সাতক্ষীরার দেবহাটায় পানের বরজ থেকে পান চুরির অভিযোগে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রকে পিঠমোড়া বেঁধে তিন ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরিয়ে নির্যাতন করেছে পানের বরজের মালিক ও কর্মচারীরা। গত শুক্রবার বিকালে নারিকেলি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত ওই স্কুলছাত্র মোস্তাফিজুর রহমানকে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। মোস্তাফিজুর দেবহাটার সখিপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে এবং স্থানীয় চাঁদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র।
মোস্তাফিজুরের স্বজনদের ভাষ্য, শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে খেলার সময় বাড়ির পাশের নারিকেলি গ্রামের সমর সরদারের পানের বরজ থেকে কয়েকটি পানপাতা ছিঁড়ে ফেলে মোস্তাফিজুর। এ সময় পান চুরির অভিযোগ তুলে তাকে গামছা দিয়ে পিঠমোড়া করে বেঁধে মারপিট করতে শুরু করে পান বরজের মালিক সমর সরদার ও তার লোকজন। মারপিট শেষে পিঠমোড়া করে বাঁধা অবস্থায় মোটরসাইকেলে চড়িয়ে প্রথমে ঈদগাহ বাজার ও পরে গাজীরহাট বাজার এবং সর্বশেষ সখীপুরে ঘুরিয়ে নির্যাতন শেষে সখীপুর মোড়ে সিরাজুলের চায়ের দোকানে আটকে রাখা হয় মোস্তাফিজুরকে। পরে স্বজনরা খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
শিশুটির বাবা শফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মোস্তাফিজুরকে পিঠমোড়া করে বেঁধে বেধড়ক মারপিটসহ নির্মম শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে রাত ৮টার দিকে অনেক খোঁজাখুঁজির পর সখীপুর মোড়ের সিরাজুলের চায়ের দোকান থেকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার ছেলেকে নির্যাতনের কারণ জানতে পান বরজের মালিক সমর সরদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে খুঁজে পাইনি। তার ব্যাবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।’
দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক বিপ্লব মণ্ডল জানান, শিশু মোস্তাফিজুরের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
শিশু মোস্তাফিজুরকে নির্যাতনের ব্যাপারে জানতে চাইলে দেবহাটা থানার ওসি বিপ্লব কুমার সাহা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে এখনো কেউ থানায় অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’