ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে ভোট কম পড়া নিয়ে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে তা আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মাধ্যমে ঘোচাতে চায় আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা দেশ রূপান্তরকে একথা জানিয়ে বলেন, চট্টগ্রাম সিটির ভোটে শুধু বিজয় নিশ্চিতই নয়, ভোটার উপস্থিতি কীভাবে বাড়ানো যায় সেই কৌশল নিয়েও কাজ করবে দল।
নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর সম্প্রতি জানিয়েছেন, আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি কমিশন সভার পর চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। এ নির্বাচনেও ঢাকার মতো ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট হবে। এর আগে গত ১ জানুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা জানান, চট্টগ্রাম সিটির ভোট হতে পারে মার্চ মাসে।
আওয়ামী লীগের তিনজন কেন্দ্রীয় নেতা দেশ রূপান্তরকে আরও বলেন, গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা সিটির নির্বাচনে ভোট কম নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার যে ঝড় উঠেছে তা চট্টগ্রাম সিটির ভোটের পরে আর থাকবে না। তাদের একজন বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটির ভোটের আগেই আমরা খুঁজে বের করব কেন ভোট দিতে জনগণ আগ্রহ হারাচ্ছে। বা কেন কেন্দ্রে ভোট দিতে যাচ্ছে না এসব কারণ চিহ্নিত করে বিজয় ঘরে তুলে আনা ও ভোট কম পড়ার সমালোচনা দুটোরই সমাধান দেওয়া হবে।’ তিনি জানান, ভোট কম পড়ার বিষয়ে আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ পর্যায়েও অস্বাভাবিক মনে করছে। অবশ্য মেয়রদের জয় সমালোচনার মুখে পড়তে পারে- এ ধারণা করে ভোট কম পড়ার কারণ অনুসন্ধান ভেতরে-ভেতরেই করছে ক্ষমতাসীন দলটি।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ইতালিতে চার দিনের সরকারি সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে গণভবনে উপস্থিত নেতাদের চট্টগ্রাম সিটি ভোটের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। কথা বলেছেন শূন্য হওয়া সংসদীয় আসনগুলোর উপনির্বাচন নিয়েও। তিনি বলেন, এ সময় কম ভোট পড়ার আলোচনাও উঠেছে। এটার কারণ খুঁজে বের করতে নেতাদের কাজ করতেও বলেছেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। সভাপতিমন্ডলীর ওই সদস্য শেখ হাসিনাকে উদ্ধৃত করে বলেন, ‘শুধু বিজয় ঘরে আনলেই হবে না, কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতিও বাড়াতে হবে।’
আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর আরেক সদস্য বলেন, ঢাকা-১০সহ সংসদীয় আসনের অন্যান্য উপনির্বাচনেও জয়ের পাশাপাশি ভোট বাড়ানো যায় কীভাবে- সেই লক্ষ্যে কাজ করবে আওয়ামী লীগ। তিনি বলেন, ঢাকার দুই সিটির নির্বাচন পর্যালোচনা করতে গিয়ে প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে আওয়ামী লীগের ভোটাররাও কেন্দ্রে যায়নি ভোট দিতে। অন্য নির্বাচনগুলোতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে সেদিকে বিশেষ নজর দেবে ক্ষমতাসীন দল।
আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, চট্টগ্রাম সিটি ও ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনও ইভিএমেই হবে। তবে ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ‘বিশেষ কৌশল’ গ্রহণ করবে দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ও মহানগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আব্দুচ ছালাম। তাদের দুজনের যেকোনো একজনই মনোনয়ন পাবেন- এমন ধারণা দিয়ে সম্পাদকমন্ডলীর ওই সদস্য বলেন, চট্টগ্রাম সিটিতেও আওয়ামী লীগ জিততে চায়। সুতরাং জেতার মতো প্রার্থী যেই হবেন তাকেই মনোনয়ন দেবে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ড।
আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর আরেক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ভোটারদের কেন্দ্রমুখী করার জন্য ভিন্ন কৌশল নেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রথমত বিজয় নিশ্চিত মনে করে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক বাহিনীর ঘরে বসে থাকা চলবে না। সেই সম্পর্কে কড়া নির্দেশনা যাবে। চট্টগ্রামের স্থানীয় নেতাদের আরও সক্রিয় করা হবে। ঢাকার সিটি ভোটে যেমন কর্মী বাহিনী কেন্দ্রের আশপাশে ছিল চট্টগ্রাম সিটি ভোটেও কর্মী বাহিনীকে সজাগ-সক্রিয় রাখা হবে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিরসনে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই তাদের ঢাকায় ডাকা হবে। একসঙ্গে কাজ করতে নির্দেশনা দেওয়া হবে। কারণ, নেতাদের দ্বন্দ্বের প্রভাব পড়তে পারে সিটির ভোটে।
ঢাকার সিটি ভোটে কর্মী বাহিনী কেন্দ্রের আশপাশে থাকার কৌশল বেশ কাজে দিয়েছে জানিয়ে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর ওই সদস্য বলেন, প্রচারে থাকবে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড, চট্টগ্রাম সিটির উন্নয়ন কর্মকান্ড। চট্টগ্রাম সিটির ভোট নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা ‘বেশ সিরিয়াস’ জানিয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রামেও বিজয়ই থাকবে মূল কথা।