সৌদি আরবের ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান শামীম। গত সপ্তাহে সৌদি আরব থেকে পরিবারকে কিছুদিন সময় দিতে দেশে এসেছেন। সেই সুযোগে গতকাল শনিবার বিকেলে সহধর্মিণীর ইচ্ছায় ফ্ল্যাট কেনার জন্য চট্টগ্রামের পাঁচ তারকা হোটেল র্যাডিসন ব্লুতে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন (রিহ্যাব) আয়োজিত আবাসন মেলায় এসেছেন। দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, রিহ্যাবের এই আবাসন মেলায় দুয়েকটি স্টল দেখেছি। কিন্তু আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণ করেনি। প্রায় সব ফ্ল্যাটের দাম কোটি টাকার কাছাকাছি। এই মূল্য অনেক বেশি। প্রয়োজনে ফ্ল্যাটের আয়তন কমিয়ে ৯০০ থেকে ১২০০ বর্গফুটের মধ্যে ফ্ল্যাট নির্মাণ করা প্রয়োজন। এতে দামও কমে যাবে। কম মূল্যে ফ্ল্যাট বিক্রি করলে মধ্যবিত্তরাও নগরে ফ্ল্যাট কিনতে পারবে। যাতে সামর্থ্যরে মধ্যে আমরা যারা মধ্যবিত্ত আছি, আমরাও ফ্ল্যাট কিনতে পারি।
গত বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া মেলার গতকাল ছিল তৃতীয় দিন। এদিন সকালে দর্শনার্থীর সংখ্যা নগণ্য হলেও বিকেলে বেড়েছে। স্টলে দায়িত্বরত বিভিন্ন আবাসন কোম্পানির প্রতিনিধিরা অ্যাপার্টমেন্টের নানা তথ্য দিয়ে গ্রাহকদের সহযোগিতা করছেন। মেলায় এবার ৫৫ প্রতিষ্ঠানের ৭৩টি স্টল অংশ নিয়েছে।
রিহ্যাবের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, রিহ্যাবের আবাসন মেলা জমে উঠেছে। মেলায় অংশ নেওয়া আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো মোটামুটি সাড়া পেয়েছে। আজ মেলার শেষ দিন।
মেলায় অংশ নেওয়া রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লিমিটেডের সিনিয়র জিএম (বিক্রয়) এস এম শফিউল্লাল বলেন, আবাসন শিল্পকে এগিয়ে নিতে রূপায়ণ গ্রুপ কাজ করছে। এর ফলে রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ সারা দেশে আধুনিক, নিরাপদ ও বাসযোগ্য অ্যাপার্টমেন্ট গড়ে তুলছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরের প্রাইম লোকেশনে রূপায়ণের তিনটি অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ শেষ হয়েছে। কাতালগঞ্জে নির্মিত অ্যাপার্টমেন্টের সব ফ্ল্যাট বিক্রি হয়ে গেছে। এসব শিগগিরই গ্রাহকদের বুঝিয়ে দেওয়া হবে। অন্য অ্যাপার্টমেন্ট দুটি চট্টেশ^রী ও হালিশহর পিসি রোডে। এই দুটি অ্যাপার্টমেন্টও আধুনিক ও মানসম্পন্নভাবে নির্মিত হয়েছে। চট্টগ্রামের প্রাইম লোকেশনে রূপায়ণ হাউজিং আরও অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ করবে।
তিনি আরও বলেন, রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট নিরাপদ ও সুনিশ্চিত ভবিষ্যতের জন্য টেকসই ও পরিবেশবান্ধব আবাসনব্যবস্থা গড়তে বর্তমানে ঢাকার উত্তরায় চারটি প্রকল্পের সমন্বয়ে নির্মাণ করছে ‘রূপায়ণ মেগাগেটেড কমিউনিটি’। ঢাকার উত্তরায় যেখান থেকে মেট্রোরেলের স্ট্যাডিং পয়েন্ট, সেখানেই এই বৃহৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রায় ১৫০ বিঘা জমির ওপর ৬৩ শতাংশ সবুজ ও খোলামেলা পরিবেশে এই মেগাগেটেড প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই আবাসন প্রকল্পে থাকছে আবাসিক ও বাণিজ্যিক চারটি ধাপে (রূপায়ণ গ্র্যান্ড, রূপায়ণ স্কাই ভিলা, রূপায়ণ ম্যাক্সাস ও রূপায়ণ ম্যাজেস্টিক) ৫০টির অধিক ১০তলা ভবন। ২৪ ঘণ্টা পানি, গ্যাস, বিদ্যুতের সুব্যবস্থা, খেলার মাঠ, শিশুদের জন্য ইনডোর গেমস জোন, এক্সক্লুসিভ ওয়েটিং লাউঞ্জ ও রিসেপশন, লাইফস্টাইল অ্যামিনিটিসহ কমিউনিটি ক্লাব, ডিপার্টমেন্টাল স্টোরস, সুপার মার্কেট, কনভেনশন হল, ব্যানকুয়েট হল, বারবিকিউ জোন। এ ছাড়া থাকবে ক্লাব, বিদ্যালয়, মসজিদ, কর্নার শপসহ সব সুযোগ-সুবিধা।
চট্টগ্রামের হালিশহর ও মেহেদীবাগে দুটি আবাসন ও বাণিজ্যিক প্রকল্পে ফ্ল্যাট ও দোকান বুকিংয়ে মেলা উপলক্ষে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামের হালিশহর পিসি রোডে অবস্থিত রূপায়ণ সেঞ্চুরী ল্যান্ডেড ও মেহেদীবাগ চট্টেশ্বরী রোডে রূপায়ণ আলিফ মীম টাওয়ারে ফ্ল্যাট বুকিংয়ের সুযোগ রয়েছে মেলায়। রূপায়ণ সেঞ্চুরী ল্যান্ডেডে রয়েছে ১০৭৫ থেকে ১৬০৫ বর্গফুটের ফ্ল্যাট। এ ছাড়া ৭৫ বর্গফুট থেকে ১৬৯৫ বর্গফুটের দোকান আর শো-রুম রয়েছে প্রকল্পটিতে। মেহেদীবাগের আলিফ মীম টাওয়ারে রয়েছে ১২৮০ থেকে ১৭৩৫ বর্গফুটের ফ্ল্যাট। আর দোকান ও শো-রুম রয়েছে ৭৫ থেকে ১৬৬০ বর্গফুট পর্যন্ত। রূপায়ণ হাউজিং এস্টেটের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক ওমর ফারুক আলম জানান, এ দুটি প্রকল্পে স্পট বুকিংয়ের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে। বুকিংয়ের ক্ষেত্রে সেঞ্চুরী ল্যান্ডেডে ফ্ল্যাটের দাম ৫০ শতাংশ ও আলিফ মীম টাওয়ারে ৩০ শতাংশ মূল্য পরিশোধ করলেই ১০ শতাংশ করে ছাড় দেওয়া হচ্ছে।
এবারের মেলায় অংশ নিয়েছে রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট, এয়ারবেল ডেভেলপমেন্ট টেকনোলজিস, বি প্রপার্টি ডট কম, আমিন মোহাম্মদ ল্যান্ড ডেভেলপমেন্টস, ইউএস বাংলা অ্যাসেটস, ইক্যুইটি প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট, এ এন জেড প্রপার্টিজ, এপিক প্রপার্টিজ, র্যাংগস এফসি প্রপার্টিজ, কনকর্ড রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, স্যানমার প্রপার্টিজ, সিপিডিএল, জুমাইরাহ হোল্ডিংস, সাফ হোল্ডিংস, ফিনলে প্রপার্টিজ, আইএফআইসি ব্যাংক, সাত্তার মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ, সুজন মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ, সেম ইউপিভিসি, পিটুপিসহ নানা প্রতিষ্ঠান।