চসিক নির্বাচন

হাইকমান্ডের নির্দেশনার অপেক্ষায় বিএনপি নেতারা

ঢাকার দুই সিটির পর এখন আলোচনায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ভোট। আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা এরই মধ্যে তোড়জোড় শুরু করেছেন। তবে বিএনপি নেতাদের মধ্যে এ বিষয়ে এখনো খুব একটা আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। তারা বলছেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন নির্বাচনে ‘তিক্ত অভিজ্ঞতার’ কারণে এ নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে তাদের অনীহা রয়েছে। এজন্য হাইকমান্ডের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।

সম্প্রতি ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর জানিয়েছেন, চসিক নির্বাচন ও আরও দুটি আসনের উপনির্বাচন নিয়ে ১৬ ফেব্রুয়ারি কমিশনের বৈঠক হবে। একই দিন এসব নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। চসিক নির্বাচনেও ঢাকার মতো ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ হবে। এর আগে চলতি বছর প্রথম দিন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা বলেছিলেন, চট্টগ্রাম সিটির ভোট হতে পারে মার্চ মাসে।

এদিকে নগরীজুড়েই এখন চলছে চসিক নির্বাচন নিয়ে আলোচনা। কোনো দল থেকে কে মনোনয়ন পাচ্ছেন এসব বিষয়ে জল্পনা-কল্পনা এখন পাড়ার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে অফিস-আদালত পর্যন্ত সর্বত্রই। অনেক দিন ধরেই চট্টগ্রাম সিটিতে বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে মহানগর বিএনপি সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করের নাম। সম্প্রতি বিএনপি নেতা আবু সুফিয়ান ও এরশাদ উল্লাহর নামও শোনা যাচ্ছে।

বিএনপির বিভিন্ন স্তরের একাধিক নেতা দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপকালে জানিয়েছেন, আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, নির্বাচনের আগে কমিশন থেকে নানা হুঙ্কার দেওয়া হলেও ভোটের দিন ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে ব্যবহার হয়েছে পুরো প্রশাসন। ফলে জনসমর্থন থাকার পরও ভোটকেন্দ্রে দাঁড়াতে পারেননি তারা। চসিক নির্বাচনে অংশ নিলে তাদের সমর্থকরা কেন্দ্রে দিতে যেতে পারবেন, এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। তারপরও তারা তাকিয়ে আছেন হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের দিকে।

এ বিষয়ে দলের সম্ভাব্য মেয়রপ্রার্থী ও মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে দল এখনো কিছু ভাবছে না। কারণ এ সরকারের অধীনে যেকোনো নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না তা বারবার প্রমাণিত হয়েছে। গত মাসে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনের উপনির্বাচন ও কয়েক দিন আগে হওয়া ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আমাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে। এ দুটি নির্বাচনে ইভিএমে ভোটগ্রহণের নামে ডিজিটাল কারচুপি হয়েছে। তাছাড়া পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে বিএনপির বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে চট্টগ্রামে আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নতুন করে বিভিন্ন হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া শুরু হয়েছে। এ ধরনের পরিবেশে আমরা আদৌ নির্বাচনে যাব কি না সেটা দলীয় হাইকমান্ড সিদ্ধান্ত নেবে।’ তার প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দল যদি নির্বাচনের যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ও আমাকে যদি মনোনয়ন দেয় তাহলে অবশ্যই দলীয় সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাব। আর যদি অন্য কাউকে মনোনয়ন দেয় তার জন্য কাজ করব। এখানে দলীয় সিদ্ধান্তই হচ্ছে মূল বিষয়।’

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘রাজনীতি যারা করেন তাদের একটা প্রত্যাশা থাকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার। আমার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে সবকিছু নির্ভর করবে দলীয় সিদ্ধান্তের ওপর। দল যা সিদ্ধান্ত দেবে, একজন মাঠের কর্মী হিসেবে অবশ্যই সে সিদ্ধান্তের পক্ষে কাজ করে যাব।’

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বর্তমান সরকার বারবার প্রমাণ করেছে তাদের অধীনে কোনো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। এ সরকারের অধীনে যেসব নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিয়েছে প্রত্যেকটিতে দেখা গেছে প্রশাসনকে তারা নির্লজ্জভাবে নিজেদের পক্ষে ব্যবহার করেছে। আবার বিভিন্ন স্থানে ইভিএমে ভোটগ্রহণের নামে ডিজিটাল কারচুপি করেছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগতভাবে আমি এ সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে না যাওয়ার পক্ষে। তবে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলের স্ট্যান্ডিং কমিটি।’

২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল চট্টগ্রাম সিটির সর্বশেষ নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সাবেক মেয়র এম মনজুর আলম। কিন্তু আওয়ামী লীগ প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দীনের বিরুদ্ধে সব ভোটকেন্দ্র দখলে নেওয়ার অভিযোগ এনে ওই দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন তিনি। ওই নির্বাচনে বিজয়ী আ জ ম নাছির উদ্দীনের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৫ আগস্ট। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হয়।