের গান এদেশে স্বচ্ছন্দে গাওয়া যায়। আমাদের সময়টায় এত সমস্যা ছিল না। কিন্তু ১৯৭৫ পরবর্তী কয়েক বছর আবারও বাধার মুখোমুখি হই। বিটিভিতে গাইতে গেলে তখন আগেই গানের কথা জমা দিতে হতো। সেখানে দেখা হতো শুদ্ধ বাংলা কথা আছে কিনা। যেমনÑ প্রণাম, দেবতা, প্রভু ইত্যাদি। এসব কথা থাকলে সেই গান গাইতে দেওয়া হতো না। এখন অবশ্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই বিধিনিষেধ নেই। কিন্তু মানুষের মনেই অন্ধত্ব ঢুকে গেছে। এখন মানুষ শুদ্ধ বাংলাকে গ্রহণ করতেই প্রস্তুত নয়। যেন আরবি শব্দই তাদের বেশি পছন্দ!

 

রবীন্দ্রসংগীতকে কোথায় দেখার স্বপ্ন দেখেন...

আসলে বলতে খুব খারাপ লাগে, তাও বলতে হয়Ñ এখন বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে এত বেশি অন্ধত্ব, অশিক্ষা ঢুকে গেছে যে কোনো শুদ্ধ সংস্কৃতিই আর সেভাবে জায়গা করে নিতে পারছে না। তাই আমি চাইব, শুধু রবীন্দ্রসংগীত নয়, সমাজের মানুষের মনে যেন শুদ্ধ সংস্কৃতির প্রতিটি শাখার প্রতি উচ্চতর শ্রদ্ধাবোধ জন্মায়।