জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়

সুরা পড়তে বলে র‌্যাগিং দুই ছাত্রী হাসপাতালে

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) দুই ছাত্রীকে র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তার মালিকানাধীন ছাত্রী মেসে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার দুদফায় নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ফারহানা রহমান লিয়না নামে এক ছাত্রীকে র‌্যাগ দেওয়া হয়। একই দিন সানজিদা স্বর্ণা নামে আরেক ছাত্রীও র‌্যাগিংয়ের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ড. শেখ সুজন আলীকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের অ্যান্টি র‌্যাগিং কমিটি গঠন করেছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন প্রক্টর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান ও দুই হল প্রভোস্ট।

ভুক্তভোগী ছাত্রীরা জানান, চলতি মাসের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চেকপোস্ট সংলগ্ন ছাত্রী মেসে অন্য নতুন ছাত্রীদের সঙ্গে তারাও কক্ষ ভাড়া নেন। গত সোমবার তাদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বুধবার কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে সিনিয়ররা র‌্যাগ দেন। এতে লিয়না সেদিনই অসুস্থ হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার রাতে স্বর্ণাকে

 আবার ডেকে সিনিয়র ছাত্রীরা শরীরে ওড়না না থাকা ও সুরা বলতে না পারায় মানসিক নিপীড়ন করেন। এরপর তিনি কক্ষে ফিরে যাওয়ার সময় সিঁড়ি থেকে পড়ে আহত হন। রাতেই তাকে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে বমি করলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় স্বর্ণাকে।

মেয়ের ওপর নিপীড়নের খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে মা ক্যাম্পাসে আসেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার মেয়েকে অমানবিকভাবে র‌্যাগ দেওয়া হয়েছে। তাকে পোশাক পরা, সুরা বলা নিয়ে র‌্যাগ দেওয়া হয়েছে। আমার মেয়ে কী পোশাক পরবে, সেটি আমরা ঠিক করব। ওরা কে এসব নিয়ে কথা বলার।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রশাসন দায়িত্ব নিতে না পারলে আমার মেয়েকে এখানে পড়াব না।’

এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে তোলপাড় শুরু হলে গতকাল শুক্রবার হাসপাতালে ছাত্রীদের দেখতে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ড. শেখ সুজন আলী, সহকারী প্রক্টর ও নাট্যকলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আল-জাবির, অগ্নিবীণা হলের হাউজ টিউটর মাসুদুল মান্নান, নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক মুশফিকুর রহমান হীরক প্রমুখ।

এ সময় আল-জাবির সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। এটি স্পষ্ট, তাদের মানসিক নিপীড়ন করা হয়েছে। এতে ভয়ে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে। এদের একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। এই নির্যাতন যারা করেছে তাদের বিচার করতে না পারলে আমি পদত্যাগ করব।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শক উপদেষ্টা ড. শেখ সুজন আলী বলেন, ‘র‌্যাগিং নিয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বহন করছে।’ প্রক্টর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান বলেন, ‘আগামী রবিবারের মধ্যে এ বিষয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ইতিমধ্যে চার সদস্যের একটি অ্যান্টি র‌্যাগিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। দ্রুত জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ ঘটনায় নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগ এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কমিটি কাল রবিবার সকাল ১০টায় র‌্যাগিংবিরোধী কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ জড়িতদের বিচার চেয়েছে।