সরকারবিরোধী প্রধান রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, স্বাধীনতার এতদিন পরও দেশে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সভা করতে হবে, এজন্য সরকারের কাছে দাবি করতে হবে, এটা অকল্পনীয়-কষ্টের বিষয়। গতকাল শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বিএনপি চেয়ারপারসন
খালেদা জিয়ার কারাবাসের দুই বছর পূর্তিতে তার মুক্তির দাবিতে ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে এ মন্তব্য করে জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, আর সভা নয়, ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নামতে হবে। সরকার পদত্যাগ না করলে টেনে নামাতে হবে।
কামাল হোসেন বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর হতে যাচ্ছে। এটা আমাদের জন্য লজ্জার ব্যাপার। সরকার জোর করে ক্ষমতা দখল করে দেশের মানুষকে বঞ্চিত করছে। মানুষকে বঞ্চিত করে স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপন এটা একটা প্রহসন। যারা এ প্রহসন করছে, সময় এসেছে তাদের সহজ ভাষায় বলার, সরে দাঁড়াও, সরে দাঁড়াও, সরে দাঁড়াও। তিনি বলেন, দেশের ইতিহাস থেকে আমরা দেখেছি, জনগণকে বঞ্চিত করে এখানে কেউ স্বৈরতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারেনি। আজকে যারা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের সেই ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে দেখা উচিত। বাঙালি জাতি কখনই স্বৈরতন্ত্রকে মেনে নেয়নি, নেবেও না। ড. কামাল হোসেন বলেন, সংবিধান অনুযায়ী দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ। মালিক হিসেবে দেশের জনগণকে যেন সম্মান জানানো হয়। মালিক হিসেবে দেশের জনগণ যেন ভূমিকা রাখতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। লাখ লাখ মানুষ জীবন দিয়ে জনগণের এ অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। দেশের জনগণকে বঞ্চিত করে সরকার দেশ চালাচ্ছে, এটা আমরা মেনে নিতে পারি না। তিনি বলেন, দেশের ১৬ কোটি মানুষের অধিকার হচ্ছে, দেশে গণতন্ত্র থাকবে। প্রকৃত অর্থে নির্বাচিত সদস্যরা দেশ পরিচালনা করবেন। সেখানে আজকে আমাদের গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে হচ্ছে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমাদের নিজের অধিকার আদায় করে নিতে হবে।
সমাবেশে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী আন্দোলনে জনগণকে সংগঠিত করতে কামাল হোসেনকে পদযাত্রা শুরু করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে খালেদা জিয়া মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আর কোনো নির্বাচনে অংশ না নিতে ঐক্যফ্রন্টকে প্রস্তাবও দেন তিনি। জাফরুল্লাহ বলেন, যতদিন পর্যন্ত না খালেদা জিয়াকে সরকার মুক্তি দেবে আর কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রয়োজন নেই।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, গণফোরাম নেতা অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মহসীন রশিদসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা। সভা পরিচালনা করেন ফ্রন্টের দপ্তরপ্রধান জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু।