রাজশাহীতে তথ্যমন্ত্রী

বিএনপির হাঙ্গামার আশঙ্কায় অনেকে ভোটকেন্দ্রে যায়নি

বিএনপির হাঙ্গামার আশঙ্কায় ঢাকা সিটি নির্বাচনে অনেকে ভোটকেন্দ্রে যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভায় এ কথা বলেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি প্রথম থেকে বলে আসছে ঢাকা সিটির নির্বাচন হচ্ছে তাদের আন্দোলনের অংশ। তাদের আন্দোলন সম্পর্কে মানুষ জানে। ২০১৪ সালে তারা নির্বাচন বানচাল করার জন্য পাঁচশ ভোটকেন্দ্র জ্বালিয়ে দিয়েছিল। ভোটার ও নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং অফিসারসহ অনেককে হত্যা করেছে। সুতরাং তারা যখন ঘোষণা দেয় এই নির্বাচন আন্দোলনের অংশ তখন মানুষ সেই হাঙ্গামার আশঙ্কা করে। সেই কারণেই অনেকে ভোটকেন্দ্রে যায়নি।’ এছাড়াও বিএনপি প্রথম থেকে ইভিএমের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা না চালালে এই উপস্থিতি আরও ৮-১০ শতাংশ বেশি হতো বলে জানান তিনি।

হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি সবসময় প্রযুক্তিকে ভয় পায়, আর যখনই নির্বাচনে হেরে যায় তখন তাদের আচরণ ‘নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা’র মতো। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন নিয়ে তাদের অভিযোগও সে রকম।’

জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেরাজ উদ্দিন মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপির নেতারা বলেছেন ইভিএম মেশিনে নাকি রাত পর্যন্ত ভোট দেওয়া হয়। ইভিএম মেশিনে যদি এমন সুযোগ থাকত তাহলে ভোটগ্রহণের হার ২৫ শতাংশ থাকত না, ৬০ শতাংশের ওপরে যেত। ইভিএম মেশিন নিজেই সব দলের জন্য পোলিং এজেন্টের কাজ করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কারও যদি আঙুলের ছাপ না মেলে তবে তার কোনোভাবেই ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। এমনকি সিইসিকেও তা না মেলায় ভোট দিতে বিড়ম্বনা পোহাতে হয়েছে।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ঢাকা দুই সিটির নির্বাচনে কোনো কেন্দ্র দখল, বড় কোনো হাঙ্গামা হয়নি, সিল মারার কোনো ঘটনা ঘটেনি। অতীতে দেখেছি আমাদের দেশে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে অনেক হাঙ্গামা, কেন্দ্র দখল ও মানুষ মারা যায়। ঢাকা সিটি করপোরেশনে ইভিএম মেশিনের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের ফলে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। শুধু দেশের বিচারে নয় উপমহাদেশীয় মানদণ্ডে ও ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন ছিল অত্যন্ত ভালো একটি নির্বাচন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আজকে যে সরকার সেটা আওয়ামী লীগের সরকার, সরকারের আওয়ামী লীগ নয়। আমাদের মূল ঠিকানা দল। আমরা যারা নির্বাচিত এমপি, মন্ত্রী থেকে শুরু করে ইউপি চেয়ারম্যান পর্যন্ত সবার মূল ঠিকানা হচ্ছে দল। সুতরাং দায়িত্ব পালন করার সময় দলকে গুরুত্ব দিতে হবে। দলে অনেক অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকেছে। এদের চিহ্নিত করে তারা যদি দলীয় পদে থাকে তাদেরকে বাদ দেওয়া এবং ২০১৪ সালের পর যারা পিঠ বাঁচানোর জন্য অথবা ক্ষমতার সঙ্গে থাকার জন্য আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে তাদেরকে দলীয় পদে দেওয়া যাবে না।